ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ: ডপলার রিসার্চের জরিপ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দুই বিএনপি নেতাকে হত্যা করেন সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’ শাইখ সিরাজকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেন বাউফলের সাংবাদিক মিলন ‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম’—ইসলাম গ্রহণের খবরে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোসকে কাবার ইমাম সিরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির তদন্তে জাতিসংঘ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: রিজভী মহিলা লীগ নেত্রীর দখলে থাকা পৈতৃক জমি ১৭ বছর পর ফিরে পেলেন প্রবাসী দেশে ফিরে মাকে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা ছিল নিহত দেবাশীষের নায়িকা নয়নতারার মাথায় টাক কেন? জানা গেল আসল তথ্য যুবদলের নাম ভাঙিয়ে আধিপত্যের অভিযোগ, আলোচনায় ‘ইয়াবা মুরাদ’

দেশে ফিরে মাকে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা ছিল নিহত দেবাশীষের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:২১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

আমাদের ভবিষ্যৎ বলে এখন আর কিছুই নাই। এখন ভগবান যা করেন-কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে হারিয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাবা দিলীপ দত্ত।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দেবাশীষ দত্ত (৩৮), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৯), তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪) নিহত হয়েছেন।

 

ছেলের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি মনে করে দিলীপ দত্ত বলেন, সর্বশেষ কাল রাত ৯টায় ওর মা ও মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওরা বলছিল, আমরা রেডি, লাগেজ-টাগেজ গুছিয়েছি। ব্যাগ-ট্যাগ রেডি করতেছি। আমরা সকালে চলে আসব।

 

 

কিন্তু সেই সকাল আর আসেনি। দেশে ফেরার আগেই কলকাতার হোটেলের ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান দেবাশীষ ও তার পরিবারের তিন সদস্য।

 

দিলীপ দত্ত আরও বলেন,পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিল দেবাশীষ। আমার মাসে ওষুধ লাগে চার হাজার টাকা। ওর মায়ের ওষুধ লাগে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। দেবাশীষের ওপরই আমাদের পরিবারের সমস্ত কিছু ছিল।

 

তিনি জানান, বুধবার সকালে দেশে ফেরার কথা ছিল দেবাশীষদের। দেশে ফিরে শুক্রবার অসুস্থ মাকে নিয়ে রাজশাহীতে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা ছিল দেবাশীষের।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ। কলকাতার পাশাপাশি চিকিৎসার প্রয়োজনে তারা বেঙ্গালুরুও গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের দিন রাতে বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরেন তারা। বুধবারই দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। তবে তার আগেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তারা।

 

ভারতের সংবাদমাধ্যম পিটিআই ও এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই আবাসিক হোটেলে রাতে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে আট বাংলাদেশি নাগরিকসহ কয়েকজন নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

 

নিহত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।

 

দেবাশীষ ও তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সহকর্মী ও সাংবাদিক নেতারা।

 

কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেবাশীষ অত্যন্ত মেধাবী, পেশাদার ও সাদা মনের মানুষ ছিলেন।

 

এদিকে, একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে দেবাশীষের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়ে শোকাহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ: ডপলার রিসার্চের জরিপ

দেশে ফিরে মাকে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা ছিল নিহত দেবাশীষের

আপডেট সময় ০৯:২১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

আমাদের ভবিষ্যৎ বলে এখন আর কিছুই নাই। এখন ভগবান যা করেন-কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে হারিয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাবা দিলীপ দত্ত।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দেবাশীষ দত্ত (৩৮), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৯), তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪) নিহত হয়েছেন।

 

ছেলের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি মনে করে দিলীপ দত্ত বলেন, সর্বশেষ কাল রাত ৯টায় ওর মা ও মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওরা বলছিল, আমরা রেডি, লাগেজ-টাগেজ গুছিয়েছি। ব্যাগ-ট্যাগ রেডি করতেছি। আমরা সকালে চলে আসব।

 

 

কিন্তু সেই সকাল আর আসেনি। দেশে ফেরার আগেই কলকাতার হোটেলের ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান দেবাশীষ ও তার পরিবারের তিন সদস্য।

 

দিলীপ দত্ত আরও বলেন,পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিল দেবাশীষ। আমার মাসে ওষুধ লাগে চার হাজার টাকা। ওর মায়ের ওষুধ লাগে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। দেবাশীষের ওপরই আমাদের পরিবারের সমস্ত কিছু ছিল।

 

তিনি জানান, বুধবার সকালে দেশে ফেরার কথা ছিল দেবাশীষদের। দেশে ফিরে শুক্রবার অসুস্থ মাকে নিয়ে রাজশাহীতে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা ছিল দেবাশীষের।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ। কলকাতার পাশাপাশি চিকিৎসার প্রয়োজনে তারা বেঙ্গালুরুও গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের দিন রাতে বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরেন তারা। বুধবারই দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। তবে তার আগেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তারা।

 

ভারতের সংবাদমাধ্যম পিটিআই ও এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই আবাসিক হোটেলে রাতে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে আট বাংলাদেশি নাগরিকসহ কয়েকজন নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

 

নিহত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।

 

দেবাশীষ ও তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সহকর্মী ও সাংবাদিক নেতারা।

 

কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেবাশীষ অত্যন্ত মেধাবী, পেশাদার ও সাদা মনের মানুষ ছিলেন।

 

এদিকে, একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে দেবাশীষের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়ে শোকাহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজ।