ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জোড়া গোল করেই পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ নেইমার এমপি নজরুলের একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর ভিডিও এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে স্বপ্নযাত্রায় ‘কিকি’ রামোস নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের চেষ্টা, ২ মার্কিন কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করলো ব্রাজিল নেতানিয়াহুর সমর্থন নিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা ঘোষণা বলসোনারোর ছেলের যুক্তরাষ্ট্রের ১১ যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার ও ১৭ ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার প্রাণ হারানোর ভয়ে উড়োজাহাজ পাল্টে দ্রুত দেশে ফেরেন ট্রাম্প বাগেরহাটে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহী চীন, প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন, চিকিৎসার জন্য যাবেন বিদেশে

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের!, অস্বস্তি ভারতের?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ১১৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পাকিস্তান। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক। বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) ওই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে। ভারতীয় গণমাধ্যমটির ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জন্য সম্প্রতিপিএনএস হ্যাঙ্গরনামের একটি সাবমেরিন তৈরি করেছে চীন। পাকিস্তানের নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সেই সাবমেরিনটিকে কমিশনও (আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি) করেছে। সাবমেরিনটিকে নিয়ে আসতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি বহর নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। ফিরে আসার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রাবিরতি দেন তিনি। 

সেখানে শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গরশ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সক্ষমতা দেবে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর এর কর্মকর্তা আরও বলেন, পিএনএস হ্যাঙ্গর সিরিজের আরও ৭টি সাবমেরিন শিগগিরই পাকিস্তানি নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই সিরিজের সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি বজায় রাখবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। সেটির নামও ছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। তবে, সেই যুদ্ধে বাংলাদেশভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর বঙ্গোপসাগর ছেড়ে চলে যায় পাকিস্তান। এতদিন মূলত উত্তর আরব সাগরেই সীমাবদ্ধ ছিল পাকিস্তানি নৌবাহিনীর উপস্থিতি। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবে এমন একটি এলাকা যেখানে ভারত উল্লেখযোগ্য ভৌগোলিক এবং কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে। বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের অবস্থান এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য বঙ্গোপসাগর ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই বিস্তৃত জলরাশির উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলো হলো ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য নৌ শক্তিগুলোর উত্থানের মধ্যেও এই দেশগুলোর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। এ কারণেই শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার করা মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার দ্য মর্নিংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ফারুক পিএনএস হ্যাঙ্গরকে একটিগেম চেঞ্জারহিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তান এই শ্রেণির আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জোড়া গোল করেই পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ নেইমার

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের!, অস্বস্তি ভারতের?

আপডেট সময় ০২:৫২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পাকিস্তান। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক। বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) ওই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে। ভারতীয় গণমাধ্যমটির ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জন্য সম্প্রতিপিএনএস হ্যাঙ্গরনামের একটি সাবমেরিন তৈরি করেছে চীন। পাকিস্তানের নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সেই সাবমেরিনটিকে কমিশনও (আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি) করেছে। সাবমেরিনটিকে নিয়ে আসতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি বহর নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। ফিরে আসার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রাবিরতি দেন তিনি। 

সেখানে শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গরশ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সক্ষমতা দেবে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর এর কর্মকর্তা আরও বলেন, পিএনএস হ্যাঙ্গর সিরিজের আরও ৭টি সাবমেরিন শিগগিরই পাকিস্তানি নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই সিরিজের সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি বজায় রাখবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। সেটির নামও ছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। তবে, সেই যুদ্ধে বাংলাদেশভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর বঙ্গোপসাগর ছেড়ে চলে যায় পাকিস্তান। এতদিন মূলত উত্তর আরব সাগরেই সীমাবদ্ধ ছিল পাকিস্তানি নৌবাহিনীর উপস্থিতি। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবে এমন একটি এলাকা যেখানে ভারত উল্লেখযোগ্য ভৌগোলিক এবং কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে। বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের অবস্থান এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য বঙ্গোপসাগর ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই বিস্তৃত জলরাশির উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলো হলো ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য নৌ শক্তিগুলোর উত্থানের মধ্যেও এই দেশগুলোর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। এ কারণেই শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার করা মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার দ্য মর্নিংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ফারুক পিএনএস হ্যাঙ্গরকে একটিগেম চেঞ্জারহিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তান এই শ্রেণির আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।