ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চিফ প্রসিকিউটর: বেনজীরের বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে ১৬ বছরের নিচে ফেসবুক-টিকটক-ইনস্টাগ্রাম নিষিদ্ধ, বড় সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের বাসা থেকে উদ্ধার অভিনেত্রী সঞ্চিতার মরদেহ, ঘিরে রহস্য জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের হোস্ট পাকিস্তান: শেহবাজ শরিফ মহাখালী-সায়দাবাদ-গুলিস্তান থেকে বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধবিরতির মাঝেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আসছে নতুন নিয়ম একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ শিশু এনআইসিইউতে, বাঁচাতে মরিয়া মা–বাবা ম্যাচ শেষে গ্যালারির আবর্জনা পরিষ্কার করলো জাপানি সমর্থকরা পদ্মা ও যমুনার পর নতুন সেতু পরিকল্পনায় সরকার, পাশে চীন

উদ্বোধনের দিনই অচল ১০ শয্যার আইসিইউর ৯ ভেন্টিলেটর!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

উদ্বোধনের দিনই সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ১০ শয্যার আইসিইউতে থাকা ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে ৯টিই অকেজো হয়ে আছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।

রোববার (১৪ জুন) দেশের ১০ জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. বাবর জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় আইসিইউর জন্য প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছিল। ভেন্টিলেটর, মনিটরসহ প্রতিটি বেড প্রস্তুত থাকলেও সরবরাহ করা ভেন্টিলেটরগুলো ছিল নিম্নমানের। তার অভিযোগ, চালুর আগেই সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এখন আইসিইউ কার্যক্রম শুরু করতে গিয়ে দেখা গেছে, ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র একটি।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, গোপালগঞ্জ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জেলা এবং তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ২০২০ সালে কেন আইসিইউটি চালু করা হয়নি? গত ছয় বছর ধরে কেন এসব যন্ত্রপাতি অকেজো অবস্থায় পড়ে ছিল এবং কেন গোপালগঞ্জবাসী এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হলো?

এমপি বাবর আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স সাড়ে তিন মাসও হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে দেশের ১০টি জেলায় একযোগে আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়েছে, যার মধ্যে গোপালগঞ্জও রয়েছে। ২০২০ সালে যারা নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

এ সময় গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এবং গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. অসিত মল্লিকের নাম উল্লেখ করে ডা. বাবর অভিযোগ করেন, হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনা তদন্ত করলে প্রকৃত দায়ীদের নাম বেরিয়ে আসবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. অসিত মল্লিক। তিনি বলেন, আইসিইউ প্রকল্পটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এটি শুধু গোপালগঞ্জ নয়, সারা দেশেই একইভাবে পরিচালিত হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকই পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় কোনো কর্মকর্তা বা তার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম বছরের পর বছর অকেজো পড়ে থাকলেও কেন তা নজরে আসেনি এবং এর দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে?

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চিফ প্রসিকিউটর: বেনজীরের বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে

উদ্বোধনের দিনই অচল ১০ শয্যার আইসিইউর ৯ ভেন্টিলেটর!

আপডেট সময় ১২:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

উদ্বোধনের দিনই সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ১০ শয্যার আইসিইউতে থাকা ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে ৯টিই অকেজো হয়ে আছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।

রোববার (১৪ জুন) দেশের ১০ জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. বাবর জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় আইসিইউর জন্য প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছিল। ভেন্টিলেটর, মনিটরসহ প্রতিটি বেড প্রস্তুত থাকলেও সরবরাহ করা ভেন্টিলেটরগুলো ছিল নিম্নমানের। তার অভিযোগ, চালুর আগেই সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এখন আইসিইউ কার্যক্রম শুরু করতে গিয়ে দেখা গেছে, ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র একটি।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, গোপালগঞ্জ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জেলা এবং তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ২০২০ সালে কেন আইসিইউটি চালু করা হয়নি? গত ছয় বছর ধরে কেন এসব যন্ত্রপাতি অকেজো অবস্থায় পড়ে ছিল এবং কেন গোপালগঞ্জবাসী এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হলো?

এমপি বাবর আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স সাড়ে তিন মাসও হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে দেশের ১০টি জেলায় একযোগে আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়েছে, যার মধ্যে গোপালগঞ্জও রয়েছে। ২০২০ সালে যারা নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

এ সময় গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এবং গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. অসিত মল্লিকের নাম উল্লেখ করে ডা. বাবর অভিযোগ করেন, হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনা তদন্ত করলে প্রকৃত দায়ীদের নাম বেরিয়ে আসবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. অসিত মল্লিক। তিনি বলেন, আইসিইউ প্রকল্পটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এটি শুধু গোপালগঞ্জ নয়, সারা দেশেই একইভাবে পরিচালিত হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকই পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় কোনো কর্মকর্তা বা তার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম বছরের পর বছর অকেজো পড়ে থাকলেও কেন তা নজরে আসেনি এবং এর দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে?