ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছে: দাবি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫
  • ৬০১ বার পড়া হয়েছে

সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতির পেছনে ভারতের অনুরোধই মূল কারণ বলে আবারও দাবি করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ মে) পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

ইসহাক দার জানান, গত ১০ মে পাকিস্তান ও ভারতের সেনাপ্রধানদের মধ্যে প্রথম দফা যোগাযোগ হয়। এরপর ১২ মে দ্বিতীয় দফা এবং ১৪ মে তৃতীয় দফা কথা হয়। আবার ১৮ মে নতুন করে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ হওয়ার কথা রয়েছে। এই সব আলোচনার মধ্য দিয়েই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।

পাকিস্তানের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজ-এর অনুষ্ঠান ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে দার বলেন, “এ যুদ্ধে পাকিস্তান নয়, ভারতই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিল। এটা ভারতের জন্য চমক হয়ে এসেছে, বিশেষ করে তাদের যুদ্ধবাজ মিডিয়ার জন্য।”

তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এখন দুই দেশের সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন। তিন-চার দিন ধরে ধাপে ধাপে এই প্রত্যাহার চলবে এবং ডিজিএমও পর্যবেক্ষণ করবেন যাতে কোনো সমস্যা না হয়।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গে ইসহাক দার বলেন, “শিমলা চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান ও ভারত সব ইস্যু আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করবে। আমরা সেই চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বরাবরই শান্তিপূর্ণ আলোচনার পক্ষপাতী।”

তিনি আরও বলেন, “কারগিল যুদ্ধের সময়েও ভারত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কথাই বলেছিল, আজও সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকেই আলোচনা এবং সমঝোতার ইঙ্গিত এসেছে।”

বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে দুই দেশের শীর্ষ সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য নিরপেক্ষ স্থানে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই দেশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি গভীর নজরে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছে: দাবি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১১:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫

সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতির পেছনে ভারতের অনুরোধই মূল কারণ বলে আবারও দাবি করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ মে) পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

ইসহাক দার জানান, গত ১০ মে পাকিস্তান ও ভারতের সেনাপ্রধানদের মধ্যে প্রথম দফা যোগাযোগ হয়। এরপর ১২ মে দ্বিতীয় দফা এবং ১৪ মে তৃতীয় দফা কথা হয়। আবার ১৮ মে নতুন করে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ হওয়ার কথা রয়েছে। এই সব আলোচনার মধ্য দিয়েই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।

পাকিস্তানের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজ-এর অনুষ্ঠান ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে দার বলেন, “এ যুদ্ধে পাকিস্তান নয়, ভারতই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিল। এটা ভারতের জন্য চমক হয়ে এসেছে, বিশেষ করে তাদের যুদ্ধবাজ মিডিয়ার জন্য।”

তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এখন দুই দেশের সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন। তিন-চার দিন ধরে ধাপে ধাপে এই প্রত্যাহার চলবে এবং ডিজিএমও পর্যবেক্ষণ করবেন যাতে কোনো সমস্যা না হয়।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গে ইসহাক দার বলেন, “শিমলা চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান ও ভারত সব ইস্যু আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করবে। আমরা সেই চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বরাবরই শান্তিপূর্ণ আলোচনার পক্ষপাতী।”

তিনি আরও বলেন, “কারগিল যুদ্ধের সময়েও ভারত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কথাই বলেছিল, আজও সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকেই আলোচনা এবং সমঝোতার ইঙ্গিত এসেছে।”

বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে দুই দেশের শীর্ষ সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য নিরপেক্ষ স্থানে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই দেশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি গভীর নজরে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।