মহারাষ্ট্রে ট্রাক-টেম্পো-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল ১৩ বরযাত্রীর
ভারতের মহারাষ্ট্রে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জনের বেশি। সোমবার (১৮ মে) মুম্বাই-আহমেদাবাদ জাতীয় মহাসড়কের মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায় একটি কনটেইনার ট্রাক, বিয়ের অতিথিবাহী টেম্পো ও একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কর্মকর্তারা জানান, আহতদের মধ্যে ১১ জন কাসা সাব-ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে আরও দুজন দাহানুর বেদান্ত হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দাহানুর বাপুগাঁও এলাকা থেকে ৪০ জনের বেশি যাত্রী একটি বাগদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ধানিভারির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। যাত্রীরা যে টেম্পোতে ছিলেন, সেটি প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরপথ এড়াতে মহাসড়কের ভুল পাশে চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিকেল প্রায় ৪টার দিকে গুজরাট থেকে মুম্বাইগামী একটি কনটেইনার ট্রাক গ্রামের একটি অংশের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরে ট্রাকটির কনটেইনার অংশ টেম্পোটির বাম পাশে সজোরে আঘাত করে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের পর ট্রাকটি টেম্পোর ওপর উল্টে পড়ে। এতে ভেতরে থাকা অনেক যাত্রী আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস। তিনি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মুম্বাই-আহমেদাবাদ মহাসড়কে কনটেইনারের সঙ্গে টেম্পোর সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত।”
পালঘরের পুলিশ সুপার যতীশ দেশমুখ জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে টেম্পোচালকের ভুলের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
ইতোমধ্যে পালঘর জেলা প্রশাসন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পালঘরের সংসদ সদস্য হেমন্ত সাভারা এবং পুলিশ সুপার যতীশ দেশমুখ। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় বিধায়ক রাজেন্দ্র গাভিত নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















