ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড, জমে উঠেছে সেমিফাইনাল আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আবার বিয়ে করার ঘোষণা পরীমনির শহীদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেমিফাইনালের আগে যে কারণে বিদায়ী বার্তা দিলেন মেসি ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে ১৮ দিন ধরে অনশনে সোনম ওয়াংচুক ইরানে ৯০ মিনিটের ‘বিশেষ অভিযান’, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনাকে হ্যারি কেনের কড়া বার্তা শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে: নাহিদ আইনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনির জানাজায় ৪ কোটির বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে: ইরান

বিশ্বকাপ মঞ্চে কেপ ভার্দের রূপকথা, স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ড্র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

স্পেনের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়ল বিশ্বকাপের নবাগত কেপ ভার্দে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে নামা আফ্রিকার এই দ্বীপদেশটি ফেবারিট স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ে এক আবেগঘন ও নাটকীয় ম্যাচ শেষে। যেখানে একদিকে স্পেনের খেলোয়াড়দের হতাশ মুখ, অন্যদিকে কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে আনন্দাশ্রু মাঠজুড়ে তখনই লেখা হচ্ছিল এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এ ড্র যেন কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের কাছে জয়ের সমান।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। পুরো ৯০ মিনিটজুড়ে তাদের দখলে ছিল প্রায় ৭৪ শতাংশ বল। কিন্তু সেই দখলকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দিতে বারবার ব্যর্থ হয় ইউরোপীয় পরাশক্তিটি। কেপ ভার্দের সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্সে বারবার হতাশ হতে থাকে স্প্যানিশ আক্রমণভাগ।

 

এই ম্যাচের আরও একটি বিষয় হলো পুরো ম্যাচে স্পেন প্রতিপক্ষের গোলমুখে ২৩টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখে ৮টি। সেখানে কেপ ভার্দে মাত্র ৬টি শট করতে সক্ষম হয়। যার একটি ছিল গোলমুখ লক্ষ্য করে। এতেই বুঝা যায় পুরো ম্যাচে কতটা আগ্রাসী ভূমিকায় ছিল স্পেন। কিন্তু ম্যাচটা যেহেতু গোলের খেলা, সেই কাজটিই করতে সক্ষম হয়নি ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

প্রথমার্ধেই স্পেন কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল। তোরেসের নেয়া এক শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, আর ওইয়ারসাবালের হেড দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ভোজিনিয়া। প্রথমার্ধের শেষ দিকে টানা আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্পেন। লাপোর্ত ও তোরেসের একাধিক নিশ্চিত সুযোগও আটকে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। ফলে বিরতিতে ম্যাচের স্কোরলাইন থাকে ০-০।

 

এই ম্যাচে কেপ ভার্দে আরও একটি নজির গড়ে। তারা মাঠে নামে চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বয়সী শুরুর একাদশ নিয়ে, যার গড় বয়স ছিল ৩১ বছর ২৬ দিন। অভিজ্ঞতা আর শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণেই স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তারা ম্যাচে টিকে থাকে।

 

দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেন আক্রমণের ধার বাড়ালেও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ছিল প্রায় অটল। ভোজিনিয়া যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন স্প্যানিশ শটগুলোর সামনে। পুরো ম্যাচে তিনি অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

 

ম্যাচের ৭১ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় এই আলোচিত উইঙ্গারের। অন্যদিকে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার জন্যও এটি ছিল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ, তার বয়স ৪০ বছর ২২ দিন। দুই প্রান্তে দুই প্রজন্মের এই লড়াই ম্যাচটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তোলে। তাদের বয়সের ব্যবধান দাঁড়ায় ২১ বছর ৪৫ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধান হিসেবে রেকর্ড গড়ে।

 

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্পেন মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালালেও কেপ ভার্দের দৃঢ় প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি তারা। যোগ করা সময়েও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় গোলশূন্য ড্র।

 

