সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীর বৈবাহিক জীবন, মাতৃত্ব ও মানসিক চাপ নিয়ে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর উম্মে কুলসুম পপি।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, বিয়ে টিকিয়ে রাখা, একটি পরিবারকে আগলে রাখা, সন্তানের জন্ম দেওয়া, তার যত্ন নেওয়া, মানসিকভাবে সুস্থ একটি পরিবেশ তৈরি করা এসব কখনোই শুধু একজন নারীর একার দায়িত্ব হওয়া উচিত নয়।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, তবুও আমাদের সমাজে দিনের শেষে সবচেয়ে বেশি মানিয়ে নিতে হয় সেই মেয়েটিকেই। একটা মেয়ে বিয়ের পর শুধু নতুন একটা বাড়িতে যায় না, সে নিজের পরিচিত পৃথিবী ছেড়ে একদম নতুন বাস্তবতায় পা রাখে। নতুন মানুষ, নতুন সম্পর্ক, নতুন দায়িত্ব…।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, সবাইকে আপন করে নিতে নিতে সে ধীরে ধীরে নিজেকেই বদলে ফেলে। নিজের ক্লান্তি লুকিয়ে হাসে, নিজের কষ্ট চাপা দিয়ে সংসার সামলায়, সবার ভালো থাকার মাঝে নিজের ভালো থাকাটা ভুলে যায়। তারপর আসে মাতৃত্ব❤️।
‘একটি নতুন প্রাণকে পৃথিবীতে আনার জন্য একজন নারী যে অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণা, মানসিক চাপ, ভয়, অনিদ্রা আর ত্যাগের ভেতর দিয়ে যায়, সেই যুদ্ধটা বাইরে থেকে কখনো পুরোপুরি বোঝা যায় না।’
‘একজন মা শুধু সন্তান জন্ম দেন না, তিনি নিজের শরীর, অনুভূতি, স্বপ্ন আর জীবনের একটা বড় অংশ নিঃস্বার্থভাবে উৎসর্গ করেন। আর ঠিক তখনই, কিছু মানুষ “ভদ্র”, “দায়িত্ববান” কিংবা “পারফেক্ট স্বামী”র মুখোশ পরে সম্পর্কের আড়ালে প্রতারণা আর পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।’
‘যে নারীটা দিনশেষে একটু ভালোবাসা, সম্মান আর নিশ্চিন্ততা খোঁজে, তার বিশ্বাসটাই ভেঙে দেওয়া হয় সবচেয়ে নির্মমভাবে। পরকীয়া শুধু একটি ভুল নয়। এটা একজন মানুষের আত্মসম্মান, মানসিক শান্তি আর ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়। একজন নারীর ত্যাগকে দুর্বলতা ভেবে নয়, তার অনুভূতিকে সম্মান করতে শিখুক সমাজ। কারণ বিশ্বস্ততা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটা ভালোবাসার সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব। সব পুরুষ মানুষ সমান নয় কিন্তু তারপরও বর্তমান সময়ে চারপাশে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলো খুবই ব্যথিত করে আসলে।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















