ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ সাগরকন্যা কুয়াকাটায় দেখা মিলছে ঝিনুকের ‘সাদা গালিচা’, মুগ্ধ পর্যটকরা এবার ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে, বেহেশতের কথা বলে: বিরোধী দলের উদ্দেশ্য এ্যানি অবশেষে নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি, কার্যকর জুলাই থেকেই জামায়াতের আমির ও নাহিদ ইসলামের আহ্বানে জাতি সাড়া দিচ্ছে না: রাশেদ খান জঙ্গলে মিলল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ এক দশক পর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন শি জিনপিং, অভ্যর্থনা জানাবেন ট্রাম্প নিজেই ১০ বছরের শিশুকে গণধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার, বসেছে দুইশ’র বেশি চেকপোস্ট ১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে: রিজভী

সামর্থ্য থাকলে বাচ্চাদের বিদেশ পাঠান, এদেশে থাকলে খাদ্যের বিষে মরবে: মাহবুব কবির মিলন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সচিব মাহবুব কবির মিলন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতার কারণে দেশ আজমবল্যান্ডেরূপ নিয়েছে। সামর্থ্য থাকলে সন্তানদের বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পোস্টে মাহবুব কবির মিলন লেখেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি যখন মানুষ আস্থা এবং সাহস হারায়, তখন সেটা পরিণত হয় মবল্যান্ডে। তখন যে যা ইচ্ছে, তাই করা শুরু করবে। সেদিন পুলিশের এক কর্মকর্তা বললেন, আগে আমি একাই অনেক ক্রিমিনাল ধরে তারপর গাড়িসহ ফোর্স ডেকেছি। এখন দলবলসহ কোথাও যেতেও ভয় লাগে। প্রতি আক্রমণ ও হামলার ভয়।

তিনি লেখেন, ‘৫ আগস্ট সারা দেশের থানা থেকে যত অস্ত্র লুট হয়েছে, তার ৫% অস্ত্রও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ডিমরালাইজড বাহিনী আজও তাদের সাহস, মনোবল এবং নিজের প্রতি নিজের আস্থা ফিরে পায়নি। সেটার প্রয়াসও নেয়া হয়নি।তিনি আরও লেখেন, ‘ইউনূস সরকারের সময় রাস্তায় আইন ভঙ্গ করে মানুষ, গাড়িঘোড়া আটকিয়ে বসে থাকলে সামনে এগিয়ে পুলিশ সার্জেন্টকে পরিচয় দিয়ে কিছু একটা করার জন্য অনুরোধ জানালে, তিনি বললেন, স্যার তাদের গায়ে হাত দিয়ে মাইর খেতে বলেন!! এরপর তো অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে আমার চাকুরি খাবে।

সন্ত্রাসীদের দ্বারা পুলিশ প্রায় আক্রমণের স্বীকার হচ্ছে। প্রাণ যাচ্ছে। র‍্যাবের কয়েকজন মারাও গেছে। খুন গুম করে র‍্যাব ধ্বংস হয়ে নতুন নাম ধারণ করছে। কিরূপে ফিরে আসবে জানি না। তবে কালো কাপড়ের একটা ভয়াবহ ভয় ছিল মানুষের। ভবিষ্যৎ আল্লাহ ভাল জানেন।মাহবুব কবির মিলন লেখেন, ‘আসামি ধরা পড়লেই প্রায় সবাই মন্তব্য করে বসে, “আরে দুইদিন পরেই বের হয়ে আসবে!” এমনকি হাতেনাতে ধৃত খুনের আসামীর ক্ষেত্রেও। একটা দেশের বিচার ব্যবস্থা কতটা আস্থাহীন হলে মানুষ এমন কথা বলতে পারে!! অসভ্য, বর্বর এবং পিশাচ একটা জাতির কোন সিরিয়ালে পড়ব আমরা!!’

গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল মহোদয় বলেছেন, সিন্ডিকেট করে আদালতের রায় প্রভাবিত করা যাবে না। তারমানে যাচ্ছে, গেছে এবং যাবে। তাহলে জনগণের শান্তি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সুবিচার ও ন্যায় বিচার ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কতটা শক্তিশালী, ডেডিকেটেড, কমিটেড, দলদাস মুক্ত প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ও দলীয় স্বার্থের ওপরে উঠে কাজ করতে হবে!! দলদাস এবং দুর্নীতিবাজ ও মেরুদণ্ডহীন প্রশাসন, বিচার ও রাজনৈতিক নেতা দিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত সেটা অর্জন করা যাবে না।তিনি লেখেন, ‘গতকালও একজন ক্লাস সেভেনের বাচ্চা মোবাইল ফোন নিয়ে বাইরে দিনেদুপুরে ফটো তুলতে গিয়ে এখনো ঘরে ফিরে আসেনি। প্রতিদিন কতজন শিশু নিখোঁজ হচ্ছে! ধর্ষণ, বলাৎকার আর হত্যার শিকার হচ্ছে!! কতটা ছিনতাই আর খুনের ঘটনা ঘটছে!! সেটা কি সহনীয় নাকি অসহনীয় মাত্রায়? সভ্য নাকি অসভ্য মাত্রায়? জনসংখ্যার তুলনায় লুত () এর কওমের বলাৎকার আমাদের চেয়ে কম নাকি বেশি, নাকি সমানসমান!!’

ডিমরালাইজড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যতদিন কার্যকরভাবে ফিরিয়ে আনা না যাবে, ততদিন নিজের জীবন নিজেই বাঁচান। পরিবারকে বাঁচান। এক মিনিটের জন্য বাচ্চাকে হাতছাড়া বা চোখের আড়ালে যেতে দেবেন না। না সিঁটিতে, না লিফটে। এমনকি স্কুল বা কোচিং সেন্টারে যেন একাকী না হয়। যে জাতির একটি মানুষকে কোনো দিক দিয়েই বিশ্বাস করার বিন্দুমাত্র উপায় থাকে না। সেটা আবার জাতি নাকি!!’ তিনি লেখেন, ‘সামর্থ্য থাকলে বাচ্চাদের বিদেশ পাঠিয়ে দিন। এখানে থাকলে খাদ্যের বিষে মরবে। ভেজাল ঔষধে মরবে। অপঘাতে মরবে। বিবেকের দংশনে মরবে। ধর্মের নামে অধর্মে মরবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ

সামর্থ্য থাকলে বাচ্চাদের বিদেশ পাঠান, এদেশে থাকলে খাদ্যের বিষে মরবে: মাহবুব কবির মিলন

আপডেট সময় ০১:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সচিব মাহবুব কবির মিলন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতার কারণে দেশ আজমবল্যান্ডেরূপ নিয়েছে। সামর্থ্য থাকলে সন্তানদের বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পোস্টে মাহবুব কবির মিলন লেখেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি যখন মানুষ আস্থা এবং সাহস হারায়, তখন সেটা পরিণত হয় মবল্যান্ডে। তখন যে যা ইচ্ছে, তাই করা শুরু করবে। সেদিন পুলিশের এক কর্মকর্তা বললেন, আগে আমি একাই অনেক ক্রিমিনাল ধরে তারপর গাড়িসহ ফোর্স ডেকেছি। এখন দলবলসহ কোথাও যেতেও ভয় লাগে। প্রতি আক্রমণ ও হামলার ভয়।

তিনি লেখেন, ‘৫ আগস্ট সারা দেশের থানা থেকে যত অস্ত্র লুট হয়েছে, তার ৫% অস্ত্রও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ডিমরালাইজড বাহিনী আজও তাদের সাহস, মনোবল এবং নিজের প্রতি নিজের আস্থা ফিরে পায়নি। সেটার প্রয়াসও নেয়া হয়নি।তিনি আরও লেখেন, ‘ইউনূস সরকারের সময় রাস্তায় আইন ভঙ্গ করে মানুষ, গাড়িঘোড়া আটকিয়ে বসে থাকলে সামনে এগিয়ে পুলিশ সার্জেন্টকে পরিচয় দিয়ে কিছু একটা করার জন্য অনুরোধ জানালে, তিনি বললেন, স্যার তাদের গায়ে হাত দিয়ে মাইর খেতে বলেন!! এরপর তো অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে আমার চাকুরি খাবে।

