আধুনিক শহর আর প্রযুক্তির উন্নয়ন জীবনকে অনেক সহজ করেছে। কিন্তু এর বিপরীতে মানুষ যেন দিন দিন একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। চারপাশে হাজারো মানুষের ভিড় থাকলেও শহুরে জীবনে অনেকেই এখন ভুগছেন তীব্র একাকিত্বে।
আর এই একাকিত্ব শুধু মন খারাপ বা বিষণ্ণতার কারণ নয়, দীর্ঘদিনের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা হৃদ্যন্ত্রের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শহরের ছোট পরিবার, ব্যস্ত কর্মজীবন, দীর্ঘ যানজট আর মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ কমে যাচ্ছে। অনলাইনে অসংখ্য পরিচিত থাকলেও মনের কথা বলা কিংবা বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষের অভাব তৈরি হচ্ছে।
দীর্ঘদিন একাকিত্বে থাকলে শরীর এটিকে এক ধরনের চাপ বা হুমকি হিসেবে নেয়। এতে স্ট্রেস-সংশ্লিষ্ট হরমোনের মাত্রা বাড়তে পারে, যা রক্তচাপ বৃদ্ধি, রক্তনালির ওপর চাপ এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্বের সঙ্গে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
একাকিত্বের কারণে অনেকের মধ্যে বিষণ্ণতা তৈরি হয়। তখন অনিয়মিত খাবার, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা কিংবা ধূমপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস তৈরি হতে পারে। এসব কারণও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে।
তাই একাকিত্বকে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। এর থেকে বেরিয়ে আসতে মোবাইল স্ক্রিনের বাইরে এসে পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।
একই সঙ্গে শহরে মানুষের হাঁটাচলা, বিনোদন ও পারস্পরিক মেলামেশার জন্য পর্যাপ্ত পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান তৈরিও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ সুস্থ থাকার জন্য শুধু শরীরের যত্ন নয়, সুস্থ সামাজিক জীবন ও মানসিক সংযোগও সমান জরুরি।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























