ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান ‘ভিয়েতনাম ট্র‌্যাপে’ পড়তে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই গ্রাফিতি অঙ্কন করে পরিস্থিতি শান্ত করলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র জমিজমা সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকারের সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী হামলা করলে রক্তস্নান হবে: যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি কিউবার প্রেসিডেন্টের পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির বাজারে হাহাকার, শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন শুভেন্দু শনিবারের ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে ইরানের: রাশিয়া মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসকে দেখতে গেলেন জামায়াত সেক্রেটারি সীমান্তে বিএসএফের গুলি, পাল্টা ফায়ারে বিজিবির জবাব

হামলা করলে রক্তস্নান হবে: যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি কিউবার প্রেসিডেন্টের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই কিউবায় কোনো প্রকার আগ্রাসী হামলা চালায়, তাহলেরক্তস্নানঘটবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজকানেল। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল বলেন, “কিউবা কখনও যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেয়নি, ভবিষ্যতেও এমন আশঙ্কা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি কিউবায় আগ্রাসী হামলা চলায়তাহলে তার পরিণতি হবে অকল্পনীয় এবং রীতিমতো রক্তস্নান ঘটবে।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমেরিকার ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র ও কমিউনিস্ট শাসিত কিউবার প্রতি চরম বিরূপ ভূমিকায় নেমেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। দুমাস আগে দেশটির ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তিনি। এই নিষেধাজ্ঞার অর্থকোনো দেশ যদি কিউবাকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করেতাহলে সেই দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

ভেনেজুয়েলা থেকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল কিনত কিউবা। এই তেল ছিল দেশটিরলাইফলাইন জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা জারি করার আগে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা তেলের চালান বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে গত দুমাস ধরে জ্বালানি সংকট চরম রূপ নিয়েছে এই কমিউনিস্ট দেশটিতে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইরানের কাছ থেকে থেকে ৩০০ সামরিক ড্রোন কিনছে কিউবা। সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গুয়ান্তানামা উপসাগরে মার্কিন সামরিক সামরিক ঘাঁটি এবং কিউবার সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধজাহাজে হামলার জন্য কেনা হয়েছে এসব ড্রোন।

এক্সিওসে এই খবর প্রকাশের পর রোববার কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা জি২ এবং দেশটির বেশ কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের তালিকায় কিউবার যোগাযোগমন্ত্রী, জ্বালানিমন্ত্রী, বিচার বিষয়ক মন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর অন্তত ৩ জন জেনারেল এবং কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন। সেই নিষেধাজ্ঞা জারির পরের দিন এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজকানেল।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে কিউবার জাতিসংঘ দূত এরনেস্তো সোবেরন গুজমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি। তিনি বলেছেন, “যদি কেউ কিউবাতে আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, কিংবা অবশ্যই প্রতিরোধ করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। গত শতকের ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করেছিল এবং পরাজিত হয়েছিল। অবশ্য সবাই এখন বলতেই পারে যে সেই দিন আর নেই। এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। হ্যাঁ, আমরাও স্বীকার করি যে এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। কিন্তু পরিস্থিতি যতই ভিন্ন হোক, কিউবার জনগণের মনোভাব এখনও পরিবর্তন আসেনি।সূত্র : এএফপি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান

হামলা করলে রক্তস্নান হবে: যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি কিউবার প্রেসিডেন্টের

আপডেট সময় ০১:২৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই কিউবায় কোনো প্রকার আগ্রাসী হামলা চালায়, তাহলেরক্তস্নানঘটবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজকানেল। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল বলেন, “কিউবা কখনও যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেয়নি, ভবিষ্যতেও এমন আশঙ্কা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি কিউবায় আগ্রাসী হামলা চলায়তাহলে তার পরিণতি হবে অকল্পনীয় এবং রীতিমতো রক্তস্নান ঘটবে।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমেরিকার ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র ও কমিউনিস্ট শাসিত কিউবার প্রতি চরম বিরূপ ভূমিকায় নেমেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। দুমাস আগে দেশটির ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তিনি। এই নিষেধাজ্ঞার অর্থকোনো দেশ যদি কিউবাকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করেতাহলে সেই দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

ভেনেজুয়েলা থেকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল কিনত কিউবা। এই তেল ছিল দেশটিরলাইফলাইন জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা জারি করার আগে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা তেলের চালান বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে গত দুমাস ধরে জ্বালানি সংকট চরম রূপ নিয়েছে এই কমিউনিস্ট দেশটিতে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইরানের কাছ থেকে থেকে ৩০০ সামরিক ড্রোন কিনছে কিউবা। সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গুয়ান্তানামা উপসাগরে মার্কিন সামরিক সামরিক ঘাঁটি এবং কিউবার সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধজাহাজে হামলার জন্য কেনা হয়েছে এসব ড্রোন।

এক্সিওসে এই খবর প্রকাশের পর রোববার কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা জি২ এবং দেশটির বেশ কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের তালিকায় কিউবার যোগাযোগমন্ত্রী, জ্বালানিমন্ত্রী, বিচার বিষয়ক মন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর অন্তত ৩ জন জেনারেল এবং কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন। সেই নিষেধাজ্ঞা জারির পরের দিন এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজকানেল।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে কিউবার জাতিসংঘ দূত এরনেস্তো সোবেরন গুজমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি। তিনি বলেছেন, “যদি কেউ কিউবাতে আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, কিংবা অবশ্যই প্রতিরোধ করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। গত শতকের ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করেছিল এবং পরাজিত হয়েছিল। অবশ্য সবাই এখন বলতেই পারে যে সেই দিন আর নেই। এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। হ্যাঁ, আমরাও স্বীকার করি যে এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। কিন্তু পরিস্থিতি যতই ভিন্ন হোক, কিউবার জনগণের মনোভাব এখনও পরিবর্তন আসেনি।সূত্র : এএফপি