ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত: দীনেশ ত্রিবেদী টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সুযোগ বাংলাদেশের, সামনে যে সমীকরণ হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের, আদৌ কি তা সম্ভব? জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন: বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬ ইরানের সামরিক নীতি আক্রমণাত্মক করার ঘোষণা আইআরজিসির জিম্বাবুয়েতে ফেরিডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে  কাল থেকে রাজধানীতে চলবে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’, চালক-কন্ডাক্টরও নারী অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, পা অবশ হওয়ায় চলাফেরা সীমিত ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করা সিইও এবার নিজেই হারালেন চাকরি

হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আদালতে যাচ্ছে ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৮:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

এবার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তার প্রত্যর্পণ নিয়ে দুদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে হাসিনাকে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছে দিল্লির সরকারি সূত্র। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায়ও হয়েছে। তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগেও ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায় বাংলাদেশ সরকার। দিল্লির সরকারি সূত্রের দাবি, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে না। ভারতের প্রচলিত আইন ও প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে যেসব অভিযোগ ও রায় রয়েছে, সেগুলোর আইনগত ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতেই হবে। এটি শুধু কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক বিষয় নয়। তার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো কতটা প্রমাণিত এবং ভারতীয় আইনের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এরপরই প্রত্যর্পণ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারত সরকার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কারণ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। তাকে প্রত্যর্পণ করা হলে তার নিরাপত্তা, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত বিষয়ও ভারতের বিবেচনায় আসবে বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

৫ আগস্ট দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় থাকা সত্ত্বেও দেশে ফেরার এই ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। হাসিনার বক্তব্যের পরই তার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুদেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের ভারত সফর হলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে সম্পর্কের নানা জটিলতার মধ্যেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এখন অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে।

তবে হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট। অন্যদিকে ভারত বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রাখতে চাইছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, নিরাপত্তা ও ভিসাসহ একাধিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখনই হাসিনাকে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের আইনি প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ফলে আগামী ডিসেম্বরে হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন কি না, নাকি তাকে ভারতেই থাকতে হবেএসব প্রশ্নের জবাব আপাতত নির্ভর করছে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে দুদেশের শীর্ষ পর্যায়ে নতুন কোনো সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত: দীনেশ ত্রিবেদী

হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আদালতে যাচ্ছে ভারত

আপডেট সময় ১০:১৮:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

এবার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তার প্রত্যর্পণ নিয়ে দুদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে হাসিনাকে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছে দিল্লির সরকারি সূত্র। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায়ও হয়েছে। তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগেও ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায় বাংলাদেশ সরকার। দিল্লির সরকারি সূত্রের দাবি, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে না। ভারতের প্রচলিত আইন ও প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে যেসব অভিযোগ ও রায় রয়েছে, সেগুলোর আইনগত ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতেই হবে। এটি শুধু কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক বিষয় নয়। তার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো কতটা প্রমাণিত এবং ভারতীয় আইনের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এরপরই প্রত্যর্পণ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারত সরকার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কারণ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। তাকে প্রত্যর্পণ করা হলে তার নিরাপত্তা, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত বিষয়ও ভারতের বিবেচনায় আসবে বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

৫ আগস্ট দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় থাকা সত্ত্বেও দেশে ফেরার এই ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। হাসিনার বক্তব্যের পরই তার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুদেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের ভারত সফর হলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে সম্পর্কের নানা জটিলতার মধ্যেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এখন অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে।

তবে হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট। অন্যদিকে ভারত বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রাখতে চাইছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, নিরাপত্তা ও ভিসাসহ একাধিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখনই হাসিনাকে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের আইনি প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ফলে আগামী ডিসেম্বরে হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন কি না, নাকি তাকে ভারতেই থাকতে হবেএসব প্রশ্নের জবাব আপাতত নির্ভর করছে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে দুদেশের শীর্ষ পর্যায়ে নতুন কোনো সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর।