রাজধানীর সবচেয়ে আধুনিক গণপরিবহন মেট্রোরেল। প্রতিদিন লাখো মানুষের ভরসার এই সেবায় উঠে এসেছে একের পর এক কাঠামোগত ত্রুটির তথ্য। স্বাধীন নিরাপত্তা অডিট কমিটির প্রতিবেদনে মিলেছে উদ্বেগজনক চিত্র।
উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬-এ ব্যবহৃত মোট বেয়ারিং প্যাডের প্রায় ২৩ শতাংশ, অর্থাৎ ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ বলে জানিয়েছে স্বাধীন নিরাপত্তা অডিট কমিটি। শুধু তাই নয়, ৪৬টি পিয়ার হেড এবং অন্তত ২০টি বক্স গার্ডারেও ফাটল শনাক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ত্রুটি বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একসঙ্গে মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। নিম্নমানের উপকরণ, নির্মাণ ত্রুটি কিংবা নকশাগত দুর্বলতা—সবই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখনো ত্রুটির মূল কারণ নির্ণয় বা পূর্ণাঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের প্রমাণ মেলেনি।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ফার্মগেটে একটি বেয়ারিং প্যাড নিচে পড়ে পথচারীর মৃত্যুর ঘটনার পর গঠিত হয় ৯ সদস্যের স্বাধীন নিরাপত্তা অডিট কমিটি। সেই কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, কয়েকটি পিলারে ট্রেন চলাচলের সময় অস্বাভাবিক ধাক্কার ঘটনা এবং একটি বেয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হওয়ার তথ্য।
অডিটে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে ট্র্যাকের ত্রুটি, অস্বাভাবিক কম্পন ও ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যও ব্যাহত হচ্ছে। মূল নকশায় ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতির সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে ১০টি অংশে গতি কমিয়ে ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার, কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৪৭ কিলোমিটার পর্যন্ত নামিয়ে আনা হয়েছে।
এছাড়া ট্রেনের নির্ধারিত স্থানের আগেই থেমে যাওয়ার সমস্যা, চাকার ক্ষয়, দরজার ত্রুটি, বৈদ্যুতিক স্পার্কিং এবং ডিপো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ট্র্যাক বসে যাওয়ার বিষয়টিও বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিটি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উচ্চ ঝুঁকির বেয়ারিং প্যাড দ্রুত প্রতিস্থাপন, ফাটল পর্যবেক্ষণে আধুনিক ব্যবস্থা চালু, পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের সুপারিশ করেছে অডিট কমিটি।