সন্ত্রাসীদের দ্বারা পুলিশ প্রায় আক্রমণের স্বীকার হচ্ছে। প্রাণ যাচ্ছে। র‍্যাবের কয়েকজন মারাও গেছে। খুন গুম করে র‍্যাব ধ্বংস হয়ে নতুন নাম ধারণ করছে। কিরূপে ফিরে আসবে জানি না। তবে কালো কাপড়ের একটা ভয়াবহ ভয় ছিল মানুষের। ভবিষ্যৎ আল্লাহ ভাল জানেন।মাহবুব কবির মিলন লেখেন, ‘আসামি ধরা পড়লেই প্রায় সবাই মন্তব্য করে বসে, “আরে দুইদিন পরেই বের হয়ে আসবে!” এমনকি হাতেনাতে ধৃত খুনের আসামীর ক্ষেত্রেও। একটা দেশের বিচার ব্যবস্থা কতটা আস্থাহীন হলে মানুষ এমন কথা বলতে পারে!! অসভ্য, বর্বর এবং পিশাচ একটা জাতির কোন সিরিয়ালে পড়ব আমরা!!’

গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল মহোদয় বলেছেন, সিন্ডিকেট করে আদালতের রায় প্রভাবিত করা যাবে না। তারমানে যাচ্ছে, গেছে এবং যাবে। তাহলে জনগণের শান্তি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সুবিচার ও ন্যায় বিচার ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কতটা শক্তিশালী, ডেডিকেটেড, কমিটেড, দলদাস মুক্ত প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ও দলীয় স্বার্থের ওপরে উঠে কাজ করতে হবে!! দলদাস এবং দুর্নীতিবাজ ও মেরুদণ্ডহীন প্রশাসন, বিচার ও রাজনৈতিক নেতা দিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত সেটা অর্জন করা যাবে না।তিনি লেখেন, ‘গতকালও একজন ক্লাস সেভেনের বাচ্চা মোবাইল ফোন নিয়ে বাইরে দিনেদুপুরে ফটো তুলতে গিয়ে এখনো ঘরে ফিরে আসেনি। প্রতিদিন কতজন শিশু নিখোঁজ হচ্ছে! ধর্ষণ, বলাৎকার আর হত্যার শিকার হচ্ছে!! কতটা ছিনতাই আর খুনের ঘটনা ঘটছে!! সেটা কি সহনীয় নাকি অসহনীয় মাত্রায়? সভ্য নাকি অসভ্য মাত্রায়? জনসংখ্যার তুলনায় লুত () এর কওমের বলাৎকার আমাদের চেয়ে কম নাকি বেশি, নাকি সমানসমান!!’

ডিমরালাইজড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যতদিন কার্যকরভাবে ফিরিয়ে আনা না যাবে, ততদিন নিজের জীবন নিজেই বাঁচান। পরিবারকে বাঁচান। এক মিনিটের জন্য বাচ্চাকে হাতছাড়া বা চোখের আড়ালে যেতে দেবেন না। না সিঁটিতে, না লিফটে। এমনকি স্কুল বা কোচিং সেন্টারে যেন একাকী না হয়। যে জাতির একটি মানুষকে কোনো দিক দিয়েই বিশ্বাস করার বিন্দুমাত্র উপায় থাকে না। সেটা আবার জাতি নাকি!!’ তিনি লেখেন, ‘সামর্থ্য থাকলে বাচ্চাদের বিদেশ পাঠিয়ে দিন। এখানে থাকলে খাদ্যের বিষে মরবে। ভেজাল ঔষধে মরবে। অপঘাতে মরবে। বিবেকের দংশনে মরবে। ধর্মের নামে অধর্মে মরবে।