ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বোয়িং থেকে ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ, অভিনন্দন জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রতিমন্ত্রীর সামনেই ছাত্রদলের দু’গ্রুপের হট্টগোল-হাতাহাতি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সমর্থন না দিতে কালাসকে সতর্ক করলেন আরাগচি হজের কোটায় বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৫ম জাতিসংঘে ইসরায়েলের হয়ে ‘ব্যাট করলেন’ আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যাবে না: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান হাঁস-মুরগি-লাউ নিয়ে ওসিকে বিদায় জানাতে এলেন এলাকাবাসী গণমানুষের কষ্ট লাঘব না হলে রাজপথে নামতে বাধ্য হব: চরমোনাই পীর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই গণধোলাইয়ের নির্দেশ বিএনপি নেতার শিবির সভাপতি ইমরান ক্ষমা না চাইলে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেবে ছাত্রদল, ২৪ ঘণ্টার আল্টেমেটাম

কলকাতা থেকে নিয়ন্ত্রণ: ৪টি লাইসেন্সে ইলিশ রপ্তানিতে আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৮৯ বার পড়া হয়েছে

ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পাওয়া ৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা আওয়ামী লীগ নেতা নিরব হোসেন টুটুলের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে দুইটি তার কন্যাদের নামে, একটি ছোট মামার নামে এবং আরেকটি মামাতো ভাইয়ের নামে নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন সূত্র জানিয়েছে, টুটুলের তানিসা এন্টারপ্রাইজ ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৬০ কেজি ইলিশ ভারতে পাঠিয়েছে। দুই দিনে মোট প্রায় ২ হাজার কেজি ইলিশ গেছে কলকাতায়।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কলকাতায় পালিয়ে যাওয়া টুটুল বর্তমানে সেখান থেকেই বরিশালের পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, টুটুলের অনুপস্থিতিতেও তার লোকজন আগের মতোই মোকামে মাছ কিনছেন। ফলে এখনো কার্যত টুটুলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এই মোকাম।

বরিশালের দ্বিতীয় মেয়র হিসাবে পরিচিত টুটুল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক। সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে নগরীর হাট-ঘাট-বাজার-বাসস্ট্যান্ডের ইজারাদারি নিয়ন্ত্রণসহ মাছের ব্যবসায় অঘোষিত সম্রাট ছিলেন তিনি। পা হারিয়ে কৃত্রিম পা ব্যবহার করলেও এক সময় তাকে বরিশালে সবাই “টুটুল মামা” নামে চিনত।

এদিকে মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের বরিশাল মহানগর সদস্য সচিব কামাল সিকদার বলেছেন, ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার, তাই তারা কারও ব্যবসায় বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না। অন্যদিকে টুটুলের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতার যোগসাজশের অভিযোগ উঠলেও তারা তা অস্বীকার করেছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে ২০ থেকে ৫০ টনের বেশি ইলিশ পাঠানো যাবে না। এই নিয়ম মাথায় রেখেই টুটুল ৪টি লাইসেন্স নিয়েছেন, যাতে কমপক্ষে ২০০ টন ইলিশ রপ্তানি করতে পারেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

কলকাতায় অবস্থানরত নিরব হোসেন টুটুলের ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়িং থেকে ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ, অভিনন্দন জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

কলকাতা থেকে নিয়ন্ত্রণ: ৪টি লাইসেন্সে ইলিশ রপ্তানিতে আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল

আপডেট সময় ১২:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পাওয়া ৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা আওয়ামী লীগ নেতা নিরব হোসেন টুটুলের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে দুইটি তার কন্যাদের নামে, একটি ছোট মামার নামে এবং আরেকটি মামাতো ভাইয়ের নামে নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন সূত্র জানিয়েছে, টুটুলের তানিসা এন্টারপ্রাইজ ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৬০ কেজি ইলিশ ভারতে পাঠিয়েছে। দুই দিনে মোট প্রায় ২ হাজার কেজি ইলিশ গেছে কলকাতায়।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কলকাতায় পালিয়ে যাওয়া টুটুল বর্তমানে সেখান থেকেই বরিশালের পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, টুটুলের অনুপস্থিতিতেও তার লোকজন আগের মতোই মোকামে মাছ কিনছেন। ফলে এখনো কার্যত টুটুলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এই মোকাম।

বরিশালের দ্বিতীয় মেয়র হিসাবে পরিচিত টুটুল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক। সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে নগরীর হাট-ঘাট-বাজার-বাসস্ট্যান্ডের ইজারাদারি নিয়ন্ত্রণসহ মাছের ব্যবসায় অঘোষিত সম্রাট ছিলেন তিনি। পা হারিয়ে কৃত্রিম পা ব্যবহার করলেও এক সময় তাকে বরিশালে সবাই “টুটুল মামা” নামে চিনত।

এদিকে মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের বরিশাল মহানগর সদস্য সচিব কামাল সিকদার বলেছেন, ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার, তাই তারা কারও ব্যবসায় বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না। অন্যদিকে টুটুলের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতার যোগসাজশের অভিযোগ উঠলেও তারা তা অস্বীকার করেছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে ২০ থেকে ৫০ টনের বেশি ইলিশ পাঠানো যাবে না। এই নিয়ম মাথায় রেখেই টুটুল ৪টি লাইসেন্স নিয়েছেন, যাতে কমপক্ষে ২০০ টন ইলিশ রপ্তানি করতে পারেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

কলকাতায় অবস্থানরত নিরব হোসেন টুটুলের ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।