ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার আহ্বান স্পিকারের যুবদল নেতা নয়নের ‘দাড়িওয়ালাদের আস্তানা’ স্লোগানের প্রতিবাদ জামায়াতের পাকিস্তানের ‘স্বৈরাচারীদের’ রুখে দেওয়ার আহ্বান ইমরান খানের ছেলের বাবার কষ্টের দিন শেষ করার স্বপ্ন, নিয়োগের আগেই থামল সোহানের পথ কেউ চাঁদা চাইলে থানায় সোপর্দ করবেন: ধর্মমন্ত্রী এবার মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টা, অফিসে হামলা-ভাঙচুর নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরাল ইরান একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জোরালো আহ্বান বর্তমান সরকার যুবকদের লুটতরাজের জন্য দলীয় ক্যাডার বানাচ্ছে: সাবেক শিবির সভাপতি

অরুণাচল নিয়ে চীনকে সতর্ক করলো ভারত, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মোড়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • ৬৪০ বার পড়া হয়েছে

জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই চীনকে কড়া বার্তা দিল ভারত। অরুণাচল প্রদেশের নতুন নামকরণ ও মানচিত্রে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লীর।

রতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে চীন অরুণাচল প্রদেশের নতুন নামকরণের জন্য তাদের নিরর্থক ও অযৌক্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বেইজিংকে এই ধরনের তৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আরও জানায়, “আমাদের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, আমরা চীনের এ ধরনের প্রচেষ্টাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। সৃজনশীল নামকরণ এই অনস্বীকার্য বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে পারবে না যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।”

চীন বহু বছর ধরেই অরুণাচলকে তিব্বতের দক্ষিণ অংশ বলে দাবি করে আসছে। ২০২৪ সালে চীন এক নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে যেখানে অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ নামে উল্লেখ করে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি, অরুণাচলের ৩০টি এলাকার চীনা নামও প্রকাশ করে বেইজিং। ভারত এই মানচিত্র ও দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। নদীটির উৎপত্তিস্থল মানস সরোবর হিমালয়ের তিব্বত অংশে অবস্থিত। এটি তিব্বতে ‘ইয়ারলাং সাংপো’, অরুণাচলে ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত এবং পরে আসাম ও বাংলাদেশ হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। সম্প্রতি চীন ব্রহ্মপুত্রের তিব্বত অংশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে, যা ভারতের পানিসম্পদ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজেপির অরুণাচল শাখার সভাপতি ও লোকসভার সদস্য তাপির গাও এই প্রকল্পকে ‘ওয়াটার বোম্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।

ভারত-চীন সম্পর্কে অরুণাচল ও ব্রহ্মপুত্র ইস্যু নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যার জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

অরুণাচল নিয়ে চীনকে সতর্ক করলো ভারত, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মোড়

আপডেট সময় ০২:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই চীনকে কড়া বার্তা দিল ভারত। অরুণাচল প্রদেশের নতুন নামকরণ ও মানচিত্রে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লীর।

রতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে চীন অরুণাচল প্রদেশের নতুন নামকরণের জন্য তাদের নিরর্থক ও অযৌক্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বেইজিংকে এই ধরনের তৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আরও জানায়, “আমাদের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, আমরা চীনের এ ধরনের প্রচেষ্টাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। সৃজনশীল নামকরণ এই অনস্বীকার্য বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে পারবে না যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।”

চীন বহু বছর ধরেই অরুণাচলকে তিব্বতের দক্ষিণ অংশ বলে দাবি করে আসছে। ২০২৪ সালে চীন এক নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে যেখানে অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ নামে উল্লেখ করে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি, অরুণাচলের ৩০টি এলাকার চীনা নামও প্রকাশ করে বেইজিং। ভারত এই মানচিত্র ও দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। নদীটির উৎপত্তিস্থল মানস সরোবর হিমালয়ের তিব্বত অংশে অবস্থিত। এটি তিব্বতে ‘ইয়ারলাং সাংপো’, অরুণাচলে ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত এবং পরে আসাম ও বাংলাদেশ হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। সম্প্রতি চীন ব্রহ্মপুত্রের তিব্বত অংশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে, যা ভারতের পানিসম্পদ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজেপির অরুণাচল শাখার সভাপতি ও লোকসভার সদস্য তাপির গাও এই প্রকল্পকে ‘ওয়াটার বোম্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।

ভারত-চীন সম্পর্কে অরুণাচল ও ব্রহ্মপুত্র ইস্যু নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যার জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।