ঢাকা , রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটে একবেলা না খেয়ে থাকছেন শিক্ষার্থীরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরে টানা চার দিন ধরে সরকারি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শেরপুর সরকারি কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। গ্যাস সংকটে ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেলে তিন বেলার পরিবর্তে রান্না হচ্ছে দুই বেলা। ফলে সকালে খাবার না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে না খেয়েই ক্লাস ও পড়াশোনায় যেতে হচ্ছে।

শেরপুর সরকারি কলেজে ১০৮ শয্যার ছাত্র হোস্টেল ‘শহীদ মাহবুব হল’ এবং ১৩০ শয্যার ছাত্রীনিবাস রয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা ও বাইরের জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম খরচে থাকা ও পড়াশোনার জন্য এসব আবাসিক হলে থাকেন। কিন্তু গ্যাস সংকটে এখন বাড়তি খরচের চাপও পড়েছে তাদের ওপর।

হোস্টেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর রান্না চালু রাখতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তিন বেলা রান্না করলে দ্রুত সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে যায়। এতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত দুপুর ও রাতে দুই বেলা রান্না করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সকালে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় না খেয়েই ক্লাসে যেতে হচ্ছে। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিকভাবেও সমস্যায় পড়ছেন তারা। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ছাত্রীনিবাসের সহকারী হোস্টেল সুপার প্রভাষক শাহিদুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সিলিন্ডার কিনে রান্নার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। খরচ কমাতেই দুই বেলা রান্না করতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

শহীদ মাহবুব হলের সুপার সহকারী অধ্যাপক আবুল বাশার জানান, গত চার দিন ধরে সরকারি গ্যাস লাইনে সরবরাহ নেই। সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। তাই এক বেলা রান্না বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের শেরপুর জেলার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামান বলেন, গত ১২ আগস্ট রাত ১০টা থেকে শেরপুরে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। মাতারবাড়ী ও মহেশখালী অঞ্চলের এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।

তিতাস গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুরে প্রায় চার হাজার আবাসিক ও ২২টি বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি জেলায় একটি সিএনজি স্টেশনও রয়েছে। গ্যাস না থাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ।

এদিকে, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি লোডশেডিং হওয়ায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সংকট চলাকালে হোস্টেলগুলোতে পর্যাপ্ত বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি কাটিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ফলে সংকট দীর্ঘ হলে শেরপুরের আবাসিক, পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতেও ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস সংকটে একবেলা না খেয়ে থাকছেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০৪:৪২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

শেরপুরে টানা চার দিন ধরে সরকারি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শেরপুর সরকারি কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। গ্যাস সংকটে ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেলে তিন বেলার পরিবর্তে রান্না হচ্ছে দুই বেলা। ফলে সকালে খাবার না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে না খেয়েই ক্লাস ও পড়াশোনায় যেতে হচ্ছে।

শেরপুর সরকারি কলেজে ১০৮ শয্যার ছাত্র হোস্টেল ‘শহীদ মাহবুব হল’ এবং ১৩০ শয্যার ছাত্রীনিবাস রয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা ও বাইরের জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম খরচে থাকা ও পড়াশোনার জন্য এসব আবাসিক হলে থাকেন। কিন্তু গ্যাস সংকটে এখন বাড়তি খরচের চাপও পড়েছে তাদের ওপর।

হোস্টেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর রান্না চালু রাখতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তিন বেলা রান্না করলে দ্রুত সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে যায়। এতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত দুপুর ও রাতে দুই বেলা রান্না করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সকালে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় না খেয়েই ক্লাসে যেতে হচ্ছে। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিকভাবেও সমস্যায় পড়ছেন তারা। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ছাত্রীনিবাসের সহকারী হোস্টেল সুপার প্রভাষক শাহিদুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সিলিন্ডার কিনে রান্নার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। খরচ কমাতেই দুই বেলা রান্না করতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

শহীদ মাহবুব হলের সুপার সহকারী অধ্যাপক আবুল বাশার জানান, গত চার দিন ধরে সরকারি গ্যাস লাইনে সরবরাহ নেই। সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। তাই এক বেলা রান্না বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের শেরপুর জেলার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামান বলেন, গত ১২ আগস্ট রাত ১০টা থেকে শেরপুরে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। মাতারবাড়ী ও মহেশখালী অঞ্চলের এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।

তিতাস গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুরে প্রায় চার হাজার আবাসিক ও ২২টি বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি জেলায় একটি সিএনজি স্টেশনও রয়েছে। গ্যাস না থাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ।

এদিকে, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি লোডশেডিং হওয়ায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সংকট চলাকালে হোস্টেলগুলোতে পর্যাপ্ত বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি কাটিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ফলে সংকট দীর্ঘ হলে শেরপুরের আবাসিক, পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতেও ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।