ঢাকা , বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের সঙ্গে টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে স্থানীয় বিএনপি নেতারা: রুমিন ফারহানা রামিসা হত্যা: অভিযুক্ত সোহেল রানার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা জামায়াতের বিরোধী দল হওয়ার যোগ্যতা নেই: রাশেদ খান রাষ্ট্রপতি হওয়ার চেষ্টা করছেন ড. ইউনূস: গোলাম মাওলা রনি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওমানে নিহত চার প্রবাসী ভাইয়ের জানাজা পড়ালেন বেঁচে থাকা একমাত্র ছোট ভাই কক্সবাজারের লেফটেন্যান্ট নির্জন হত্যা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য ভারতের প্রধান বিচারপতির, ক্ষোভে যুবক বানালো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আমি বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না: রামিসার বাবা

বিএনপি জোটের দুই আসনে প্রার্থীশূন্য, জামায়াতের সব বহাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২২০ বার পড়া হয়েছে

এবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে ভোটের মাঠে ফিরেছেন বাছাইয়ে বাদ পড়া ৭২৩ প্রার্থীর অর্ধেকেরও বেশি– ৪২৫ জন। এর মধ্যে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ১৬২ প্রার্থী রয়েছেন। অর্থাৎ আপিলে সমাধান পেয়েছেন বাদ পড়া প্রার্থীর প্রায় ৫৯ শতাংশ। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপিলে বৈধ বিবেচিত প্রার্থীর সংখ্যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে বিএনপি ও তার জোটের বিকল্প প্রার্থী না থাকায় আপাতত দুটি আসন দলটির প্রার্থীশূন্য রয়েছে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার। বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবে ইসি। ওই দিন থেকে শুরু হবে প্রচার-প্রচারণা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। এর আগে রোববার শেষ হওয়া ইসির ৯ দিনের আপিল শুনানিতে বাছাইয়ে বাদ পড়া ৮২ ঋণখেলাপির বেশির ভাগ প্রার্থিতা ফিরে পান। এর মধ্যে বিএনপির দুজন, জামায়াতের দুজনসহ অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন। আর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা ২৬ প্রার্থীর বিষয়ে শুনানি শেষে ২৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও তিনজনের বাতিল ঘোষণা করে ইসি। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির ১০ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৫, জাতীয় পার্টির ২, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১, ইসলামী আন্দোলনের ২, খেলাফত মজলিসের ১ এবং ২ স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। বাতিল হওয়া তিন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র একজন করে।

এদিকে সংবিধানে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার আবেদন জমার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন এই জটিলতায় থাকা প্রার্থীরা। এতে সংবিধান ও আদালতের নির্দেশনার লঙ্ঘন হয়েছে বলে ইসিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন সচেতন নাগরিক মামুন হাওলাদার। আবেদনে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া শুনানিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশির ভাগ দলের প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত জোটের অন্য শরিকরাও ছাড় পেয়েছে কমবেশি। ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দলগুলোর কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল হলেও টিকে গেছেন বাকিরা। তবে দলীয় প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইকালে দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে এক হাজার ৮৪২টি বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর পক্ষে তিনটি আসনে দাখিল করা তিনটি মনোনয়নপত্র বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম শেষ করে ইসি।

এরপর ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাতিল-গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা পড়ে ৬৪৫টি। ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি ইসির শুনানি শেষে ৪২৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পান, যা আগে বাদ পড়া প্রার্থীর ৫৮ দশমিক ৭৮ শতাংশের বেশি। এরই মধ্যে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন কমপক্ষে আরও তিনজন। ফলে এখন পর্যন্ত মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৬৪ জন। প্রার্থিতা ফিরে পেতে আরও অনেকে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। সেখানকার রায় শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের সঙ্গে টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে স্থানীয় বিএনপি নেতারা: রুমিন ফারহানা

বিএনপি জোটের দুই আসনে প্রার্থীশূন্য, জামায়াতের সব বহাল

আপডেট সময় ১০:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

এবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে ভোটের মাঠে ফিরেছেন বাছাইয়ে বাদ পড়া ৭২৩ প্রার্থীর অর্ধেকেরও বেশি– ৪২৫ জন। এর মধ্যে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ১৬২ প্রার্থী রয়েছেন। অর্থাৎ আপিলে সমাধান পেয়েছেন বাদ পড়া প্রার্থীর প্রায় ৫৯ শতাংশ। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপিলে বৈধ বিবেচিত প্রার্থীর সংখ্যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে বিএনপি ও তার জোটের বিকল্প প্রার্থী না থাকায় আপাতত দুটি আসন দলটির প্রার্থীশূন্য রয়েছে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার। বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবে ইসি। ওই দিন থেকে শুরু হবে প্রচার-প্রচারণা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। এর আগে রোববার শেষ হওয়া ইসির ৯ দিনের আপিল শুনানিতে বাছাইয়ে বাদ পড়া ৮২ ঋণখেলাপির বেশির ভাগ প্রার্থিতা ফিরে পান। এর মধ্যে বিএনপির দুজন, জামায়াতের দুজনসহ অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন। আর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা ২৬ প্রার্থীর বিষয়ে শুনানি শেষে ২৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও তিনজনের বাতিল ঘোষণা করে ইসি। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির ১০ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৫, জাতীয় পার্টির ২, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১, ইসলামী আন্দোলনের ২, খেলাফত মজলিসের ১ এবং ২ স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। বাতিল হওয়া তিন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র একজন করে।

এদিকে সংবিধানে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার আবেদন জমার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন এই জটিলতায় থাকা প্রার্থীরা। এতে সংবিধান ও আদালতের নির্দেশনার লঙ্ঘন হয়েছে বলে ইসিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন সচেতন নাগরিক মামুন হাওলাদার। আবেদনে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া শুনানিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশির ভাগ দলের প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত জোটের অন্য শরিকরাও ছাড় পেয়েছে কমবেশি। ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দলগুলোর কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল হলেও টিকে গেছেন বাকিরা। তবে দলীয় প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইকালে দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে এক হাজার ৮৪২টি বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর পক্ষে তিনটি আসনে দাখিল করা তিনটি মনোনয়নপত্র বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম শেষ করে ইসি।

এরপর ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাতিল-গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা পড়ে ৬৪৫টি। ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি ইসির শুনানি শেষে ৪২৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পান, যা আগে বাদ পড়া প্রার্থীর ৫৮ দশমিক ৭৮ শতাংশের বেশি। এরই মধ্যে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন কমপক্ষে আরও তিনজন। ফলে এখন পর্যন্ত মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৬৪ জন। প্রার্থিতা ফিরে পেতে আরও অনেকে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। সেখানকার রায় শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে।