ঢাকা , সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নির্বাচনে সুযোগ পেলে বাকি জীবন দিয়ে মানুষের ঋণ পরিশোধ করব: নাহিদ ইসলাম রাজনীতিতে সওয়ার হওয়া দুই ভূতকে বিতাড়িত করার আহ্বান মামুনুল হকের তারেক রহমানকে অমানবিক নির্যাতন করেছিল ডিজিএফআই: সাবেক সেনাপ্রধান এলাকার সন্তান হিসেবে সবার কাছে ধানের শীষে ভোট চাই: তারেক রহমান জামায়াতের নিবন্ধন ও আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চাইলেন নারী নেত্রীরা: সিইসিকে স্মারকলিপি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে আল্লাহ আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন: মির্জা আব্বাস আমি পার্ট টাইম শিক্ষিকা, ফুল টাইম রাজনীতিবিদ: ট্রলের জবাবে ঢাবি শিক্ষিকা  নিউ ইয়র্কবাসীকে মহানবীর হিজরতের গল্প শোনালেন মেয়র মামদানি মুফতি আমির হামজা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব: নাহিদ ইসলাম

চীনের নতুন উসকানি: অরুণাচলের ২৭টি স্থানের নাম পরিবর্তন, ভারতের কড়া প্রতিবাদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:১০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
  • ৫৫২ বার পড়া হয়েছে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করলো চীন। অরুণাচল প্রদেশের অন্তত ২৭টি স্থানের নাম একতরফাভাবে পরিবর্তন করে পঞ্চমবারের মতো নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে বেইজিং। ভারতের পক্ষ থেকে চীনের এই পদক্ষেপকে “নিরর্থক ও অযৌক্তিক” আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

হিমালয়ের কোল ঘেঁষা অরুণাচল প্রদেশকে বরাবরই নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে চীন। সেই দাবিকেই আরও জোরদার করতে এবার ১৫টি পাহাড়, ৪টি গিরিপথ, ২টি নদী, ১টি রথ এবং ৫টি জনবসতির নাম পরিবর্তন করেছে তারা।

ভারত-চীন সীমান্ত দীর্ঘ প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার, যার বেশিরভাগই এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। ২০২3 সালের অক্টোবরে লাদাখ সেক্টরে দীর্ঘদিনের সামরিক অচলাবস্থা নিরসনে দুই দেশ এক প্রকার সমঝোতায় পৌঁছালেও, চীনের এই নতুন পদক্ষেপ সেই শান্তি উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণদীপ জসোয়াল সামাজিক মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, এবং এই ধরনের নাম পরিবর্তনের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচবার অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে তালিকা প্রকাশ করেছে চীন—২০১৭ সালে ৬টি, ২০২১ সালে ১৫টি, ২০২৩ সালে ১১টি, ২০২৪ সালে ৩০টি এবং এবার ২০২৫ সালে আরও ২৭টি।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিয়ে এই একতরফা তৎপরতা দুই দেশের মধ্যে আবারও সংঘাতের সম্ভাবনা উসকে দিচ্ছে। কূটনৈতিক স্তরে উত্তেজনা এরইমধ্যে তীব্র হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনে সুযোগ পেলে বাকি জীবন দিয়ে মানুষের ঋণ পরিশোধ করব: নাহিদ ইসলাম

চীনের নতুন উসকানি: অরুণাচলের ২৭টি স্থানের নাম পরিবর্তন, ভারতের কড়া প্রতিবাদ

আপডেট সময় ০৭:১০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করলো চীন। অরুণাচল প্রদেশের অন্তত ২৭টি স্থানের নাম একতরফাভাবে পরিবর্তন করে পঞ্চমবারের মতো নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে বেইজিং। ভারতের পক্ষ থেকে চীনের এই পদক্ষেপকে “নিরর্থক ও অযৌক্তিক” আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

হিমালয়ের কোল ঘেঁষা অরুণাচল প্রদেশকে বরাবরই নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে চীন। সেই দাবিকেই আরও জোরদার করতে এবার ১৫টি পাহাড়, ৪টি গিরিপথ, ২টি নদী, ১টি রথ এবং ৫টি জনবসতির নাম পরিবর্তন করেছে তারা।

ভারত-চীন সীমান্ত দীর্ঘ প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার, যার বেশিরভাগই এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। ২০২3 সালের অক্টোবরে লাদাখ সেক্টরে দীর্ঘদিনের সামরিক অচলাবস্থা নিরসনে দুই দেশ এক প্রকার সমঝোতায় পৌঁছালেও, চীনের এই নতুন পদক্ষেপ সেই শান্তি উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণদীপ জসোয়াল সামাজিক মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, এবং এই ধরনের নাম পরিবর্তনের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচবার অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে তালিকা প্রকাশ করেছে চীন—২০১৭ সালে ৬টি, ২০২১ সালে ১৫টি, ২০২৩ সালে ১১টি, ২০২৪ সালে ৩০টি এবং এবার ২০২৫ সালে আরও ২৭টি।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিয়ে এই একতরফা তৎপরতা দুই দেশের মধ্যে আবারও সংঘাতের সম্ভাবনা উসকে দিচ্ছে। কূটনৈতিক স্তরে উত্তেজনা এরইমধ্যে তীব্র হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।