ঢাকা , রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুবলীগ নেতাকে জামায়াত সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদান যা বললেন জাহেদ-উর রহমান বিএনপি জোটে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন! আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমার ৩ শিশুকন্যাকে একটু দেখে রাইখেন: আমীর হামজা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রকাশ্য সমর্থন নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন নয়, এটি দায়িত্ব ও সংস্কারমূলক ম্যান্ডেটের বহিঃপ্রকাশ আগামী সংসদ নির্বাচন ‘অত্যন্ত, অত্যন্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’: তারেক রহমান ‘মঞ্জুর মুন্সী আপিল নিয়ে যেতে পারবেন উচ্চ আদালতে, পক্ষে আদেশ পেলে থাকতে পারবেন ভোটের মাঠেও’ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও করেছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি ফের ইরানিদের বিক্ষোভের আহ্বান রেজা পাহলভির, এবার মেলেনি সাড়া বিয়ে করলেই মিলবে ১৬ লাখ টাকা অনুদান, সন্তান হলে দ্বিগুণ! ‎পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, তারা রাষ্ট্রের কর্মচারী: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতার সেলফি, সমালোচনার ঝড়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

 

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সেলফি তোলা ও ফেসবুকে সক্রিয় থাকার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের দায়িত্ব ও হেফাজত ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

গত ১৭ ডিসেম্বর বুধবার রাতে পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি শোয়াইব-উল ইসলাম ফাহিম (২১) কে গ্রেপ্তার করে পটিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পরও তিনি একাধিকবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন এবং ভিডিও কলে কথা বলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামীর হাতে মোবাইল ফোন থাকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টগুলোতে শোয়াইব লেখেন, “আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমি পটিয়া থানায়। দেখা হবে আবারো, ফিরবো বীরের বেশে কোন একদিন জয়বাংলা।”
এর কিছুক্ষণ পর হাতকড়া পরিহিত ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “এই দিন দিন নয়, দিন আরও আছে।”
এমনকি দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যের ঘুমন্ত ছবি পোস্ট করে ব্যঙ্গাত্মক ক্যাপশনও দেন তিনি।

এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—পুলিশ হেফাজতে থাকা একজন আসামি কীভাবে মোবাইল ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এতটা সক্রিয় থাকতে পারেন?

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি পুলিশের অগোচরে শরীরের অন্তর্বাসে মোবাইল ফোন লুকিয়ে রেখেছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই মোবাইলটি জব্দ করা হয়। তিনি স্বীকার করেন, পুলিশি হেফাজতে আসামির সেলফি তোলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার বিষয়টি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পটিয়া পৌরসদরের কাগজী পাড়া এলাকা থেকে শোয়াইবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই সংগঠনের আরও দুই সদস্য সৌরভ মুখার্জি ও মো. মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শোয়াইব-উল ইসলাম ফাহিমকে পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে পুরো ঘটনাটি পুলিশের তদারকি ও হেফাজত ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুবলীগ নেতাকে জামায়াত সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদান

পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতার সেলফি, সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় ০৬:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সেলফি তোলা ও ফেসবুকে সক্রিয় থাকার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের দায়িত্ব ও হেফাজত ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

গত ১৭ ডিসেম্বর বুধবার রাতে পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি শোয়াইব-উল ইসলাম ফাহিম (২১) কে গ্রেপ্তার করে পটিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পরও তিনি একাধিকবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন এবং ভিডিও কলে কথা বলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামীর হাতে মোবাইল ফোন থাকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টগুলোতে শোয়াইব লেখেন, “আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমি পটিয়া থানায়। দেখা হবে আবারো, ফিরবো বীরের বেশে কোন একদিন জয়বাংলা।”
এর কিছুক্ষণ পর হাতকড়া পরিহিত ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “এই দিন দিন নয়, দিন আরও আছে।”
এমনকি দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যের ঘুমন্ত ছবি পোস্ট করে ব্যঙ্গাত্মক ক্যাপশনও দেন তিনি।

এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—পুলিশ হেফাজতে থাকা একজন আসামি কীভাবে মোবাইল ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এতটা সক্রিয় থাকতে পারেন?

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি পুলিশের অগোচরে শরীরের অন্তর্বাসে মোবাইল ফোন লুকিয়ে রেখেছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই মোবাইলটি জব্দ করা হয়। তিনি স্বীকার করেন, পুলিশি হেফাজতে আসামির সেলফি তোলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার বিষয়টি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পটিয়া পৌরসদরের কাগজী পাড়া এলাকা থেকে শোয়াইবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই সংগঠনের আরও দুই সদস্য সৌরভ মুখার্জি ও মো. মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শোয়াইব-উল ইসলাম ফাহিমকে পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে পুরো ঘটনাটি পুলিশের তদারকি ও হেফাজত ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।