ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাসা থেকে উদ্ধার অভিনেত্রী সঞ্চিতার মরদেহ, ঘিরে রহস্য জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের হোস্ট পাকিস্তান: শেহবাজ শরিফ মহাখালী-সায়দাবাদ-গুলিস্তান থেকে বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধবিরতির মাঝেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আসছে নতুন নিয়ম একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ শিশু এনআইসিইউতে, বাঁচাতে মরিয়া মা–বাবা ম্যাচ শেষে গ্যালারির আবর্জনা পরিষ্কার করলো জাপানি সমর্থকরা পদ্মা ও যমুনার পর নতুন সেতু পরিকল্পনায় সরকার, পাশে চীন আ. লীগের মতো একটি বড় দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রেখে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়: জি এম কাদের সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, দল থেকে বহিষ্কার

একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ শিশু এনআইসিইউতে, বাঁচাতে মরিয়া মা–বাবা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার মোস্তাকিম হোসেন (২৪) ও সামরিনা আক্তার (২০) দম্পতির জীবনে এক বিরল ও আবেগঘন ঘটনার জন্ম হয়েছে। গর্ভধারণের মাত্র তিন মাসের মাথায় আলট্রাসনোগ্রামে ছয় সন্তানের খবর পান সামরিনা। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে পাঁচটি সন্তান টিকে থাকে।

চিকিৎসকেরা শুরু থেকেই জানান, এমন একাধিক গর্ভধারণ মা ও নবজাতকের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই গর্ভপাতের পরামর্শ দেওয়া হলেও পরিবার সেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে সন্তানদের পৃথিবীতে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত ১১ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন সামরিনা—তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম হওয়ায় নবজাতকেরা অপরিণত অবস্থায় রয়েছে এবং প্রত্যেকের ওজন প্রায় এক কেজির কাছাকাছি।

বর্তমানে পাঁচ নবজাতকের মধ্যে তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-তে এবং দুইজন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাদের সুস্থ হয়ে উঠতে অন্তত এক মাস এনআইসিইউতে থাকতে হতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নবজাতকদের ওজন খুবই কম হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সীমিত শয্যা সংখ্যার কারণে সব শিশুকে একসঙ্গে সেখানে রাখা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নবজাতকদের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারটি। স্বামী মোস্তাকিম জানান, চিকিৎসা ও হাসপাতালে থাকার ব্যয় মেটাতে ইতোমধ্যে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দোকান বিক্রি ও ঋণ করে চিকিৎসা চালাচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে সামরিনা জানান, পুরো গর্ভকালীন সময়টি ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর। তবুও সন্তানদের জন্ম দিতে পেরে তিনি আনন্দিত, যদিও এখন তাদের সুস্থতা নিয়েই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

পরিবারটি এখন একদিকে যেমন পাঁচ নবজাতকের সুস্থতার জন্য লড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। সরকার ও সমাজসেবা অধিদপ্তর কিছু সহায়তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাসা থেকে উদ্ধার অভিনেত্রী সঞ্চিতার মরদেহ, ঘিরে রহস্য

একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ শিশু এনআইসিইউতে, বাঁচাতে মরিয়া মা–বাবা

আপডেট সময় ০৩:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার মোস্তাকিম হোসেন (২৪) ও সামরিনা আক্তার (২০) দম্পতির জীবনে এক বিরল ও আবেগঘন ঘটনার জন্ম হয়েছে। গর্ভধারণের মাত্র তিন মাসের মাথায় আলট্রাসনোগ্রামে ছয় সন্তানের খবর পান সামরিনা। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে পাঁচটি সন্তান টিকে থাকে।

চিকিৎসকেরা শুরু থেকেই জানান, এমন একাধিক গর্ভধারণ মা ও নবজাতকের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই গর্ভপাতের পরামর্শ দেওয়া হলেও পরিবার সেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে সন্তানদের পৃথিবীতে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত ১১ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন সামরিনা—তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম হওয়ায় নবজাতকেরা অপরিণত অবস্থায় রয়েছে এবং প্রত্যেকের ওজন প্রায় এক কেজির কাছাকাছি।

বর্তমানে পাঁচ নবজাতকের মধ্যে তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-তে এবং দুইজন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাদের সুস্থ হয়ে উঠতে অন্তত এক মাস এনআইসিইউতে থাকতে হতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নবজাতকদের ওজন খুবই কম হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সীমিত শয্যা সংখ্যার কারণে সব শিশুকে একসঙ্গে সেখানে রাখা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নবজাতকদের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারটি। স্বামী মোস্তাকিম জানান, চিকিৎসা ও হাসপাতালে থাকার ব্যয় মেটাতে ইতোমধ্যে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দোকান বিক্রি ও ঋণ করে চিকিৎসা চালাচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে সামরিনা জানান, পুরো গর্ভকালীন সময়টি ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর। তবুও সন্তানদের জন্ম দিতে পেরে তিনি আনন্দিত, যদিও এখন তাদের সুস্থতা নিয়েই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

পরিবারটি এখন একদিকে যেমন পাঁচ নবজাতকের সুস্থতার জন্য লড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। সরকার ও সমাজসেবা অধিদপ্তর কিছু সহায়তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।