ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১৯০ আসন জামায়াতে ইসলামী ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড বিতরণ বন্ধের দাবি জামায়াতের, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে প্রটোকল সমতার আহ্বান জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়; নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মচারী গ্রেফতার বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বাউফলে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রাশেদ প্রধান ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে ১১ দল

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া ওয়াজ মাহফিল নিষিদ্ধ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৬৯৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া সব ধরনের ধর্মীয় প্রচার (ওয়াজ মাহফিল) আয়োজন নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণকে নিরবচ্ছিন্ন এবং এসব অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম সচিবকে চিঠি দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে ইসির জনসংযোগ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে গতকাল সোমবার জানা গেছে।

এদিকে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ও বেসরকারি টেলিভিশনে সাধারণ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনি প্রচারের ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে গতকাল পৃথক আরেকটি চিঠি দিয়েছে ইসি। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইসি সূত্র জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াজ-মাহফিলের ওপর এই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা থাকবে। তবে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসারের (আরও) সম্মতি নিয়ে এ ধরনের ধর্মীয় প্রচার আয়োজনে অসুবিধা নেই। এসব নির্দেশনা দিয়ে রোববার সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ওয়াজ-মাহফিল নিয়ন্ত্রণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়নি। বরং বলা হয়েছেÑআপনারা এ ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করলে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নেবেন। রোববার আরওদের এ চিঠি দেওয়া হয়। ভোট ঘিরে যাতে কোনো পক্ষ রাজনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে; একইসঙ্গে ধর্মীয় প্রচারের এই মঞ্চে সংসদ নির্বাচনের কোনো প্রার্থী যেন ভোট না চান, সেটি নিশ্চিত করতে হবে ইসির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে ওয়াজ-মাহফিল আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে রিটার্নিং কর্মকর্তার লিখিত অনুমতিসাপেক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

ইসির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ইসলামি বক্তা মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, শীত মৌসুমে দেশে ব্যাপকভাবে ওয়াজ-মাহফিলের আয়োজন করা হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন একটি মাহফিল সফলভাবে আয়োজনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। হঠাৎ করে সরকারের পক্ষ থেকে মাহফিলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তা চরম বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।

তিনি আরো বলেন, বাস্তবতা হলো দেশের হাজারো ওয়াজ-মাহফিলে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি সত্ত্বেও কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে না। বরং এসব মাহফিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সৌহার্দ্য এবং এ দেশের মানুষের শান্তিপ্রিয় চরিত্রের এক উজ্জ্বল প্রমাণ। ওয়াজ মাহফিলগুলোতে সাধারণত উন্নত চরিত্র গঠন, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং অন্যায় ও গর্হিত কাজ পরিহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, যা সমাজকে নৈতিকভাবে সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতএব, এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়, যাতে এসব মাহফিল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হয়রানির শিকার হয়। আমরা সরকারকে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে, প্রচার-সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার, টকশো বা নির্বাচনি সংলাপ পরিবেশনের সময় রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীর প্রতি সমান সুযোগ নিশ্চিত করা; রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ২৫ অনুযায়ী গণমাধ্যমে নির্বাচনি সংলাপ, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী বা দলের প্রতিনিধি টিভি কর্তৃপক্ষ আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দিতে পারবেন না। এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া ওয়াজ মাহফিল নিষিদ্ধ

আপডেট সময় ০৯:৩৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া সব ধরনের ধর্মীয় প্রচার (ওয়াজ মাহফিল) আয়োজন নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণকে নিরবচ্ছিন্ন এবং এসব অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম সচিবকে চিঠি দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে ইসির জনসংযোগ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে গতকাল সোমবার জানা গেছে।

এদিকে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ও বেসরকারি টেলিভিশনে সাধারণ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনি প্রচারের ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে গতকাল পৃথক আরেকটি চিঠি দিয়েছে ইসি। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইসি সূত্র জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াজ-মাহফিলের ওপর এই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা থাকবে। তবে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসারের (আরও) সম্মতি নিয়ে এ ধরনের ধর্মীয় প্রচার আয়োজনে অসুবিধা নেই। এসব নির্দেশনা দিয়ে রোববার সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ওয়াজ-মাহফিল নিয়ন্ত্রণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়নি। বরং বলা হয়েছেÑআপনারা এ ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করলে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নেবেন। রোববার আরওদের এ চিঠি দেওয়া হয়। ভোট ঘিরে যাতে কোনো পক্ষ রাজনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে; একইসঙ্গে ধর্মীয় প্রচারের এই মঞ্চে সংসদ নির্বাচনের কোনো প্রার্থী যেন ভোট না চান, সেটি নিশ্চিত করতে হবে ইসির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে ওয়াজ-মাহফিল আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে রিটার্নিং কর্মকর্তার লিখিত অনুমতিসাপেক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

ইসির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ইসলামি বক্তা মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, শীত মৌসুমে দেশে ব্যাপকভাবে ওয়াজ-মাহফিলের আয়োজন করা হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন একটি মাহফিল সফলভাবে আয়োজনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। হঠাৎ করে সরকারের পক্ষ থেকে মাহফিলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তা চরম বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।

তিনি আরো বলেন, বাস্তবতা হলো দেশের হাজারো ওয়াজ-মাহফিলে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি সত্ত্বেও কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে না। বরং এসব মাহফিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সৌহার্দ্য এবং এ দেশের মানুষের শান্তিপ্রিয় চরিত্রের এক উজ্জ্বল প্রমাণ। ওয়াজ মাহফিলগুলোতে সাধারণত উন্নত চরিত্র গঠন, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং অন্যায় ও গর্হিত কাজ পরিহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, যা সমাজকে নৈতিকভাবে সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতএব, এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়, যাতে এসব মাহফিল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হয়রানির শিকার হয়। আমরা সরকারকে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে, প্রচার-সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার, টকশো বা নির্বাচনি সংলাপ পরিবেশনের সময় রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীর প্রতি সমান সুযোগ নিশ্চিত করা; রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ২৫ অনুযায়ী গণমাধ্যমে নির্বাচনি সংলাপ, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী বা দলের প্রতিনিধি টিভি কর্তৃপক্ষ আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দিতে পারবেন না। এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।