আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় এই দরপতন ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা ৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ০১ ডলার বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমে আসে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনাই তেলের দামে এই বড় পতনের মূল কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করতে পারে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কোনো ধরনের টোল ছাড়াই হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী ইরানের তত্ত্বাবধানে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দামে যে অতিরিক্ত ঝুঁকি-প্রিমিয়াম যুক্ত হয়েছিল, শান্তিচুক্তির সম্ভাবনায় তা দ্রুত কমতে শুরু করেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার রয়টার্সকে বলেন, ব্যবসায়ীরা এখন তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে। টানা তিন মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবরে সেই সংকট কাটার আশা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও নিম্নমুখী হয়েছে।