ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাড্ডায় বাসা থেকে ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা শিক্ষকের নাম গত ৩ বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে: বিজিএমইএ আবার আগ্রাসন হলে ‘প্রত্যাশার চেয়ে ভয়াবহ’ পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের খাগড়াছড়িতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ‘নতুন কমিটির’ সব নেতার নামে মামলা ফজরের নামাজ পড়েই কৃষকের ধান কাটতে নামেন এমপি এনামুল ‘সংবিধানের কোথায় লেখা আছে জয় বাংলা বলা যাবে না’ এবার অবিবাহিতদের প্রেমের আগ্রহ বাড়াতে টাকা দিচ্ছে জাপান সরকার! এক প্লেট চটপটি, পেটে ঢুকছে ৭ কোটি মলমূত্রের জীবাণু!: গবেষণা ‘সিলটি’ ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি বাংলাদেশের পতাকাবাহী সব জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়—১৮ বছর বাবার কোলে চড়ে পড়াশোনা, অনার্সে জিপিএ ৩.২০ পেলেন নাইছ খাতুন হাসি**

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩২৫ বার পড়া হয়েছে

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী—তবু থেমে থাকেননি বগুড়ার নাইছ খাতুন হাসি। ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর বাবার অগাধ সমর্থন নিয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন প্রতিকূলতার সকল বাধা অতিক্রম করে। দীর্ঘ ১৮ বছর বাবার কোলে ভর করেই বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন তিনি। আর এবার অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.২০ পেয়ে তাক লাগিয়েছেন সবাইকে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রকাশিত অনার্স শেষ বর্ষের ফলাফলে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়া হাসি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি।

২৪ বছর বয়সী হাসির দুটি পা থাকলেও সেগুলোতে নেই কোনো শক্তি; ডান হাতও প্রায় নিশ্চল। ভরসা একমাত্র বাঁ হাত। ছোটবেলা থেকেই বাবা নজরুল ইসলাম তাকে কোলে করে স্কুলে নিয়ে যেতেন। মানুষ অনেক সময় আড়চোখে তাকালেও হাসি হার মানেননি কখনো।

হাসি বলেন,
শরীরে শক্তি নেই, কিন্তু মনোবল আছে। কারও ওপর বোঝা হতে চাই না। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই। ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চাই।

তার বাবা নজরুল ইসলাম জানান,
“মেয়েটি জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তাকে লেখাপড়া শেখানো আমার দায়িত্ব মনে করেছি। দু’পা ও একটি হাত কাজ না করলেও এক হাতে কলম ধরেই সব পরীক্ষা দিয়েছে সে।”

হাসির শিক্ষা পথচলা শুরু ৬ বছর বয়সে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে। এর পর ২০১৭ সালে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর অনার্সে ভর্তি হয়ে নিয়মিতভাবে বাবার কোলে চড়ে কলেজে যেতেন তিনি।

দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ হাসির একটাই স্বপ্ন—শিক্ষক হয়ে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড্ডায় বাসা থেকে ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা শিক্ষকের নাম

অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়—১৮ বছর বাবার কোলে চড়ে পড়াশোনা, অনার্সে জিপিএ ৩.২০ পেলেন নাইছ খাতুন হাসি**

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী—তবু থেমে থাকেননি বগুড়ার নাইছ খাতুন হাসি। ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর বাবার অগাধ সমর্থন নিয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন প্রতিকূলতার সকল বাধা অতিক্রম করে। দীর্ঘ ১৮ বছর বাবার কোলে ভর করেই বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন তিনি। আর এবার অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.২০ পেয়ে তাক লাগিয়েছেন সবাইকে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রকাশিত অনার্স শেষ বর্ষের ফলাফলে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়া হাসি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি।

২৪ বছর বয়সী হাসির দুটি পা থাকলেও সেগুলোতে নেই কোনো শক্তি; ডান হাতও প্রায় নিশ্চল। ভরসা একমাত্র বাঁ হাত। ছোটবেলা থেকেই বাবা নজরুল ইসলাম তাকে কোলে করে স্কুলে নিয়ে যেতেন। মানুষ অনেক সময় আড়চোখে তাকালেও হাসি হার মানেননি কখনো।

হাসি বলেন,
শরীরে শক্তি নেই, কিন্তু মনোবল আছে। কারও ওপর বোঝা হতে চাই না। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই। ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চাই।

তার বাবা নজরুল ইসলাম জানান,
“মেয়েটি জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তাকে লেখাপড়া শেখানো আমার দায়িত্ব মনে করেছি। দু’পা ও একটি হাত কাজ না করলেও এক হাতে কলম ধরেই সব পরীক্ষা দিয়েছে সে।”

হাসির শিক্ষা পথচলা শুরু ৬ বছর বয়সে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে। এর পর ২০১৭ সালে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর অনার্সে ভর্তি হয়ে নিয়মিতভাবে বাবার কোলে চড়ে কলেজে যেতেন তিনি।

দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ হাসির একটাই স্বপ্ন—শিক্ষক হয়ে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া