ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নির্বাচনে টাকা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক, প্রমাণ করতে পারলে তাকে মেডেল দেব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে জামায়াত আমির ৭  মাসে দেশ কেঁপেছে ৩০ বার: ঢাকার ৬ লাখ ভবনের ৪০ শতাংশ ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের ২১টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা  যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান আজ নাসির-তামিমার বিয়ে মামলার রায়, দোষ প্রমাণ হলে হতে পারে ৭ বছরের কারাদণ্ড রামিসার পাশের বাসা থেকে পাঁচ বছরের শিশু নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি খোঁজ জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, সাইরেন বাজছে কুয়েতেও বাংলাদেশে সাড়ে ৮ হাজার অবৈধ ভারতীয় নাগরিক, চাকরী করছেন বিভিন্ন সেক্টরে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর ঘাঁটিতে ইরানের হামলা বাঁচতে চাইলে মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার হুঁশিয়ারি আরাঘচির

অরুণাচল নিয়ে চীনকে সতর্ক করলো ভারত, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মোড়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • ৫৫৬ বার পড়া হয়েছে

জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই চীনকে কড়া বার্তা দিল ভারত। অরুণাচল প্রদেশের নতুন নামকরণ ও মানচিত্রে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লীর।

রতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে চীন অরুণাচল প্রদেশের নতুন নামকরণের জন্য তাদের নিরর্থক ও অযৌক্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বেইজিংকে এই ধরনের তৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আরও জানায়, “আমাদের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, আমরা চীনের এ ধরনের প্রচেষ্টাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। সৃজনশীল নামকরণ এই অনস্বীকার্য বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে পারবে না যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।”

চীন বহু বছর ধরেই অরুণাচলকে তিব্বতের দক্ষিণ অংশ বলে দাবি করে আসছে। ২০২৪ সালে চীন এক নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে যেখানে অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ নামে উল্লেখ করে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি, অরুণাচলের ৩০টি এলাকার চীনা নামও প্রকাশ করে বেইজিং। ভারত এই মানচিত্র ও দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। নদীটির উৎপত্তিস্থল মানস সরোবর হিমালয়ের তিব্বত অংশে অবস্থিত। এটি তিব্বতে ‘ইয়ারলাং সাংপো’, অরুণাচলে ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত এবং পরে আসাম ও বাংলাদেশ হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। সম্প্রতি চীন ব্রহ্মপুত্রের তিব্বত অংশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে, যা ভারতের পানিসম্পদ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজেপির অরুণাচল শাখার সভাপতি ও লোকসভার সদস্য তাপির গাও এই প্রকল্পকে ‘ওয়াটার বোম্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।

ভারত-চীন সম্পর্কে অরুণাচল ও ব্রহ্মপুত্র ইস্যু নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যার জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনে টাকা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক, প্রমাণ করতে পারলে তাকে মেডেল দেব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে জামায়াত আমির

অরুণাচল নিয়ে চীনকে সতর্ক করলো ভারত, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মোড়

আপডেট সময় ০২:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই চীনকে কড়া বার্তা দিল ভারত। অরুণাচল প্রদেশের নতুন নামকরণ ও মানচিত্রে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লীর।

রতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে চীন অরুণাচল প্রদেশের নতুন নামকরণের জন্য তাদের নিরর্থক ও অযৌক্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বেইজিংকে এই ধরনের তৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আরও জানায়, “আমাদের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, আমরা চীনের এ ধরনের প্রচেষ্টাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। সৃজনশীল নামকরণ এই অনস্বীকার্য বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে পারবে না যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।”

চীন বহু বছর ধরেই অরুণাচলকে তিব্বতের দক্ষিণ অংশ বলে দাবি করে আসছে। ২০২৪ সালে চীন এক নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে যেখানে অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ নামে উল্লেখ করে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি, অরুণাচলের ৩০টি এলাকার চীনা নামও প্রকাশ করে বেইজিং। ভারত এই মানচিত্র ও দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। নদীটির উৎপত্তিস্থল মানস সরোবর হিমালয়ের তিব্বত অংশে অবস্থিত। এটি তিব্বতে ‘ইয়ারলাং সাংপো’, অরুণাচলে ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত এবং পরে আসাম ও বাংলাদেশ হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। সম্প্রতি চীন ব্রহ্মপুত্রের তিব্বত অংশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে, যা ভারতের পানিসম্পদ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজেপির অরুণাচল শাখার সভাপতি ও লোকসভার সদস্য তাপির গাও এই প্রকল্পকে ‘ওয়াটার বোম্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।

ভারত-চীন সম্পর্কে অরুণাচল ও ব্রহ্মপুত্র ইস্যু নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যার জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।