এবার পাঠ্যবইয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২৮ সালের বইয়ে তাঁর জীবন, কর্ম, শাহাদাত ও পরবর্তী ঘটনাগুলো তুলে ধরে পাঠ্য রাখা হবে বলে জানা গিয়েছিল। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন–সংক্রান্ত কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১০ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির বীরত্বগাথা যুক্ত হচ্ছে না। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে এটি যুক্ত হবে কি না, তা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা ও বিষয়ভিত্তিক কমিটি নির্ধারণ করবে। এমন খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৮টা ৪ মিনিটে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন তিনি।
মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমার ভাই যেদিন শহীদ হলেন; সেদিন থেকেই আমি রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানিয়ে আাসছি। পাঠ্যপুস্তকে আমার ভাই শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা জীবনী যুক্ত করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার সেই দাবি আমলে নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ বিশ্ব পরিচয়ে শহীদ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা জীবনী সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
তার জন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছি যেমন; তেমনি সরকারকে প্রশ্ন করেছি। যে, শুধু পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে শহীদ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা জীবনী কেন? ওসমান হাদি শুধু শিশুদের আইডল নয়, ওসমান হাদি বাংলাদেশের শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবক, এমনকি বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীরও আইডল। তাই তাঁর বীরত্বগাথা জীবনী শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকেও সংযুক্ত করতে হবে।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পেলাম, শহীদ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা জীবনী পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে না। এত বড় দুঃসাহস কে বা কারা দেখাচ্ছে, এই চক্রান্ত কোনো ভাবেই আমরা সফল হতে দেবো না। ইনশাআল্লাহ। আমি সরকারের কাছে বিনয়ের সাথে বলতে চাই, এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরকার অবশ্যই ফিরে আসবেন। এবং শহীদ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা জীবনী পাঠ্যপুস্তকে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্তে অটুট থাকবেন। এবং বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবেন।’

ডেস্ক রিপোর্ট 
























