ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

দুদক শক্তিশালী হলে কেন সরকারগুলো ভয় পায়- প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সবার ওপরে দুইটি দুর্নীতিগ্রস্ত পেশার মধ্যে এক নম্বরে আছে রাজনীতিবিদদের নাম, দুই নম্বরে আছে আমলাদের নাম।

 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে ২০১০ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে, সেটাও আমরা দেখেছি। ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হতে দেখেছি। মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি দেখেছি”।

 

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, “আমাদের আশা ছিল পাঁচই অগাস্টের পর নতুন বাংলাদেশের কথা হচ্ছে, তখন দুদককে নখদন্তহীন বাঘ থেকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারবো। যে কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশও করেছিল”।

 

“এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১০০ ওপর অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়েছে, কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ আইন করা হয়নি। সরকারের নিয়ত কী, তা এই দুর্নীতি দমন কমিশনকে নখদন্তহীন করে রাখার যে সংস্কৃতি সেখান থেকে বের না হওয়ার উদাহরণ দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যায়, এই সরকার আসলে দুর্নীতি দমন করবার ব্যাপারে কতটুকু আন্তরিক”, যোগ করেন তিনি।

 

তিনি এসময় বলেন, দুদককে শক্তিশালী করা হলে কেন সরকারগুলো ভয় পায়, কিছু কিছু আমরা বুঝি। সরকারে সরাসরি যুক্ত থাকে রাজনীতিবিদরা, এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে আমলারা। সেই কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন যদি শক্তিশালী হয়ে যা,য় তখন রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের জন্য খুব ভাল খবর সেটা নয়”।

 

এর জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রুমিন ফারহানা বলেছেন দুর্নীতি সব জায়গায় হয় মাননীয় স্পিকার। ঘুরেফিরে সব দোষ রাজনীতিবিদদের হয়। কিন্তু যতগুলো স্বাক্ষর হয় শেষে রাজনীতিবিদের স্বাক্ষর করতে হয়। এজন্য সব দোষ তার”।

 

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, “আমরা শক্তিশালী দুর্নীতিদমন কমিশন গঠন করবো বলে আমরা দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটা তখন গ্রহণ করিনি, এখন আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হবে”।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ মঞ্চে কেপ ভার্দের রূপকথা, স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ড্র

দুদক শক্তিশালী হলে কেন সরকারগুলো ভয় পায়- প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

আপডেট সময় ১১:০৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সবার ওপরে দুইটি দুর্নীতিগ্রস্ত পেশার মধ্যে এক নম্বরে আছে রাজনীতিবিদদের নাম, দুই নম্বরে আছে আমলাদের নাম।

 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে ২০১০ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে, সেটাও আমরা দেখেছি। ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হতে দেখেছি। মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি দেখেছি”।

 

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, “আমাদের আশা ছিল পাঁচই অগাস্টের পর নতুন বাংলাদেশের কথা হচ্ছে, তখন দুদককে নখদন্তহীন বাঘ থেকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারবো। যে কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশও করেছিল”।

 

“এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১০০ ওপর অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়েছে, কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ আইন করা হয়নি। সরকারের নিয়ত কী, তা এই দুর্নীতি দমন কমিশনকে নখদন্তহীন করে রাখার যে সংস্কৃতি সেখান থেকে বের না হওয়ার উদাহরণ দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যায়, এই সরকার আসলে দুর্নীতি দমন করবার ব্যাপারে কতটুকু আন্তরিক”, যোগ করেন তিনি।

 

তিনি এসময় বলেন, দুদককে শক্তিশালী করা হলে কেন সরকারগুলো ভয় পায়, কিছু কিছু আমরা বুঝি। সরকারে সরাসরি যুক্ত থাকে রাজনীতিবিদরা, এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে আমলারা। সেই কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন যদি শক্তিশালী হয়ে যা,য় তখন রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের জন্য খুব ভাল খবর সেটা নয়”।

 

এর জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রুমিন ফারহানা বলেছেন দুর্নীতি সব জায়গায় হয় মাননীয় স্পিকার। ঘুরেফিরে সব দোষ রাজনীতিবিদদের হয়। কিন্তু যতগুলো স্বাক্ষর হয় শেষে রাজনীতিবিদের স্বাক্ষর করতে হয়। এজন্য সব দোষ তার”।

 

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, “আমরা শক্তিশালী দুর্নীতিদমন কমিশন গঠন করবো বলে আমরা দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটা তখন গ্রহণ করিনি, এখন আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হবে”।