ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিল না করলে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ-বিক্ষোভ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা যেকোনো দলের বৈধ প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: মীর শাহে আলম গত ১৭ বছরে মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল শুধু একজন ও একটি দলের: রিজভী ‘দেরি হওয়ার আগেই দেশে ফিরে যান’, মার্কিন সেনাদের ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি ভারতের মাটিতে নামলো রাশিয়ার ৩ সামরিক যুদ্ধবিমান বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অশালীন বক্তব্য, আদমজী কলেজ থেকে বহিষ্কার হতে পারে সেই সিফাত ফিলিস্তিনের প্রতি পুনর্সমর্থন ব্যক্ত করলো পাকিস্তান-তুরস্ক কক্সবাজারের ইনানী বনে দেখা মিলল বিরল মেঘলা চিতার, মিলেছে আরও ২১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী

দেশের যে ৮ টুথপেস্টে পাওয়া যায়নি মাইক্রোপ্লাস্টিক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫২ বার পড়া হয়েছে

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া প্রচলিত টুথপেস্টের বড় একটি অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তবে পরীক্ষিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে আটটিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এক বছরের গবেষণায় স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে এসব নমুনার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৬টি নমুনা বা ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে।

গবেষণায় যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি, সেগুলো হলো

জেনফ্রেশ

প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)

বিজ্ঞাপন

ক্লোজআপ রেডহট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি

প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার

সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল

কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ

কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট

কোডোমো অরেঞ্জ

গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলএ। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে এবং কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি কণা পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। ভিয়েতনামের দুটি নমুনার দুটিতেই, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

শিশুদের জন্য বাজারজাত ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) ও কোডোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি। ইএসডিও জানিয়েছে, পরীক্ষিত কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ব্যবহৃত সিনথেটিক পলিমারের তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে ভোক্তারা সচেতনভাবে পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাজার তদারকিও কঠিন হয়ে পড়ছে।

দেশব্যাপী ২ হাজার ৭৬০ জনের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়টি আগে কখনো শোনেননি। ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ শুনলেও বিস্তারিত জানেন না। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে সচেতন বলে জানিয়েছেন। ইএসডিওর দাবি, বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। বর্তমানে দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো জাতীয় মানদণ্ড, অনুমোদিত সীমা, পরীক্ষাপদ্ধতি বা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি নেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

দেশের যে ৮ টুথপেস্টে পাওয়া যায়নি মাইক্রোপ্লাস্টিক

আপডেট সময় ১১:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া প্রচলিত টুথপেস্টের বড় একটি অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তবে পরীক্ষিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে আটটিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এক বছরের গবেষণায় স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে এসব নমুনার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৬টি নমুনা বা ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে।

গবেষণায় যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি, সেগুলো হলো

জেনফ্রেশ

প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)

বিজ্ঞাপন

ক্লোজআপ রেডহট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি

প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার

সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল

কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ

কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট

কোডোমো অরেঞ্জ

গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলএ। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে এবং কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি কণা পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। ভিয়েতনামের দুটি নমুনার দুটিতেই, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

শিশুদের জন্য বাজারজাত ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) ও কোডোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি। ইএসডিও জানিয়েছে, পরীক্ষিত কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ব্যবহৃত সিনথেটিক পলিমারের তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে ভোক্তারা সচেতনভাবে পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাজার তদারকিও কঠিন হয়ে পড়ছে।

দেশব্যাপী ২ হাজার ৭৬০ জনের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়টি আগে কখনো শোনেননি। ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ শুনলেও বিস্তারিত জানেন না। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে সচেতন বলে জানিয়েছেন। ইএসডিওর দাবি, বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। বর্তমানে দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো জাতীয় মানদণ্ড, অনুমোদিত সীমা, পরীক্ষাপদ্ধতি বা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি নেই।