ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: অলি আহমদ আইনের মারপ্যাঁচে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিলে গণবিস্ফোরণ হবে: মঞ্চ ২৪ দাবি না মানলে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হবে: জামায়াতের আমির কমলাপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণ অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, জানাজা কাল সকাল ১০টায় সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক, মানুষের নিরাপত্তা নেই: নাহিদ ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে: রাজা নাসির আব্বাস ভারতীয় পণ্যে ১০০ শতাংশ মার্কিন শুল্কারোপের শঙ্কা, ঘুম হারাম রপ্তানিকারকদের এবার রাজধানীর বাড্ডায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন

নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে চলতি সপ্তাহেই এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়নি। উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে সচিব কমিটি।

খসড়া অনুযায়ী, নবম পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। পরবর্তী ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির বৈঠকে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী খসড়ার বিভিন্ন অংশে পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারবে মন্ত্রিসভা। এমনকি পে স্কেল কত ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত করবে মন্ত্রিসভা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে নবম পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে পে স্কেল চূড়ান্ত করার পথে বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা ও জটিলতা নিরসনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো চালু হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জোরালো হয়ে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল।

এখন সচিব কমিটির চূড়ান্ত করা খসড়া মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। অনুমোদন পাওয়া গেলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধির হার, বাস্তবায়নের ধাপ এবং কার্যকর হওয়ার সময়সূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই

নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়

আপডেট সময় ০৬:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে চলতি সপ্তাহেই এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়নি। উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে সচিব কমিটি।

খসড়া অনুযায়ী, নবম পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। পরবর্তী ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির বৈঠকে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী খসড়ার বিভিন্ন অংশে পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারবে মন্ত্রিসভা। এমনকি পে স্কেল কত ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত করবে মন্ত্রিসভা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে নবম পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে পে স্কেল চূড়ান্ত করার পথে বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা ও জটিলতা নিরসনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো চালু হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জোরালো হয়ে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল।

এখন সচিব কমিটির চূড়ান্ত করা খসড়া মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। অনুমোদন পাওয়া গেলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধির হার, বাস্তবায়নের ধাপ এবং কার্যকর হওয়ার সময়সূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।