মেসেঞ্জারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করায় দিপু রায় নামে এক যুবকের ফাঁসির দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছে জনতা।
আজ শুক্রবার (১৫ আগস্ট) জুম্মার নামাজের পর মুসল্লিরা জেলা শহরের বালিয়াডাঙ্গির মোড় এলাকা অবরোধ করে। এসময় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় পাঁচটি উপজেলার সাথেই। ১ ঘন্টা অবরোধের পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়। স্বাভাবিক হয় যানচলাচল।
এসময় মুসল্লীরা অভিযুক্ত দীপু রায়ের ফাঁসির দাবি তুলে বলেন, কয়েকদিন আগেও দীপু রায় মেসেঞ্জারে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কুরুচির পূর্ণ মন্তব্য ও কটুক্তি করেছে। এবং মুসলিম মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছে। সে দেশকে অশান্ত করে তুলতে এবং সম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উস্কানি দিতেই এমন কর্মকান্ড করেছে। শুধু তাই নয় তার প্রতিবাদ করায় মুসল্লিদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেছে তার পরিবার। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে তার সর্বচ্চো বিচারের দাবি করেন মুসল্লিরা সেই সাথে রাষ্ট্রপক্ষ বাদী হয়ে মামলার করার দাবিও জানান তারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) তার বাসার সামনে কয়েকজন প্রতিবাদ জনাতে গেলে তাদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত দিপুর বাড়িতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওইদিনই ভুক্তভোগী নারীর পরিবার বাদি হয়ে নারী শিশু দমন আইনে মামলা করেন।
পরে এ ঘটনায় আজ শুক্রবার সকালে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অভিযান চালিয়ে দীপু রায়কে পঞ্চগড় থেকে গ্রেফতার করেন। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় নারী শিশু দমন আইনে মামলাও রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানা পুলিশ।
এবিষয়ে সদর থানারা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সারোয়ারে আলম খান জানান, তাদের দাবির পেক্ষিতে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত দিপুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং তারা আরেকটি রাষ্ট্রদহি মামলার করতে বলছেন। কেউ বাদি হয়ে মামলা করলে আমরা মামলা নেব। তাদের আমরা আশ্বাস্ত করেছি। এরপর তারা অবরোধ তুলে নেয়।
দীপু রায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের দিঘীডাঙ্গী গ্রামের দিনেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে।
এদিকে একই দাবিতে শহরের চৌরাস্তায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলামী ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা। সমাবেশে তারাও ওই যুবকের ফাঁসি দাবি করেন।

মোঃ মিনহাজ আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ 



















