ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা-ইংরেজি রিডিং না পারলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ নজিরবিহীন পরিস্থিতি, একদিনের রাষ্ট্রপতি শাসন হবে পশ্চিমবঙ্গে? মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় থালাপতির শপথ আটকে গেল! যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইরান ‘আমি পদত্যাগ করবো না’, ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করবেন মমতা হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মরদেহ, সব গয়না নিয়ে পালালেন স্বামী সহকারী হত্যার বিষয়ে যা বললেন শুভেন্দু ‘কামব্যাক কমরেড’, মির্জা আব্বাসের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু: ইউনূস-নূরজাহানের বিচারের দাবিতে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ১৩ দিন টানা ৬ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

দেড় বছরে এত সাফল্য অর্জন অন্তর্বর্তী সরকারের মতো কেউ করতে পারেনি: প্রেস সচিব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

এবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো সরকার এত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি, যতটা অর্জন করেছে এই অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে। আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং তাদের নির্ধারিত প্রায় সব লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছে।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, নাম ছাড়া সব দিক থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার যেন একটি এনজিও-গ্রাম-অতি সাধারণ, দুর্বল ও গ্রাম-স্তরের কাঠামো। অনেকের কাছে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন হিসেবে পরিচিত এতটাই দুর্বল যে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্কচুক্তিতে এগোতে চায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ৫০০ দিনে ১ হাজার ৭০০-রও বেশি বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, নতুন আইন পাসে জটিলতা এবং তুলনামূলকভাবে ছোট গোষ্ঠীর চাপেও নতি স্বীকার করাকে কেন্দ্র করে অনেকেই এই সরকারকে ‘ভীতু’ হিসেবে দেখেছেন।

এমনকি পুলিশ প্রধান থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অদক্ষতা এবং নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও শোনা গেছে। কেউ কেউ তাদের ‘কিছু না করা সরকার’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন। তবে এসব সমালোচনার পরও শফিকুল আলম দাবি করেন, বাস্তবতা ভিন্ন। তার ভাষায়, ফিরে তাকালে বলতে হয়-গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ সরকার আর আসেনি। তারা তাদের অধিকাংশ লক্ষ্যই অর্জন করেছে। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্যগুলো হলো-

শান্তি ও স্থিতিশীলতা
বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক সহিংসতা বন্ধ হয়ে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

মার্কিন শুল্কচুক্তিতে অগ্রগতি
কোনো লবিং ফার্ম নিয়োগ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

রেকর্ড আইন প্রণয়ন
১৫ মাসেই রেকর্ডসংখ্যক আইন পাস হয়েছে, যার মধ্যে শ্রম আইন সংস্কার রয়েছে।

ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম
জুলাই ডিক্লারেশন ও জুলাই চার্টার ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি নতুন পথরেখা তৈরি করেছে।

বিচার বিভাগ শক্তিশালীকরণ
সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, ফলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে মামলা ও জামিন প্রভাবিত করা কঠিন হবে।

বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি
ইউরোপীয় শীর্ষ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান লালদিয়া টার্মিনালে বিনিয়োগের চুক্তি করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় বিনিয়োগ।

পররাষ্ট্রনীতির নতুন কাঠামো
নতুন নীতিমালা বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
অর্থনীতি পুনরায় উন্নয়নমুখী হয়েছে। ব্যাংক খাতের লুটপাট কমেছে, টাকা স্থিতিশীল হয়েছে এবং খাদ্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশে নেমেছে।

জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা
অতীতের নির্যাতন ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আদালতে জবাবদিহিতা শুরু হয়েছে এবং শেখ হাসিনাকেও তার অবস্থান বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গুম ও রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান
জোরপূর্বক গুম বন্ধ হয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা-নির্ভর রাজনীতি নিষ্ক্রিয় হয়েছে।

সংস্কৃতির জাগরণ
নতুন ডকুমেন্টারি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন জনমত তৈরি করেছে, যাকে অনেকে ‘ফারুকী ইফেক্ট’ বলছেন।

