মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার নতুন করে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি সরাসরি ইরান ও পাকিস্তানকে ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভিডিওটি ইতোমধ্যেই লাখোবার দেখা হয়েছে এবং এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন—
“ইসলামি মিলিটাইজেশনকে কেন্দ্র করে ইরান ও পাকিস্তান এই অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এই দুই দেশই ইসরায়েলের পরবর্তী টার্গেটে পরিণত হতে পারে।”
তিনি সরাসরি পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে সতর্কবার্তা দেন এবং বলেন,
“বর্তমান বাস্তবতায় পাকিস্তানকে অত্যন্ত সাবধানে ও দূরদর্শিতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা কী পথ বেছে নেবে।”
নেতানিয়াহু আরও বলেন,
“এখনই পাকিস্তানের উচিত একটি সুস্পষ্ট ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া— তারা কি ইরানের সঙ্গে বিশ্বাস ও বন্ধুত্ব বজায় রাখবে, নাকি আত্মরক্ষার স্বার্থে আলাদা পথ বেছে নেবে।”
এই বক্তব্য ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই বলছেন, নেতানিয়াহুর এই পুরোনো বার্তা এখন আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ যে ভয়াবহ মোড় নিয়েছে, তাতে এই পুরোনো বার্তা একটি নতুন বার্তা হয়ে সামনে এসেছে।
অনেকে মন্তব্য করছেন,
“মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তাল পরিস্থিতি শুধু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পাকিস্তানসহ আশপাশের দেশগুলোতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।”
এছাড়া অনেকে আশঙ্কা করছেন, নেতানিয়াহুর বক্তব্য মূলত পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও কূটনৈতিক দিকনির্দেশনার ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশলও হতে পারে।
ভিডিওটি ইতোমধ্যে টুইটার (X), ফেসবুক, ইউটিউব ও টেলিগ্রাম-সহ নানা প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিক্রিয়ায় অনেক ব্যবহারকারী বলছেন,
“এই সাক্ষাৎকার ছিল একটি সুস্পষ্ট হুমকি। এখন তার বাস্তবায়ন হতে পারে।”
অন্যদিকে কেউ কেউ বিষয়টিকে কূটনৈতিক চাপে ফেলতে দেওয়া এক ‘কৌশলী প্রচারণা’ বলেও অভিহিত করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ভিডিওর পুনরাবির্ভাব যেন নতুন করে ইসরায়েল-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তাপ বাড়িয়ে দিল।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন,
“এখন প্রতিটি কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ হতে হবে অত্যন্ত হিসেব-নিকেশ করে। কারণ, যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকে টেনে নিতে পারে একটি বিপর্যয়কর যুদ্ধে।”

ডেস্ক রিপোর্ট 















