ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ! অবরুদ্ধ হরমুজ: ট্রাম্পের অবরোধ ভাঙতে নামবে চীনের ভয়ঙ্কর নৌবহর? মার্কিন হুমকি তোয়াক্কা না করে হরমুজ পার হলো ইরানি সুপার ট্যাংকার ২৮০০ কোটি টাকার মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করল ইরান মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছি না: শিক্ষামন্ত্রী ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে: পেজেশকিয়ান তেহরানের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো সমাধানই মস্কো মেনে নেবে: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান থেকে তেল নিতে পারবে না চীন: যুক্তরাষ্ট্র আমাকে নতি স্বীকার করাতে বুশরা বিবিকে ‘অমানুষিক’ নির্যাতন করা হচ্ছে: ইমরান খান আমিও অনলাইন ক্লাস চাই না, কিন্তু পৃথিবী চায়: শিক্ষামন্ত্রী

শেখ সাহেব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন দেশ তিনি গড়তে চাননি: আযমী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • ১৯১৭ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, ‘শেখ সাহেব তারবার্তা পাঠিয়েছিলেন’ এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ ২৫ মার্চ একাধিক বিদেশি টিভি চ্যানেলের কাছে সুস্পষ্টভাবে তিনি বলেছেন, ‘তিনি স্বাধীনতা চান না’। মঙ্গলবার (২০ মে) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

‘প্রসঙ্গ: স্বাধীনতার রূপকার’ শিরোনামে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে শেখ মুজিবুর রহমান প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘একথা সবাই জানেন যে, শেখ সাহেব অখণ্ড পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন দেশ তিনি গড়তে চাননি। কেউ তা প্রমাণ করার মতো কোনো দলিল দিতে পারবেন না।’

‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, ২৫ মার্চ পাকবাহিনী অপারেশন সার্চলাইট শুরু করার অনেক আগেই সকল বেতার ও টেলিফোন ভবন তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় বলে শেখ সাহেব চাইলেও ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ চট্টগ্রামে পাঠানো সম্ভব ছিল না।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আরও হাস্যকর ব্যাপার হলো, ২৫ মার্চ রাতে শেখ সাহেব কি করে জানতেন যে তৎকালীন মেজর জিয়া, ৮ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক, উর্দুভাষী অধিনায়ককে হত্যা করে ব্যাটালিয়ন নিয়ে বিদ্রোহ করেছেন? সুতরাং ‘শেখ সাহেব তারবার্তা পাঠিয়েছিলেন’ এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

আমান আযমী লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের সব নেতারা ভারতে পালিয়ে যাবার পর, ১০ এপ্রিল ১৯৭১ তাজউদ্দীন সাহেব সম্পূর্ণ এককভাবে পাঁচ সদস্যের অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠন হয়েছে বলে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে জানিয়ে তার সাহায্য কামনা করেন, যদিও তখনো পর্যন্ত আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গেও উনার দেখা বা কথা হয়নি।’

এছাড়া, ‘কাউকে স্বাধীনতার রূপকার আদৌ বলা যাবে কিনা তা গবেষণার বিষয়’ উল্লেখ করে আমান আযমী আরও লেখেন, ‘তবে, শেখ সাহেবের ৭ মার্চ এর ভাষণ মুক্তিযুদ্ধে ক্যাটালিস্ট এর মতো কাজ করেছে। কার নেতৃত্ব স্বাধীন হয়েছে এটাও একটা বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিবেচনায় তাজউদ্দীন সাহেবের নেতৃত্বই ১৯৭১ সালে মূল ভূমিকা পালন করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্যান্য নেতাদের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকাই ছিল না।’

ফেসবুক পোস্টের শেষে আমান আযমী জানান, ‘সকল বিষয় বিবেচনা করে, আমার বাবা শেখ সাহেবকে স্বাধীনতার ‘স্থপতি’ বলেছেন। আমার মূল্যায়নে এটাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ!

শেখ সাহেব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন দেশ তিনি গড়তে চাননি: আযমী

আপডেট সময় ১২:০০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, ‘শেখ সাহেব তারবার্তা পাঠিয়েছিলেন’ এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ ২৫ মার্চ একাধিক বিদেশি টিভি চ্যানেলের কাছে সুস্পষ্টভাবে তিনি বলেছেন, ‘তিনি স্বাধীনতা চান না’। মঙ্গলবার (২০ মে) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

‘প্রসঙ্গ: স্বাধীনতার রূপকার’ শিরোনামে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে শেখ মুজিবুর রহমান প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘একথা সবাই জানেন যে, শেখ সাহেব অখণ্ড পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন দেশ তিনি গড়তে চাননি। কেউ তা প্রমাণ করার মতো কোনো দলিল দিতে পারবেন না।’

‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, ২৫ মার্চ পাকবাহিনী অপারেশন সার্চলাইট শুরু করার অনেক আগেই সকল বেতার ও টেলিফোন ভবন তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় বলে শেখ সাহেব চাইলেও ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ চট্টগ্রামে পাঠানো সম্ভব ছিল না।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আরও হাস্যকর ব্যাপার হলো, ২৫ মার্চ রাতে শেখ সাহেব কি করে জানতেন যে তৎকালীন মেজর জিয়া, ৮ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক, উর্দুভাষী অধিনায়ককে হত্যা করে ব্যাটালিয়ন নিয়ে বিদ্রোহ করেছেন? সুতরাং ‘শেখ সাহেব তারবার্তা পাঠিয়েছিলেন’ এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

আমান আযমী লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের সব নেতারা ভারতে পালিয়ে যাবার পর, ১০ এপ্রিল ১৯৭১ তাজউদ্দীন সাহেব সম্পূর্ণ এককভাবে পাঁচ সদস্যের অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠন হয়েছে বলে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে জানিয়ে তার সাহায্য কামনা করেন, যদিও তখনো পর্যন্ত আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গেও উনার দেখা বা কথা হয়নি।’

এছাড়া, ‘কাউকে স্বাধীনতার রূপকার আদৌ বলা যাবে কিনা তা গবেষণার বিষয়’ উল্লেখ করে আমান আযমী আরও লেখেন, ‘তবে, শেখ সাহেবের ৭ মার্চ এর ভাষণ মুক্তিযুদ্ধে ক্যাটালিস্ট এর মতো কাজ করেছে। কার নেতৃত্ব স্বাধীন হয়েছে এটাও একটা বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিবেচনায় তাজউদ্দীন সাহেবের নেতৃত্বই ১৯৭১ সালে মূল ভূমিকা পালন করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্যান্য নেতাদের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকাই ছিল না।’

ফেসবুক পোস্টের শেষে আমান আযমী জানান, ‘সকল বিষয় বিবেচনা করে, আমার বাবা শেখ সাহেবকে স্বাধীনতার ‘স্থপতি’ বলেছেন। আমার মূল্যায়নে এটাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত।’