ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী’ বাবরের উদ্যোগে ওমরাহ পালনে যাচ্ছেন তিন উপজেলার ৪৭ বিএনপি নেতা আ.লীগ সরকার ব্যাঙের ছাতার মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দিয়েছে: স্বস্থ্যমন্ত্রী দূরপাল্লায় ৮ ও সিটিতে ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর যতো বাড়ছে বাসভাড়া স্বপ্ন পূরণে ২০ লাখ টাকা ঋণ করে ইতালি পাড়ি, ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সাশ্রয়, পে স্কেলে ৪৪ হাজার কোটি বরাদ্দ নিয়ে নাহিদের প্রশ্ন ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরও নেতানিয়াহুকে গণহত্যার কারিগর বললেন মামদানি সরকারের নজিরবিহীন অদক্ষতার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে: নাহিদ ইসলাম

অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়—১৮ বছর বাবার কোলে চড়ে পড়াশোনা, অনার্সে জিপিএ ৩.২০ পেলেন নাইছ খাতুন হাসি**

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪২১ বার পড়া হয়েছে

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী—তবু থেমে থাকেননি বগুড়ার নাইছ খাতুন হাসি। ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর বাবার অগাধ সমর্থন নিয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন প্রতিকূলতার সকল বাধা অতিক্রম করে। দীর্ঘ ১৮ বছর বাবার কোলে ভর করেই বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন তিনি। আর এবার অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.২০ পেয়ে তাক লাগিয়েছেন সবাইকে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রকাশিত অনার্স শেষ বর্ষের ফলাফলে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়া হাসি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি।

২৪ বছর বয়সী হাসির দুটি পা থাকলেও সেগুলোতে নেই কোনো শক্তি; ডান হাতও প্রায় নিশ্চল। ভরসা একমাত্র বাঁ হাত। ছোটবেলা থেকেই বাবা নজরুল ইসলাম তাকে কোলে করে স্কুলে নিয়ে যেতেন। মানুষ অনেক সময় আড়চোখে তাকালেও হাসি হার মানেননি কখনো।

হাসি বলেন,
শরীরে শক্তি নেই, কিন্তু মনোবল আছে। কারও ওপর বোঝা হতে চাই না। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই। ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চাই।

তার বাবা নজরুল ইসলাম জানান,
“মেয়েটি জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তাকে লেখাপড়া শেখানো আমার দায়িত্ব মনে করেছি। দু’পা ও একটি হাত কাজ না করলেও এক হাতে কলম ধরেই সব পরীক্ষা দিয়েছে সে।”

হাসির শিক্ষা পথচলা শুরু ৬ বছর বয়সে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে। এর পর ২০১৭ সালে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর অনার্সে ভর্তি হয়ে নিয়মিতভাবে বাবার কোলে চড়ে কলেজে যেতেন তিনি।

দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ হাসির একটাই স্বপ্ন—শিক্ষক হয়ে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়—১৮ বছর বাবার কোলে চড়ে পড়াশোনা, অনার্সে জিপিএ ৩.২০ পেলেন নাইছ খাতুন হাসি**

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী—তবু থেমে থাকেননি বগুড়ার নাইছ খাতুন হাসি। ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর বাবার অগাধ সমর্থন নিয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন প্রতিকূলতার সকল বাধা অতিক্রম করে। দীর্ঘ ১৮ বছর বাবার কোলে ভর করেই বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন তিনি। আর এবার অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.২০ পেয়ে তাক লাগিয়েছেন সবাইকে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রকাশিত অনার্স শেষ বর্ষের ফলাফলে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়া হাসি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি।

২৪ বছর বয়সী হাসির দুটি পা থাকলেও সেগুলোতে নেই কোনো শক্তি; ডান হাতও প্রায় নিশ্চল। ভরসা একমাত্র বাঁ হাত। ছোটবেলা থেকেই বাবা নজরুল ইসলাম তাকে কোলে করে স্কুলে নিয়ে যেতেন। মানুষ অনেক সময় আড়চোখে তাকালেও হাসি হার মানেননি কখনো।

হাসি বলেন,
শরীরে শক্তি নেই, কিন্তু মনোবল আছে। কারও ওপর বোঝা হতে চাই না। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই। ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চাই।

তার বাবা নজরুল ইসলাম জানান,
“মেয়েটি জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তাকে লেখাপড়া শেখানো আমার দায়িত্ব মনে করেছি। দু’পা ও একটি হাত কাজ না করলেও এক হাতে কলম ধরেই সব পরীক্ষা দিয়েছে সে।”

হাসির শিক্ষা পথচলা শুরু ৬ বছর বয়সে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে। এর পর ২০১৭ সালে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর অনার্সে ভর্তি হয়ে নিয়মিতভাবে বাবার কোলে চড়ে কলেজে যেতেন তিনি।

দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ হাসির একটাই স্বপ্ন—শিক্ষক হয়ে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া