ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্যসেন হলের মূল প্রবেশপথের সিঁড়িতে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত গোলাম আজমের ছবি সেঁটে দিয়েছেন হলটির কয়েকজন শিক্ষার্থী।
এছাড়াও বাইতুল মোকাররম মসজিদে গোলাম আজমের জুতাপেটা খাওয়ার ছবিও দেয়ালে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আনানুল্লাহ ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার।
কর্মসূচি আয়োজনের কারণ হিসেবে আমানুল্লাহ কালবেলাকে বলেন, ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি টানানোর প্রতিবাদেই আমরা এই কর্মসূচি পালন করেছি। বাংলার ইতিহাসের খলনায়কদের কখনোই আমরা মহানায়কে হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে দেব না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী বাংলাদেশের ইতিহাসের খলনায়কদের নায়ক বানাতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাদের মূল এজেন্ডা হলো- বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ কে বির্তকিত করে স্বাধীনতা আন্দোলন হিসেবে ১৯৪৭ কে প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ কে আপনি কোনোভাবেই ছোট করতে পারেন না। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে ১৯৭১-এর মধ্যে দিয়ে। হ্যাঁ ১৯৪৭-এর ভূমিকা আছে, তবে সেটা ৭১-এর চেয়ে বেশি কোনোভাবেই না।
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবিতে পদদলিত করে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একদল শিক্ষার্থী এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় ডাকসু ভবনের পাদদেশে দুটি এবং ডাকসু সংগ্রহশালার ভেতরে দুটি ছবি পদদলিত করে প্রতিবাদ জানান তারা।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের একজন ওয়াসিম উদ্দিন রাহাত বলেন, ‘ভাষার জন্য সালাম, বরকতের রক্ত দেওয়া দেশ বাংলাদেশ। ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেখানে যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তাদের কাউকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান দেওয়া আমরা কখনোই মেনে নেব না। গোলাম আজম একজন কুখ্যাত রাজাকার।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















