ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ বড় নির্দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এরদোয়ানের আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটাই কমবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সারা দেশে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ ৫ দেশের ৭ ত্রাণকর্মী হত্যা: ইসরায়েলি নির্দেশদাতা বললেন—‘আমি অনুতপ্ত নই’ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে সম্মত ভারত ও কুয়েত কওমি শিক্ষার্থীরা সরে দাঁড়ালেও শিল্পকলায় এনসিপির অনুষ্ঠান নিয়ে জটিলতা অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে মার্কিন ডলার বর্জনের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি কিয়েভের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ২৭

আটকের পরেই মুক্তি—পুলিশ কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছাত্রলীগ নেতার পোস্ট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে

যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা এবং আটক হওয়ার পর গোপনে মুক্তি পাওয়া এক ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরবর্তীতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্ট্যাটাসটি মুছে (রিমুভ) ফেলেছেন কচুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. রোকনউজ্জামান খান (রোকন)।

স্থানীয় ও ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক পোস্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে রাতে কচুয়ার জরিনা বাজার এলাকা থেকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রোকন খানকে আটক করেন নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই বিশ্বজিৎ। কিন্তু আটকের পর তাকে ফাঁড়িতে বা আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে রহস্যজনক কারণে মাঝপথ থেকেই গোপনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গোপনে মুক্তি পেয়েই ছাত্রলীগ নেতা ‘Rokon Khan’ নামের নিজ ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা কেউ ভুল তথ্য দিয়ে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। পরে ‘ছোট ভাইয়ের’ চেষ্টায় ও আল্লাহর রহমতে তিনি ছাড়া পান।

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের নেতাকে আটকের পর পুলিশের এভাবে ছেড়ে দেওয়া এবং ওই নেতার পক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে পুলিশ ও সহায়তাকারীদের ধন্যবাদ জানানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত স্ট্যাটাসটি ডিলিট করেন ছাত্রলীগ নেতা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে ইয়াবাসহ আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় পাঠানোর নাম করে মাঝপথের রাজারহাটে এনে ছেড়ে দেন এই এএসআই বিশ্বজিৎ। ফাঁড়ির ইনচার্জ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

এ বিষয়ে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই বিশ্বজিৎ বলেন, ‘একটি ওয়ারেন্ট তামিল করার জন্য আমরা জরিনাবাজারে গিয়েছিলাম। রোকনুজ্জামান খানকে হেফাজতে নিয়ে তার ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওয়ারেন্টে থাকা আসামির পিতার নামের সাথে তার পিতার নামের মিল না থাকায় আমরা স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাদ খানের শরণাপন্ন হই। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আমরা যাকে খুঁজছি এই রোকন সেই ব্যক্তি নন। ভুল ভাঙার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আটকের সময় আমি জানতাম না যে রোকনুজ্জামান রোকন একজন ছাত্রলীগ নেতা, তাকে আমি আগে থেকে চিনতামও না। পরে শুনেছি তিনি নাকি এই বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমিও এখন বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

আটকের পরেই মুক্তি—পুলিশ কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছাত্রলীগ নেতার পোস্ট

আপডেট সময় ১১:৫৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা এবং আটক হওয়ার পর গোপনে মুক্তি পাওয়া এক ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরবর্তীতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্ট্যাটাসটি মুছে (রিমুভ) ফেলেছেন কচুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. রোকনউজ্জামান খান (রোকন)।

স্থানীয় ও ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক পোস্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে রাতে কচুয়ার জরিনা বাজার এলাকা থেকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রোকন খানকে আটক করেন নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই বিশ্বজিৎ। কিন্তু আটকের পর তাকে ফাঁড়িতে বা আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে রহস্যজনক কারণে মাঝপথ থেকেই গোপনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গোপনে মুক্তি পেয়েই ছাত্রলীগ নেতা ‘Rokon Khan’ নামের নিজ ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা কেউ ভুল তথ্য দিয়ে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। পরে ‘ছোট ভাইয়ের’ চেষ্টায় ও আল্লাহর রহমতে তিনি ছাড়া পান।

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের নেতাকে আটকের পর পুলিশের এভাবে ছেড়ে দেওয়া এবং ওই নেতার পক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে পুলিশ ও সহায়তাকারীদের ধন্যবাদ জানানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত স্ট্যাটাসটি ডিলিট করেন ছাত্রলীগ নেতা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে ইয়াবাসহ আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় পাঠানোর নাম করে মাঝপথের রাজারহাটে এনে ছেড়ে দেন এই এএসআই বিশ্বজিৎ। ফাঁড়ির ইনচার্জ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

এ বিষয়ে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই বিশ্বজিৎ বলেন, ‘একটি ওয়ারেন্ট তামিল করার জন্য আমরা জরিনাবাজারে গিয়েছিলাম। রোকনুজ্জামান খানকে হেফাজতে নিয়ে তার ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওয়ারেন্টে থাকা আসামির পিতার নামের সাথে তার পিতার নামের মিল না থাকায় আমরা স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাদ খানের শরণাপন্ন হই। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আমরা যাকে খুঁজছি এই রোকন সেই ব্যক্তি নন। ভুল ভাঙার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আটকের সময় আমি জানতাম না যে রোকনুজ্জামান রোকন একজন ছাত্রলীগ নেতা, তাকে আমি আগে থেকে চিনতামও না। পরে শুনেছি তিনি নাকি এই বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমিও এখন বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।’