ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন মেতে উঠেছে পুরো বিশ্ব, ঠিক তখনই বড় ধাক্কা খেয়েছে আর্জেন্টিনার এক বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী। আগামী ১৭ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু গ্যালারিতে বসে লিওনেল মেসিদের খেলা দেখার স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে দেশটির প্রায় ১৩ হাজার সমর্থকের।
কারণ, নিজেদের সন্তানদের আইনি ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের ওপর আরোপ করা হয়েছে স্টেডিয়ামে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা। আর্জেন্টিনা সরকারের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।
বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাক্রি গণমাধ্যমকে বলেন, “যারা নিজেদের সন্তানের মৌলিক খাবার ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে পারে না, তাদের হাজার হাজার ডলার খরচ করে স্টেডিয়ামে বসে বিলাসী খেলা দেখার কোনো অধিকার নেই।”
আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে চিহ্নিত ১৩ হাজার ঋণখেলাপি অভিভাবকের একটি বিশেষ কালো তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকাটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক ডিজিটাল ‘ফ্যান আইডি’ ব্যবস্থার সঙ্গে আর্জেন্টিনার স্থানীয় নিরাপত্তা সফটওয়্যার ‘ট্রিবুনা সেগুরা’র তথ্যভান্ডার যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কালো তালিকাভুক্ত কেউ টিকিট কেনার চেষ্টা করলে কিংবা স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে নিরাপত্তা স্ক্যানের মুখোমুখি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার প্রবেশাধিকার বাতিল হয়ে যাবে। এমনকি তারা বিশ্বকাপের টিকিটও কিনতে পারবেন না।
তবে আর্জেন্টাইন প্রশাসন জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী নয়। ম্যাচ শুরুর আগে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণের অর্থ পরিশোধ করেন, তাহলে তার নাম কালো তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হবে। এরপরই তিনি মাঠে বসে বিশ্বকাপের উত্তেজনা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
ফলে এবারের বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনের বার্তাও উঠে এলো নতুনভাবে। সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে গ্যালারির আনন্দে মেতে ওঠার সুযোগ যে আর নেই, সেই কঠোর বার্তাই দিল আর্জেন্টিনা।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















