ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস ও টেম্পুস্ট্যান্ডে প্রতি গাড়ি থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে ভাঙ্গা থানার পুলিশ। তাদের ‘এলাকার ছেলে’ পরিচয় দিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার এ সংক্রান্ত ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়।
পুলিশ চাঁদাবাজির অভিযোগে যে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছিল, তারা হলেন- ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী মহল্লার বাসিন্দা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর লিয়াকত মোল্লার ছেলে শোয়েব মোল্লা (২৯) এবং ভাঙ্গা পৌরসভার কাফুরিয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দা শাহী মুন্সীর ছেলে সোহান মুন্সী (২৮)।
তাদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও টেম্পুস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বাস ও বিভিন্ন তিন চাকার যানের (ত্রি হুইলার) কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। পরে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর লিয়াকত মোল্লা থানায় গিয়ে ওসি মিজানুর রহমানকে আটক ব্যক্তিদের ‘এলাকার লোক’ পরিচয় দিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।
‘বিএনপি করলে চাঁদাবাজি করেও মুক্তি মেলে’ শিরোনামে ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আজ বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৭টা ১ মিনিটে ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। ভিডিওটি ইংরেজি হরফে লেখা ‘শেখ আরাফাত’ নামের একটি আইডি থেকে পোস্ট করা হলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভাঙ্গা থানার সুসজ্জিত একটি কক্ষে ছয়জন ব্যক্তি পাশাপাশি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। যিনি ভিডিও করছেন, তিনিই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন কথা বলছেন। এই ছয়জনের মধ্যে বাম দিক থেকে দ্বিতীয় ব্যক্তি ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
বিষয়টি বিএনপি নেতা আইয়ুব মোল্লা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি মিজানুর রহমান বলছেন, আপনাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে যে, আপনারা এই এলাকায় বিভিন্ন খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এই তথ্য আর কি আমরা শুনব? এ সময় সোহান কথা বলেন।
এরপর ওসি সাবেক কাউন্সিলর ও শোয়েব মোল্লার বাবা লিয়াকত মোল্লাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বাবা হিসেবে আপনি বলেন, আপনি ছেলেকে নিতে আসছেন। আপনি বলেন, তারা যদি কিছু করে, এই দায়-দায়িত্ব আপনি নেবেন?’
এরপর ওসি ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লাকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আইয়ুব ভাই, আপনি ওদের সম্বন্ধে বলেন। আপনি কেন আসছেন? কী করতে চাচ্ছেন?’
উত্তরে আইয়ুব মোল্লা বলেন, ‘আমি আসছি, ওরা আমাদের এলাকার ছেলে। শুনলাম, ওদের থানায় ডেকে আনা হয়েছে। ওরা যদি ত্রুটি-বিচ্যুতি কিছু করে থাকে, তাদেরকেও আমরা সংশোধন করার চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে যদি এই অপরাধ করে, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে ব্যবস্থা নেবে, তাতে সহযোগিতা করব।’
ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা বলেন, চাঁদাবাজির যে অভিযোগ ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল, তা কথিত অভিযোগ।
তিনি বলেন, ‘ভাঙ্গা বাস ও টেম্পুস্ট্যান্ডে কাউন্টার খাওয়া-দাওয়া নিয়ে গ্যাঞ্জাম আছে। অন্য গ্রুপ এদের ধরিয়ে দিয়েছিল। আমরা পলিটিক্স করি। এরা আমাদের এলাকার ছেলে। একটি দলে, একটি পরিবারে ভালো-মন্দ সব ধরনের লোক থাকে। এজন্য আমি ওসি সাহেবকে বলেছি, আমরা ওদের সংশোধনের উদ্যোগ নেব। না পারলে আইনের হাতে তুলে দেব।’
জানতে চাইলে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’
তবে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকা থেকে ওই দুই ব্যক্তি বিভিন্ন যানবাহন থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা তোলেন—এমন অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। তাদের নামে কোনো বড় ধরনের অপরাধের অভিযোগ নেই। এজন্য বিএনপি নেতা ও তাদের অভিভাবকদের মুচলেকায় ওই দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত ভিডিওটি কীভাবে বাইরে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















