ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নীতির জটিলতায় তিন বছর পিছিয়ে ৭ হাজার কোটির স্টিল কারখানা ব্যক্তিগত আবেগে কি পররাষ্ট্রনীতি চলে? রাজনৈতিক দল বাতিল হতে পারে যে কারণে, জানালেন ইসি সানাউল্লাহ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন: আইনমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদ দেশের সংকট তৈরি করে গেছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের লাইসেন্স নবায়নের সময় বাড়ল সরকার সংবিধান মেনেই করেছে, কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি: আইনমন্ত্রী ঢাকা ক্লাবের সভাপতিসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমন জারি ওসমান হাদির সেই বক্তব্য টেনে এনে এনসিপিকে নিয়ে যা বললেন রাশেদ খাঁন

কলকাতা থেকে নিয়ন্ত্রণ: ৪টি লাইসেন্সে ইলিশ রপ্তানিতে আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৭৪ বার পড়া হয়েছে

ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পাওয়া ৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা আওয়ামী লীগ নেতা নিরব হোসেন টুটুলের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে দুইটি তার কন্যাদের নামে, একটি ছোট মামার নামে এবং আরেকটি মামাতো ভাইয়ের নামে নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন সূত্র জানিয়েছে, টুটুলের তানিসা এন্টারপ্রাইজ ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৬০ কেজি ইলিশ ভারতে পাঠিয়েছে। দুই দিনে মোট প্রায় ২ হাজার কেজি ইলিশ গেছে কলকাতায়।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কলকাতায় পালিয়ে যাওয়া টুটুল বর্তমানে সেখান থেকেই বরিশালের পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, টুটুলের অনুপস্থিতিতেও তার লোকজন আগের মতোই মোকামে মাছ কিনছেন। ফলে এখনো কার্যত টুটুলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এই মোকাম।

বরিশালের দ্বিতীয় মেয়র হিসাবে পরিচিত টুটুল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক। সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে নগরীর হাট-ঘাট-বাজার-বাসস্ট্যান্ডের ইজারাদারি নিয়ন্ত্রণসহ মাছের ব্যবসায় অঘোষিত সম্রাট ছিলেন তিনি। পা হারিয়ে কৃত্রিম পা ব্যবহার করলেও এক সময় তাকে বরিশালে সবাই “টুটুল মামা” নামে চিনত।

এদিকে মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের বরিশাল মহানগর সদস্য সচিব কামাল সিকদার বলেছেন, ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার, তাই তারা কারও ব্যবসায় বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না। অন্যদিকে টুটুলের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতার যোগসাজশের অভিযোগ উঠলেও তারা তা অস্বীকার করেছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে ২০ থেকে ৫০ টনের বেশি ইলিশ পাঠানো যাবে না। এই নিয়ম মাথায় রেখেই টুটুল ৪টি লাইসেন্স নিয়েছেন, যাতে কমপক্ষে ২০০ টন ইলিশ রপ্তানি করতে পারেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

কলকাতায় অবস্থানরত নিরব হোসেন টুটুলের ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নীতির জটিলতায় তিন বছর পিছিয়ে ৭ হাজার কোটির স্টিল কারখানা

কলকাতা থেকে নিয়ন্ত্রণ: ৪টি লাইসেন্সে ইলিশ রপ্তানিতে আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল

আপডেট সময় ১২:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পাওয়া ৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা আওয়ামী লীগ নেতা নিরব হোসেন টুটুলের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে দুইটি তার কন্যাদের নামে, একটি ছোট মামার নামে এবং আরেকটি মামাতো ভাইয়ের নামে নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন সূত্র জানিয়েছে, টুটুলের তানিসা এন্টারপ্রাইজ ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৬০ কেজি ইলিশ ভারতে পাঠিয়েছে। দুই দিনে মোট প্রায় ২ হাজার কেজি ইলিশ গেছে কলকাতায়।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কলকাতায় পালিয়ে যাওয়া টুটুল বর্তমানে সেখান থেকেই বরিশালের পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, টুটুলের অনুপস্থিতিতেও তার লোকজন আগের মতোই মোকামে মাছ কিনছেন। ফলে এখনো কার্যত টুটুলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এই মোকাম।

বরিশালের দ্বিতীয় মেয়র হিসাবে পরিচিত টুটুল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক। সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে নগরীর হাট-ঘাট-বাজার-বাসস্ট্যান্ডের ইজারাদারি নিয়ন্ত্রণসহ মাছের ব্যবসায় অঘোষিত সম্রাট ছিলেন তিনি। পা হারিয়ে কৃত্রিম পা ব্যবহার করলেও এক সময় তাকে বরিশালে সবাই “টুটুল মামা” নামে চিনত।

এদিকে মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের বরিশাল মহানগর সদস্য সচিব কামাল সিকদার বলেছেন, ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার, তাই তারা কারও ব্যবসায় বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না। অন্যদিকে টুটুলের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতার যোগসাজশের অভিযোগ উঠলেও তারা তা অস্বীকার করেছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে ২০ থেকে ৫০ টনের বেশি ইলিশ পাঠানো যাবে না। এই নিয়ম মাথায় রেখেই টুটুল ৪টি লাইসেন্স নিয়েছেন, যাতে কমপক্ষে ২০০ টন ইলিশ রপ্তানি করতে পারেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

কলকাতায় অবস্থানরত নিরব হোসেন টুটুলের ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।