যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইলেকট্রনিক উপায়ে এই স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও এখন পর্যন্ত চুক্তির ধারাগুলো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ট্রাম্প বলেছেন শীঘ্রই চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হবে। শুক্রবার এ চুক্তি সরাসরি স্বাক্ষর হওয়ার কথা।
শুক্রবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সই হওয়ার সম্ভাব্য ১৪ দফা চুক্তির একটি অনুলিপি দাবি করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল আরাবিয়া ইংলিশ।
যা আছে ১৪ দফায়
১. ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, বর্তমান যুদ্ধে জড়িত তাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে, এই সমঝোতা স্মারকে সইয়ের মাধ্যমে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাপ্তি ঘোষণা করছে। উভয় পক্ষ অঙ্গীকার করছে যে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেবে না এবং বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি থেকেও বিরত থাকবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে এই অনুচ্ছেদ এবং অন্যান্য অনুচ্ছেদের বিধান নিশ্চিত করা হবে।
২. ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবে এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে।
৩. ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা করবে। পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে এই সময়সীমা।
৪. এই সমঝোতা স্মারকে সইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো বাধা বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করবে এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে নৌ চলাচলকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবে। ইরানের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ যুদ্ধপূর্ব সময়ের সমান হবে। চূড়ান্ত চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে আশপাশের অঞ্চল থেকে নিজেদের বাহিনীও প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র।
৫. সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এমন পদক্ষেপ নেবে, যাতে পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং ওমান সাগর থেকে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরে আসে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি বাধা দূর করা এবং মাইন অপসারণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
৬. যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করবে। এর অর্থায়ন হবে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার। চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাঠামো।
৭. চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের ওপর বর্তমান সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার গভর্নর বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৮. ইরান পুনর্ব্যক্ত করছে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত অন্যান্য পারস্পরিক সম্মত বিষয়, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক প্রয়োজনও রয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিতে নির্ধারণ করা হবে। এই অনুচ্ছেদের বিধান নিশ্চিত করবে চূড়ান্ত চুক্তি।
৯. চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে এবং ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বা অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র।
১০. এই সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও সেগুলোর উপজাত রপ্তানির জন্য ছাড়পত্র দেবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বীমা, পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবাও থাকবে অন্তর্ভুক্ত।
১১. চূড়ান্ত চুক্তির দিকে আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে ইরানের জব্দ বা সীমাবদ্ধ তহবিল ও সম্পদ মুক্ত করে সম্পূর্ণ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। এসব অর্থ, মূল হিসাবে থাকুক বা স্থানান্তরিত হোক, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত চূড়ান্ত গ্রহীতার জন্য ব্যবহার করা যাবে এবং সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব অনুমতি ও লাইসেন্স দিতে অঙ্গীকার করছে যুক্তরাষ্ট্র।
১২. চূড়ান্ত চুক্তির সফল বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে তা মেনে চলা তদারকির জন্য গঠন করা হবে একটি বাস্তবায়ন কাঠামো।
১৩. এই সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর এবং ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর, এবং এসব পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বাকি অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় প্রবেশ করবে।
১৪. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে চূড়ান্ত চুক্তি।

ডেস্ক রিপোর্ট 























