ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নাহিদ-আসিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ছাত্রদল সম্পাদক বিরল খনিজের খোঁজে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা মেজাজ হারিয়ে মিরাজকে স্টার্ক বললেন— ‘তুমি কিন্তু বাংলাদেশে নেই’ পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে শ্বশুরও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, প্রাণ গেল দুজনেরই ৭ সহকারী পুলিশ সুপারকে বাধ্যতামূলক অবসর ইতালিতে নিহত একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশীর মরদেহ দেশে ফিরেছে যান্ত্রিক ত্রুটিতে ফের বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট নেত্রকোণায় কবরস্থানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০ নেত্রকোণায় কবরস্থানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০ চট্টগ্রামে জামায়াত নেতার মাদ্রাসায় মিলল সরকারি ধানের বীজ

‘গুমের পর জিজ্ঞাসাবাদে আমাকে ঝুলিয়ে পেটানোর পর কানে ইলেকট্রিক শক দেয় র‍্যাব’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

২০১৬ সালে গুমের শিকার চিকিৎসক আশিক-উল-আকবরকে ৬০ দিন গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার পর যেদিন গ্রেপ্তার দেখিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আনা হয়, সেদিনই প্রথম দিনের আলো দেখেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তৎকালীন নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন এই চিকিৎসক।

রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজের তৎকালীন শিক্ষার্থী আশিক-উল-আকবর র‍্যাব পরিচালিত ‘টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন’ বা টিএফআই সেলে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে ডা. আশিক বলেন, ২০১৬ সালে গাজীপুরের টঙ্গীতে মামার বাড়ি থেকে ১০-১২ জন সাদা পোশাকধারী তাকে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ৬০ দিন তাকে একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়।

তিনি জানান, দিনে মাত্র দুইবার তিন মিনিট করে টয়লেটে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো। নির্ধারিত সময়ের বেশি হলে করা হতো মারধর। জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মিথ্যা স্বীকারোক্তি না দেওয়ায় তাকে ঝুলিয়ে নির্যাতন এবং কানের লতিতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আশিক বলেন, নির্যাতনের মুখে শেষ পর্যন্ত তাদের দেওয়া বক্তব্য সাদা কাগজে লিখে সই করতে বাধ্য হন তিনি। দীর্ঘ সময় শক্ত করে চোখ বাঁধা থাকায় তার ডান চোখের রেটিনা ছিঁড়ে যায়। পরে ওই চোখে অস্ত্রোপচার করাতে হয়।

৬০ দিন গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার পর তাকে র‍্যাব-১-এর মিডিয়া সেন্টারে নেওয়া হয় বলে জানান আশিক। সেখানে আগে থেকেই টেবিলের ওপর অস্ত্র, নাট-বল্টু ও কিছু বই সাজিয়ে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় সংবাদপত্রে নিজের সেই ছবি দেখতে পান বলেও জানান।

আশিক আরও জানান, তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন। ২০১৬ সালের ২১ জুলাই টঙ্গী থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় তাকে ১৩ মাস কারাগারে রাখা হয়।

প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, গুম ও নির্যাতনের এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, র‍্যাবের সাবেক তিন মহাপরিচালক এবং সংস্থাটিতে কর্মরত সাবেক ১১ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে র‍্যাবের টিএফআই সেলে অন্তত ১৪ জনকে আটক রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মামলার সাক্ষ্যে ডা. আশিক-উল-আকবর তার নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নাহিদ-আসিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ছাত্রদল সম্পাদক

‘গুমের পর জিজ্ঞাসাবাদে আমাকে ঝুলিয়ে পেটানোর পর কানে ইলেকট্রিক শক দেয় র‍্যাব’

আপডেট সময় ০৪:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

২০১৬ সালে গুমের শিকার চিকিৎসক আশিক-উল-আকবরকে ৬০ দিন গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার পর যেদিন গ্রেপ্তার দেখিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আনা হয়, সেদিনই প্রথম দিনের আলো দেখেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তৎকালীন নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন এই চিকিৎসক।

রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজের তৎকালীন শিক্ষার্থী আশিক-উল-আকবর র‍্যাব পরিচালিত ‘টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন’ বা টিএফআই সেলে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে ডা. আশিক বলেন, ২০১৬ সালে গাজীপুরের টঙ্গীতে মামার বাড়ি থেকে ১০-১২ জন সাদা পোশাকধারী তাকে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ৬০ দিন তাকে একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়।

তিনি জানান, দিনে মাত্র দুইবার তিন মিনিট করে টয়লেটে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো। নির্ধারিত সময়ের বেশি হলে করা হতো মারধর। জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মিথ্যা স্বীকারোক্তি না দেওয়ায় তাকে ঝুলিয়ে নির্যাতন এবং কানের লতিতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আশিক বলেন, নির্যাতনের মুখে শেষ পর্যন্ত তাদের দেওয়া বক্তব্য সাদা কাগজে লিখে সই করতে বাধ্য হন তিনি। দীর্ঘ সময় শক্ত করে চোখ বাঁধা থাকায় তার ডান চোখের রেটিনা ছিঁড়ে যায়। পরে ওই চোখে অস্ত্রোপচার করাতে হয়।

৬০ দিন গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার পর তাকে র‍্যাব-১-এর মিডিয়া সেন্টারে নেওয়া হয় বলে জানান আশিক। সেখানে আগে থেকেই টেবিলের ওপর অস্ত্র, নাট-বল্টু ও কিছু বই সাজিয়ে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় সংবাদপত্রে নিজের সেই ছবি দেখতে পান বলেও জানান।

আশিক আরও জানান, তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন। ২০১৬ সালের ২১ জুলাই টঙ্গী থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় তাকে ১৩ মাস কারাগারে রাখা হয়।

প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, গুম ও নির্যাতনের এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, র‍্যাবের সাবেক তিন মহাপরিচালক এবং সংস্থাটিতে কর্মরত সাবেক ১১ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে র‍্যাবের টিএফআই সেলে অন্তত ১৪ জনকে আটক রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মামলার সাক্ষ্যে ডা. আশিক-উল-আকবর তার নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।