ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুবদলের নাম ভাঙিয়ে আধিপত্যের অভিযোগ, আলোচনায় ‘ইয়াবা মুরাদ’ ভেনেজুয়েলার তেলের অর্ধেকই এখন যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেকে ভোট দিতে পারবেন মির্জা ফখরুল, সুযোগ নেই কর্নেল অলির দুই হাত নেই, মুখ দিয়ে লিখে দাখিল পাস রিয়াদের এবার শাস্তির আওতায় আসছে যাত্রী-পথচারীরাও মাসিক সম্মানীর তালিকায় জামায়াত নেতার নাম, প্রকৃত ইমাম-খাদেমরাই বাদ! ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য বন্ধ করল আমিরাত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গণনা বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হবে: সিইসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অভ্যস্ত নই, তবে প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ: সিইসি

যুবদলের নাম ভাঙিয়ে আধিপত্যের অভিযোগ, আলোচনায় ‘ইয়াবা মুরাদ’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকায় যুবদলের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসা, দখল, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে মো. মুরাদ ওরফে ‘ইয়াবা মুরাদ’-এর বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় কোনো পদে না থাকলেও নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের সংগঠক হিসেবে পরিচয় দেন মুরাদ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকায় তার তৎপরতা বাড়ে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনায় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, কারাগার থেকে বের হওয়ার পর মুরাদ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরপর এলাকায় মাদক ব্যবসা, জুয়া, দখল ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দলীয় সদস্যপদসহ তাকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে।

মুরাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চকবাজার থানায় ইয়াবা ও চুরি, কোতোয়ালি থানায় চুরি এবং বাকলিয়া থানায় ডাকাতির মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকায় ভবন নির্মাণের জন্য আনা পাঁচ হাজার ইটসহ একটি গাড়ি আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সময় গাড়ির চালক ও হেলপারকে মারধরেরও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে গাড়ির মালিক বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় মুরাদকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া গত এক বছরে বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদা দাবি, গ্যারেজে ভাঙচুর এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মুরাদ নগরীর ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মো. হাসান লিটনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি জানিয়েছেন, মুরাদ যুবদলের কোনো পদে নেই এবং কখনো ছিলেনও না। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

১৪ আগস্টের ঘটনায় করা মামলার বিষয়ে বাকলিয়া থানার ওসি মো. জাহেদুল কবির বলেন, ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুরাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে মুরাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা ও তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুবদলের নাম ভাঙিয়ে আধিপত্যের অভিযোগ, আলোচনায় ‘ইয়াবা মুরাদ’

যুবদলের নাম ভাঙিয়ে আধিপত্যের অভিযোগ, আলোচনায় ‘ইয়াবা মুরাদ’

আপডেট সময় ০৬:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকায় যুবদলের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসা, দখল, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে মো. মুরাদ ওরফে ‘ইয়াবা মুরাদ’-এর বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় কোনো পদে না থাকলেও নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের সংগঠক হিসেবে পরিচয় দেন মুরাদ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকায় তার তৎপরতা বাড়ে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনায় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, কারাগার থেকে বের হওয়ার পর মুরাদ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরপর এলাকায় মাদক ব্যবসা, জুয়া, দখল ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দলীয় সদস্যপদসহ তাকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে।

মুরাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চকবাজার থানায় ইয়াবা ও চুরি, কোতোয়ালি থানায় চুরি এবং বাকলিয়া থানায় ডাকাতির মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকায় ভবন নির্মাণের জন্য আনা পাঁচ হাজার ইটসহ একটি গাড়ি আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সময় গাড়ির চালক ও হেলপারকে মারধরেরও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে গাড়ির মালিক বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় মুরাদকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া গত এক বছরে বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদা দাবি, গ্যারেজে ভাঙচুর এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মুরাদ নগরীর ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মো. হাসান লিটনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি জানিয়েছেন, মুরাদ যুবদলের কোনো পদে নেই এবং কখনো ছিলেনও না। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

১৪ আগস্টের ঘটনায় করা মামলার বিষয়ে বাকলিয়া থানার ওসি মো. জাহেদুল কবির বলেন, ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুরাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে মুরাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা ও তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।