ঢাকা , সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

‘ইজ্জত রক্ষায় আবারও পাকিস্তানে হামলার অজুহাত খুঁজছে ভারত’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
  • ৭২৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের পাকিস্তানে হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

বুধবার (১৪ মে) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা। নরেন্দ্র মোদি তার রাজনৈতিক মূলধন হারিয়েছেন। চাপ ও জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণে তিনি হঠাৎ করে উন্মাদ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যদি মোদী হতাশা থেকে কোনো বেপরোয়া পদক্ষেপ নেন, সেক্ষেত্রে পাকিস্তান তার দৃঢ় জবাব দেবে এবং শুধু তা ই নয়—বৈশ্বিক চাপও সহ্য করতে হবে ভারতকে।

খাজা আসিফ বলেন, এখানে আর একটি কথা আমি বলব—যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তানের ওপর কোনো বৈশ্বিক চাপ কাজ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য মিত্ররাষ্ট্র এই প্রস্তাব দিয়েছে, সমর্থন করেছে এবং এ কারণেই আমরা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছি। এখন ভারতের মিত্রদের উচিত হবে, মোদিকে যে কোনো প্রকার বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখা।

গত ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় হামলা চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে হত্যা করে একদল সন্ত্রাসী। নিহত এই পর্যটকদের সবাই পুরুষ এবং অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বার একটি শাখা এই টিআরএফ।

অতর্কিত এই হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে সিন্ধু নদের পানি বণ্টনচুক্তি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিলসহ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কয়েকটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় ভারত। জবাবে ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ, ভিসা বাতিলসহ কয়েকটি পাল্টা পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তানও।

দুই দেশের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীরসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে এক সংক্ষিপ্ত সেনা অভিযান পরিচালনা করে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী। নয়াদিল্লির তথ্য অনুযায়ী, এ অভিযানে ৭০ জন পাকিস্তানি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের দাবি, নিহত হয়েছে ৩১ জন এবং আহত হয়েছে ৫৭ জন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রান্না না করে নাচের ক্লাসে যাওয়া নিয়ে ঝগড়া, স্ত্রীকে পিটিয়ে মারলেন স্বামী

‘ইজ্জত রক্ষায় আবারও পাকিস্তানে হামলার অজুহাত খুঁজছে ভারত’

আপডেট সময় ১২:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের পাকিস্তানে হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

বুধবার (১৪ মে) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা। নরেন্দ্র মোদি তার রাজনৈতিক মূলধন হারিয়েছেন। চাপ ও জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণে তিনি হঠাৎ করে উন্মাদ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যদি মোদী হতাশা থেকে কোনো বেপরোয়া পদক্ষেপ নেন, সেক্ষেত্রে পাকিস্তান তার দৃঢ় জবাব দেবে এবং শুধু তা ই নয়—বৈশ্বিক চাপও সহ্য করতে হবে ভারতকে।

খাজা আসিফ বলেন, এখানে আর একটি কথা আমি বলব—যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তানের ওপর কোনো বৈশ্বিক চাপ কাজ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য মিত্ররাষ্ট্র এই প্রস্তাব দিয়েছে, সমর্থন করেছে এবং এ কারণেই আমরা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছি। এখন ভারতের মিত্রদের উচিত হবে, মোদিকে যে কোনো প্রকার বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখা।

গত ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় হামলা চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে হত্যা করে একদল সন্ত্রাসী। নিহত এই পর্যটকদের সবাই পুরুষ এবং অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বার একটি শাখা এই টিআরএফ।

অতর্কিত এই হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে সিন্ধু নদের পানি বণ্টনচুক্তি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিলসহ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কয়েকটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় ভারত। জবাবে ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ, ভিসা বাতিলসহ কয়েকটি পাল্টা পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তানও।

দুই দেশের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীরসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে এক সংক্ষিপ্ত সেনা অভিযান পরিচালনা করে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী। নয়াদিল্লির তথ্য অনুযায়ী, এ অভিযানে ৭০ জন পাকিস্তানি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের দাবি, নিহত হয়েছে ৩১ জন এবং আহত হয়েছে ৫৭ জন।