ফুটবলের ইতিহাসে হয়তো এমন অনেক ড্র এসেছে, কিন্তু কেপ ভার্দের মতো নবাগত দলের জন্য স্পেনের বিপক্ষে এই ফলাফল নিঃসন্দেহে স্মরণীয় এক অর্জন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে আটকে দিয়ে তারা যেমন বিশ্বকে চমকে দিয়েছে, তেমনি নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রাকে রঙিন করে তুলেছে প্রথম ম্যাচেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড, জমে উঠেছে সেমিফাইনাল

বিশ্বকাপ মঞ্চে কেপ ভার্দের রূপকথা, স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ড্র

আপডেট সময় ১২:২৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

স্পেনের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়ল বিশ্বকাপের নবাগত কেপ ভার্দে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে নামা আফ্রিকার এই দ্বীপদেশটি ফেবারিট স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ে এক আবেগঘন ও নাটকীয় ম্যাচ শেষে। যেখানে একদিকে স্পেনের খেলোয়াড়দের হতাশ মুখ, অন্যদিকে কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে আনন্দাশ্রু মাঠজুড়ে তখনই লেখা হচ্ছিল এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এ ড্র যেন কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের কাছে জয়ের সমান।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। পুরো ৯০ মিনিটজুড়ে তাদের দখলে ছিল প্রায় ৭৪ শতাংশ বল। কিন্তু সেই দখলকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দিতে বারবার ব্যর্থ হয় ইউরোপীয় পরাশক্তিটি। কেপ ভার্দের সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্সে বারবার হতাশ হতে থাকে স্প্যানিশ আক্রমণভাগ।

 

এই ম্যাচের আরও একটি বিষয় হলো পুরো ম্যাচে স্পেন প্রতিপক্ষের গোলমুখে ২৩টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখে ৮টি। সেখানে কেপ ভার্দে মাত্র ৬টি শট করতে সক্ষম হয়। যার একটি ছিল গোলমুখ লক্ষ্য করে। এতেই বুঝা যায় পুরো ম্যাচে কতটা আগ্রাসী ভূমিকায় ছিল স্পেন। কিন্তু ম্যাচটা যেহেতু গোলের খেলা, সেই কাজটিই করতে সক্ষম হয়নি ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

প্রথমার্ধেই স্পেন কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল। তোরেসের নেয়া এক শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, আর ওইয়ারসাবালের হেড দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ভোজিনিয়া। প্রথমার্ধের শেষ দিকে টানা আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্পেন। লাপোর্ত ও তোরেসের একাধিক নিশ্চিত সুযোগও আটকে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। ফলে বিরতিতে ম্যাচের স্কোরলাইন থাকে ০-০।

 

এই ম্যাচে কেপ ভার্দে আরও একটি নজির গড়ে। তারা মাঠে নামে চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বয়সী শুরুর একাদশ নিয়ে, যার গড় বয়স ছিল ৩১ বছর ২৬ দিন। অভিজ্ঞতা আর শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণেই স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তারা ম্যাচে টিকে থাকে।

 

দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেন আক্রমণের ধার বাড়ালেও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ছিল প্রায় অটল। ভোজিনিয়া যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন স্প্যানিশ শটগুলোর সামনে। পুরো ম্যাচে তিনি অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

 

ম্যাচের ৭১ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় এই আলোচিত উইঙ্গারের। অন্যদিকে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার জন্যও এটি ছিল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ, তার বয়স ৪০ বছর ২২ দিন। দুই প্রান্তে দুই প্রজন্মের এই লড়াই ম্যাচটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তোলে। তাদের বয়সের ব্যবধান দাঁড়ায় ২১ বছর ৪৫ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধান হিসেবে রেকর্ড গড়ে।

 

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্পেন মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালালেও কেপ ভার্দের দৃঢ় প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি তারা। যোগ করা সময়েও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় গোলশূন্য ড্র।

 

ফুটবলের ইতিহাসে হয়তো এমন অনেক ড্র এসেছে, কিন্তু কেপ ভার্দের মতো নবাগত দলের জন্য স্পেনের বিপক্ষে এই ফলাফল নিঃসন্দেহে স্মরণীয় এক অর্জন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে আটকে দিয়ে তারা যেমন বিশ্বকে চমকে দিয়েছে, তেমনি নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রাকে রঙিন করে তুলেছে প্রথম ম্যাচেই।