খুলনা নগরের একটি ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরির’ অপবাদ দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোড সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চার তলা ভবনের ছাদে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে গুরতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আজমুল হোসেনের বয়স ২১ বছর। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। নগরীর বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আজমুল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, হাসপাতালে নেওয়ার প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর ওই যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
নগরীর হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, গভীর রাতে আজমুল হোসেন নামের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি পাঁচতলা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকতেন। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে-সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ওসি ইকবাল হোসেন আরও জানান, নিহতের পরিবার থানায় রয়েছে। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আইনগতভাবে যা যা করা যায়, আমরা তাই করব।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবনটির পুরোটা ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। চারতলায় মোট আটটি কক্ষ রয়েছে। ডি-২ কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।
মেসের ছাত্রদের কাছে স্থানীয়রা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে মেহেদীসহ মেসের কয়েকজন এবং বহিরাগত কয়েকজন তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।
পরে ছাদ থেকে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। কিছুক্ষণ পর তারা গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর মেসের অন্য ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, আজমুলের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দুই পাও ভাঙা ছিল।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে, তাই সেখানে সরাসরি আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে ঘটনাটি জানার পর থেকে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছি।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















