ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সরাসরি সংঘাত হতে পারে: ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি শি জিনপিংয়ের লাশ হয়ে ফিরলেন মেজরসহ ৫ পাকিস্তানি সেনা বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ’র রাষ্ট্রদূত মিলারের বৈঠক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় মানুষের ঢল, জয় বাংলা স্লোগানে বিদায় ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ‘থার্ড টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়বে দেড় থেকে দ্বিগুণ’ স্থায়ী জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চীনের সহায়তায় বন্ধ কারাখানা চালু করতে চায় সরকার: শিল্পমন্ত্রী সংসদ ভবনে ডা. শফিকুর রহমান-ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ভারতে ভয়াবহ ঝড়ে প্রাণ গেল ৩৩ জনের

বকশিশের টাকা না পেয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিলেন কর্মচারী, ২ মিনিটে প্রান গেল রোগীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

এবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে বকশিশের টাকাকে কেন্দ্র করে এক মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে। মাস্ক খুলে নেওয়ার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় দিপালী সিকদার (৪০) নামের ওই রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১৩ মে) বিকালে হাসপাতাল চত্বরে মৃত রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল স্টাফদের মধ্যে হাতাহাতি সংঘর্ষ হয়। পরে আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দিপালী সিকদার বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর শিকদারের স্ত্রী।

স্বজনরা জানান, তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে তাকে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয় দিপালীকে। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসক তাকে দ্রুত করোনা বিল্ডিংয়ের মেডিসিন ইউনিটে স্থানান্তর করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে টানা দুই ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু শয্যা সংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের অব্যবস্থাপনার কারণে তাকে একটি ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল।

নিহতের ভাই মিলন হাওলাদারের অভিযোগ, দিপালী যখন অক্সিজেনের সহায়তায় বাঁচার লড়াই করছিলেন, ঠিক তখনই মেডিসিন ইউনিট-১ এর কর্মচারী সোহেল সেখানে উপস্থিত হন। মিলন জানান, পার্শ্ববর্তী অন্য এক রোগীর স্বজনরা ট্রলিটি নেওয়ার জন্য সোহেলকে ২০০ টাকা দেয়। টাকার লোভে অন্ধ হয়ে সোহেল আমার বোনের ছটফটানি উপেক্ষা করেই অক্সিজেনের লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আমরা হাত-পা ধরলেও তিনি শোনেনি। অক্সিজেন খোলার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় আমার বোনের মৃত্যু হয়। এটা মৃত্যু নয়, এটা খুন।

দিপালীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে কলার চেপে ধরেন এবং টেনে-হিঁচড়ে বিচারের দাবি জানান। একপর্যায়ে সোহেলকে গণধোলাই দেওয়া শুরু হলে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফরা কর্মচারীর পক্ষ নিয়ে স্বজনদের ওপর চড়াও হয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা। আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন জানান, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা সোহেল নামের ওই কর্মচারীকে মারধর করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আমরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করি এবং তাকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি শান্ত করি। তবে ওই রোগী আগে থেকেই গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

সংঘর্ষের পর পরই অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন। হাসপাতাল প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করলেও অভিযুক্তের বিষয়ে এখনো কোনো দাপ্তরিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নিহত দিপালীর পরিবার এই ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবি, সোহেলকে অবিলম্বে স্থায়ী বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সরাসরি সংঘাত হতে পারে: ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি শি জিনপিংয়ের

বকশিশের টাকা না পেয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিলেন কর্মচারী, ২ মিনিটে প্রান গেল রোগীর

আপডেট সময় ১১:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

এবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে বকশিশের টাকাকে কেন্দ্র করে এক মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে। মাস্ক খুলে নেওয়ার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় দিপালী সিকদার (৪০) নামের ওই রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১৩ মে) বিকালে হাসপাতাল চত্বরে মৃত রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল স্টাফদের মধ্যে হাতাহাতি সংঘর্ষ হয়। পরে আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দিপালী সিকদার বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর শিকদারের স্ত্রী।

স্বজনরা জানান, তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে তাকে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয় দিপালীকে। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসক তাকে দ্রুত করোনা বিল্ডিংয়ের মেডিসিন ইউনিটে স্থানান্তর করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে টানা দুই ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু শয্যা সংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের অব্যবস্থাপনার কারণে তাকে একটি ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল।

নিহতের ভাই মিলন হাওলাদারের অভিযোগ, দিপালী যখন অক্সিজেনের সহায়তায় বাঁচার লড়াই করছিলেন, ঠিক তখনই মেডিসিন ইউনিট-১ এর কর্মচারী সোহেল সেখানে উপস্থিত হন। মিলন জানান, পার্শ্ববর্তী অন্য এক রোগীর স্বজনরা ট্রলিটি নেওয়ার জন্য সোহেলকে ২০০ টাকা দেয়। টাকার লোভে অন্ধ হয়ে সোহেল আমার বোনের ছটফটানি উপেক্ষা করেই অক্সিজেনের লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আমরা হাত-পা ধরলেও তিনি শোনেনি। অক্সিজেন খোলার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় আমার বোনের মৃত্যু হয়। এটা মৃত্যু নয়, এটা খুন।

দিপালীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে কলার চেপে ধরেন এবং টেনে-হিঁচড়ে বিচারের দাবি জানান। একপর্যায়ে সোহেলকে গণধোলাই দেওয়া শুরু হলে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফরা কর্মচারীর পক্ষ নিয়ে স্বজনদের ওপর চড়াও হয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা। আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন জানান, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা সোহেল নামের ওই কর্মচারীকে মারধর করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আমরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করি এবং তাকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি শান্ত করি। তবে ওই রোগী আগে থেকেই গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

সংঘর্ষের পর পরই অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন। হাসপাতাল প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করলেও অভিযুক্তের বিষয়ে এখনো কোনো দাপ্তরিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নিহত দিপালীর পরিবার এই ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবি, সোহেলকে অবিলম্বে স্থায়ী বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।