নিরাপত্তা সংস্থার সংস্কার
র‍্যাব আইন মেনে কাজ করছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরোধীদের হয়রানি কমিয়েছে এবং গত ১৬ মাসে কোনো সাজানো ক্রসফায়ারের অভিযোগ ওঠেনি।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা-ইংরেজি রিডিং না পারলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ

দেড় বছরে এত সাফল্য অর্জন অন্তর্বর্তী সরকারের মতো কেউ করতে পারেনি: প্রেস সচিব

আপডেট সময় ১১:৪৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

এবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো সরকার এত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি, যতটা অর্জন করেছে এই অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে। আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং তাদের নির্ধারিত প্রায় সব লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছে।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, নাম ছাড়া সব দিক থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার যেন একটি এনজিও-গ্রাম-অতি সাধারণ, দুর্বল ও গ্রাম-স্তরের কাঠামো। অনেকের কাছে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন হিসেবে পরিচিত এতটাই দুর্বল যে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্কচুক্তিতে এগোতে চায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ৫০০ দিনে ১ হাজার ৭০০-রও বেশি বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, নতুন আইন পাসে জটিলতা এবং তুলনামূলকভাবে ছোট গোষ্ঠীর চাপেও নতি স্বীকার করাকে কেন্দ্র করে অনেকেই এই সরকারকে ‘ভীতু’ হিসেবে দেখেছেন।

এমনকি পুলিশ প্রধান থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অদক্ষতা এবং নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও শোনা গেছে। কেউ কেউ তাদের ‘কিছু না করা সরকার’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন। তবে এসব সমালোচনার পরও শফিকুল আলম দাবি করেন, বাস্তবতা ভিন্ন। তার ভাষায়, ফিরে তাকালে বলতে হয়-গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ সরকার আর আসেনি। তারা তাদের অধিকাংশ লক্ষ্যই অর্জন করেছে। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্যগুলো হলো-

শান্তি ও স্থিতিশীলতা
বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক সহিংসতা বন্ধ হয়ে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

মার্কিন শুল্কচুক্তিতে অগ্রগতি
কোনো লবিং ফার্ম নিয়োগ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

রেকর্ড আইন প্রণয়ন
১৫ মাসেই রেকর্ডসংখ্যক আইন পাস হয়েছে, যার মধ্যে শ্রম আইন সংস্কার রয়েছে।

ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম
জুলাই ডিক্লারেশন ও জুলাই চার্টার ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি নতুন পথরেখা তৈরি করেছে।

বিচার বিভাগ শক্তিশালীকরণ
সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, ফলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে মামলা ও জামিন প্রভাবিত করা কঠিন হবে।

বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি
ইউরোপীয় শীর্ষ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান লালদিয়া টার্মিনালে বিনিয়োগের চুক্তি করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় বিনিয়োগ।

পররাষ্ট্রনীতির নতুন কাঠামো
নতুন নীতিমালা বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
অর্থনীতি পুনরায় উন্নয়নমুখী হয়েছে। ব্যাংক খাতের লুটপাট কমেছে, টাকা স্থিতিশীল হয়েছে এবং খাদ্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশে নেমেছে।

জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা
অতীতের নির্যাতন ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আদালতে জবাবদিহিতা শুরু হয়েছে এবং শেখ হাসিনাকেও তার অবস্থান বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গুম ও রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান
জোরপূর্বক গুম বন্ধ হয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা-নির্ভর রাজনীতি নিষ্ক্রিয় হয়েছে।

সংস্কৃতির জাগরণ
নতুন ডকুমেন্টারি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন জনমত তৈরি করেছে, যাকে অনেকে ‘ফারুকী ইফেক্ট’ বলছেন।

নিরাপত্তা সংস্থার সংস্কার
র‍্যাব আইন মেনে কাজ করছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরোধীদের হয়রানি কমিয়েছে এবং গত ১৬ মাসে কোনো সাজানো ক্রসফায়ারের অভিযোগ ওঠেনি।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।