কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। ডিপফেক তৈরি করে মানুষকে হয়রানি, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং শিশুদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন অপতৎপরতার ঘটনায় এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও, অডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগও রয়েছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের অপতৎপরতা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এআই ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইয়ের অপব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি ভুয়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্ট সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা সংশোধন আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশে সাইবার অপরাধ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও পুলিশের রেঞ্জ সদর দপ্তরগুলোতে আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট ও গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানোর পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাইবার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। ভুয়া তথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট, অনলাইন হয়রানি ও প্রতারণা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























