ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঘুমানোর আগে যে আমলে মিলবে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ার সওয়াব মাওলানা ভাসানীর ধানের শীষ চুরি হয়ে গেছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাস ও টেম্পুস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগ,থানায় গিয়ে আটক দুইজনকে ছাড়ালেন বিএনপি নেতা ফেঁসে যাচ্ছেন সময়টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমদে জোবায়ের চকরিয়ায় বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার সোনিয়া গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন শহীদ আফ্রিদি রণক্ষেত্রে পরিণত ফিলিপাইনের আইনসভা ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের বিক্ষোভ পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই: এ্যানি

ঘুমানোর আগে যে আমলে মিলবে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ার সওয়াব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

সুরা ইখলাস পবিত্র কোরআনের ১১২তম সুরা। এর আয়াত সংখ্যা চারটি। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এর ফজিলত অনেক। এটি কোরআনের তিন ভাগের এক ভাগ। আবু দারদা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কোরআনকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। এরপর ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’-কে করেছেন কোরআনের ভাগগুলোর একটি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১১)

 

আমাদের জন্য এক রাতে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়া কঠিন কাজ। কিন্তু ঘুমানোর আগে বা যে কোনো সময় সুরা ইখলাস পড়লে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের কেউ কি এক রাতে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তেলাওয়াত করা দুঃসাধ্য মনে করো?’ এ প্রশ্ন তাদের জন্য কঠিন ছিল। তারা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের মধ্যে কার সাধ্য আছে এমনটি করার?’ তিনি বললেন, ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরা ইখলাস) কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৭)

 

কত সহজ একটি আমল। ছোট্ট একটি সুরা। তেলাওয়াত করতে এক মিনিটও লাগে না। ছোট্ট এই সুরা কোরআনের তিন ভাগের এক ভাগ—কথাটি শুনে সাহাবিরা বিস্মিত হবেন; তা জানতেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। হাদিসে আছে, তিনি একবার বলেছেন, ‘তোমরা জমায়েত হও, আমি তোমাদের সামনে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করব। ফলে যাদের পক্ষে সম্ভব তারা জমায়েত হলো। এরপর রাসুল (সা.) বের হয়ে এলেন এবং তেলাওয়াত করে আবার ঘরে গেলেন।’ তখন আমাদের একজন অন্যজনকে বলতে লাগল, ‘মনে হয় আসমান থেকে (এখনই) কোনো সংবাদ এসেছে আর সেজন্যই তিনি ঘরে প্রবেশ করেছেন।’ পরে রাসুল (সা.) বের হয়ে এসে বললেন, আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, তোমাদের সামনে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করব। শোনো, সুরা ইখলাস কোরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১২)

 

সুরা ইখলাস অসামান্য মূল্যবান হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এই সুরায় আল্লাহর গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে জিহাদে পাঠালেন। তিনি নামাজের ইমামতিতে সুরা ইখলাস দিয়ে নামাজ শেষ করতেন। মুজাহিদরা সেই অভিযান থেকে ফিরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমতে বিষয়টি আলোচনা করলে তিনি বললেন, ‘তাকেই জিজ্ঞাসা করো কেন সে এই কাজ করেছে।’ এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিলেন, এ সুরায় আল্লাহ তাআলার গুণাবলি রয়েছে। আর তাই এ সুরা তেলাওয়াত আমার বড় পছন্দ।’ তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাআলাও তাকে পছন্দ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৬)

 

সাহাবিরা বেশি করে সুরা ইখলাস পাঠ করতেন। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পড়তে শুনলেন। সে বারবার তা মুখে উচ্চারণ করছিল। (তিনি মনে করলেন এভাবে বারবার পাঠ করা যথেষ্ট নয়) পর দিন সকালে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বিষয়টি খুলে বললেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন। এ সুরা হচ্ছে সমগ্র কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৬)

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুমানোর আগে যে আমলে মিলবে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ার সওয়াব

ঘুমানোর আগে যে আমলে মিলবে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ার সওয়াব

আপডেট সময় ০২:২২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

সুরা ইখলাস পবিত্র কোরআনের ১১২তম সুরা। এর আয়াত সংখ্যা চারটি। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এর ফজিলত অনেক। এটি কোরআনের তিন ভাগের এক ভাগ। আবু দারদা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কোরআনকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। এরপর ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’-কে করেছেন কোরআনের ভাগগুলোর একটি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১১)

 

আমাদের জন্য এক রাতে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়া কঠিন কাজ। কিন্তু ঘুমানোর আগে বা যে কোনো সময় সুরা ইখলাস পড়লে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের কেউ কি এক রাতে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তেলাওয়াত করা দুঃসাধ্য মনে করো?’ এ প্রশ্ন তাদের জন্য কঠিন ছিল। তারা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের মধ্যে কার সাধ্য আছে এমনটি করার?’ তিনি বললেন, ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরা ইখলাস) কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৭)

 

কত সহজ একটি আমল। ছোট্ট একটি সুরা। তেলাওয়াত করতে এক মিনিটও লাগে না। ছোট্ট এই সুরা কোরআনের তিন ভাগের এক ভাগ—কথাটি শুনে সাহাবিরা বিস্মিত হবেন; তা জানতেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। হাদিসে আছে, তিনি একবার বলেছেন, ‘তোমরা জমায়েত হও, আমি তোমাদের সামনে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করব। ফলে যাদের পক্ষে সম্ভব তারা জমায়েত হলো। এরপর রাসুল (সা.) বের হয়ে এলেন এবং তেলাওয়াত করে আবার ঘরে গেলেন।’ তখন আমাদের একজন অন্যজনকে বলতে লাগল, ‘মনে হয় আসমান থেকে (এখনই) কোনো সংবাদ এসেছে আর সেজন্যই তিনি ঘরে প্রবেশ করেছেন।’ পরে রাসুল (সা.) বের হয়ে এসে বললেন, আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, তোমাদের সামনে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করব। শোনো, সুরা ইখলাস কোরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১২)

 

সুরা ইখলাস অসামান্য মূল্যবান হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এই সুরায় আল্লাহর গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে জিহাদে পাঠালেন। তিনি নামাজের ইমামতিতে সুরা ইখলাস দিয়ে নামাজ শেষ করতেন। মুজাহিদরা সেই অভিযান থেকে ফিরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমতে বিষয়টি আলোচনা করলে তিনি বললেন, ‘তাকেই জিজ্ঞাসা করো কেন সে এই কাজ করেছে।’ এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিলেন, এ সুরায় আল্লাহ তাআলার গুণাবলি রয়েছে। আর তাই এ সুরা তেলাওয়াত আমার বড় পছন্দ।’ তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাআলাও তাকে পছন্দ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৬)

 

সাহাবিরা বেশি করে সুরা ইখলাস পাঠ করতেন। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পড়তে শুনলেন। সে বারবার তা মুখে উচ্চারণ করছিল। (তিনি মনে করলেন এভাবে বারবার পাঠ করা যথেষ্ট নয়) পর দিন সকালে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বিষয়টি খুলে বললেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন। এ সুরা হচ্ছে সমগ্র কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৬)