ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চুরির অভিযোগে তিনজনকে হাত-পা বেঁধে পিটুনি, চোখে ঢালা হলো চুনের পানি বাক্‌স্বাধীনতা যেন বাক্ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা আলজেরিয়ার পাটওয়ারীর গাড়ি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কে আলোচনায় আসা সেই তুষার ভূঁইয়াকেই মাদারীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক করল এনসিপি ছাত্রদল নেতার বাসায় ডিবির অভিযান, ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার রাস্তার বেহাল দশা, এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকিং বিশ্ববিদ্যালয় দিল ৩৫ লাখ, ডাকসু করল ৩৫ কোটি টাকার কাজ যে-ই ক্ষমতায় যায় সে-ই হাসিনা হতে চায়: মামুনুল হক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার রাজকীয় আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হলো শিক্ষিকাকে

যুদ্ধকালীন ধাক্কায় নেতৃত্ব বদল! ইসরায়েলি হামলার পর ক্ষমতা হস্তান্তর করলেন খামেনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
  • ২৩৫১ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলের টার্গেটেড হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক ও বিজ্ঞানীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর, কঠিন নিরাপত্তা বাস্তবতায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। এমন বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল

প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর ‘সুপ্রিম কাউন্সিল’-এর হাতে তুলে দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইরানের অভ্যন্তরে চলমান ‘জরুরি যুদ্ধ পরিস্থিতি’ মোকাবিলার অংশ এবং ভবিষ্যতে যদি খামেনির মৃত্যু হয়, তখন যেন কমান্ড শূন্যতা না তৈরি হয়, সে জন্যই এটি একটি সতর্কতামূলক ক্ষমতা হস্তান্তর

এদিকে, পাঁচ দিন ধরে খামেনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার অবস্থান নিয়েও জল্পনা চলছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে তেহরানের উত্তর-পূর্বে লাভিজানে একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন। সঙ্গে রয়েছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা।

ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ডের প্রধানকে হত্যা করেছে, যা দেশটির সামরিক নেতৃত্বে বড় ধাক্কা। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এক পোস্টে বলেছেন,

“আমরা জানি খামেনি কোথায় আছেন। তিনি একটি সহজ লক্ষ্যবস্তু, কিন্তু আমরা এখন তাকে হত্যা করছি না।”

ট্রাম্প আরও বলেন,

“আমরা চাই না বেসামরিক মানুষ বা মার্কিন সৈন্যদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে আমাদের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।”

ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলেও, বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, দেশটি এখন এক বাস্তবিক জরুরি অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা বাড়ছে, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ, জনসচারণা সীমিতকরণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

খামেনির এ সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্য এখন একটি সামরিক নেতৃত্বনির্ভর মডেলে ঢুকে পড়ছে
বিশ্লেষকরা বলছেন, মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি করার প্রস্তুতি অনেক দিন ধরেই চলছিল, তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া নতুন কৌশল হতে পারে।

ইসরায়েলি হামলার সরাসরি জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত করেছে, তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার চাপে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের এই ব্যাকফুটে যাওয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় বার্তা দিচ্ছে।

সূত্র:

  • ইরান ইন্টারন্যাশনাল

  • রয়টার্স

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চুরির অভিযোগে তিনজনকে হাত-পা বেঁধে পিটুনি, চোখে ঢালা হলো চুনের পানি

যুদ্ধকালীন ধাক্কায় নেতৃত্ব বদল! ইসরায়েলি হামলার পর ক্ষমতা হস্তান্তর করলেন খামেনি

আপডেট সময় ১১:২৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫

ইসরায়েলের টার্গেটেড হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক ও বিজ্ঞানীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর, কঠিন নিরাপত্তা বাস্তবতায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। এমন বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল

প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর ‘সুপ্রিম কাউন্সিল’-এর হাতে তুলে দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইরানের অভ্যন্তরে চলমান ‘জরুরি যুদ্ধ পরিস্থিতি’ মোকাবিলার অংশ এবং ভবিষ্যতে যদি খামেনির মৃত্যু হয়, তখন যেন কমান্ড শূন্যতা না তৈরি হয়, সে জন্যই এটি একটি সতর্কতামূলক ক্ষমতা হস্তান্তর

এদিকে, পাঁচ দিন ধরে খামেনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার অবস্থান নিয়েও জল্পনা চলছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে তেহরানের উত্তর-পূর্বে লাভিজানে একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন। সঙ্গে রয়েছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা।

ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ডের প্রধানকে হত্যা করেছে, যা দেশটির সামরিক নেতৃত্বে বড় ধাক্কা। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এক পোস্টে বলেছেন,

“আমরা জানি খামেনি কোথায় আছেন। তিনি একটি সহজ লক্ষ্যবস্তু, কিন্তু আমরা এখন তাকে হত্যা করছি না।”

ট্রাম্প আরও বলেন,

“আমরা চাই না বেসামরিক মানুষ বা মার্কিন সৈন্যদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে আমাদের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।”

ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলেও, বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, দেশটি এখন এক বাস্তবিক জরুরি অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা বাড়ছে, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ, জনসচারণা সীমিতকরণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

খামেনির এ সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্য এখন একটি সামরিক নেতৃত্বনির্ভর মডেলে ঢুকে পড়ছে
বিশ্লেষকরা বলছেন, মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি করার প্রস্তুতি অনেক দিন ধরেই চলছিল, তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া নতুন কৌশল হতে পারে।

ইসরায়েলি হামলার সরাসরি জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত করেছে, তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার চাপে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের এই ব্যাকফুটে যাওয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় বার্তা দিচ্ছে।

সূত্র:

  • ইরান ইন্টারন্যাশনাল

  • রয়টার্স