শুধু সরকার বা চালক পরিবর্তন করলেই হবে না, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার অভিযোগ, নির্বাচনের পরেই সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে এসেছে। এবারও জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এনসিপি শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার দাবি করছে। পুলিশকে নির্দলীয় ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন, রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের দাবিতে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সেই জনমত উপেক্ষা করে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। অতীতের ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগে ভোট চুরি হতো ভোটগ্রহণের আগে আর এবার জনগণের মতামতই চুরি করা হয়েছে নির্বাচনের পরে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে রাস্তায় নামা তরুণদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। জনগণের স্বার্থের চেয়ে নির্বাচনের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যে সরকার নির্বাচনের স্বার্থে জনগণের সঙ্গে ধোকা দিতে পারে, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রেও তারা জনগণকে ধোকা দিতে পারে। হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, শিশু–কিশোরদের ফার্মের মুরগি বলা হচ্ছে। অথচ তাদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই আজ অনেকে ক্ষমতায় গেছেন।
সিরাজদিখানে জমি দখলের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের দখল করা অনেক জমি ৫ আগস্টের পর হাতবদল হয়েছে, কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা আজ বলছেন সংবিধান সংস্কারের সুযোগ নেই, তাদের মনে রাখা উচিত বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাও প্রচলিত সংবিধানের বাইরে গিয়ে তৈরি হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী হলে নির্বাচন হত চার বছর পর। আপনাদের নেতাদের জেলে, ধান ক্ষেতে থাকতে হতো। সংবিধানের সুবিধাজনক অংশ মানা আর অসুবিধাজনক অংশ অস্বীকার করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। থানায় ঢুকে পুলিশকে মারধর করে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটছে। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকার যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই রাজপথে নামবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























