ইরানকে কখনও আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরান কখনো আগ্রাসী ছিল না, যুদ্ধ শুরু করেনি এবং সবসময় আলোচনার টেবিলে সমাধানের চেষ্টা করেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, তারা বুঝে গেছে, ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যাবে না। আমরা কখনও মাথা নত করব না, হাঁটু গেড়ে বসব না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করে। তবে দেশের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করবে না তেহরান।
ভাষণে হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, এই জলপথ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বা অস্ত্র ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালির কাছে ‘শক্তিশালী প্রতিবেশী’ চায়। তবে যারা ইরানের জনগণের ওপর অনিরাপত্তা চাপিয়ে দিতে চায়, তাদের এই জলপথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না।
পেজেশকিয়ান বলেন, কেউ এই জলপথ থেকে সুবিধা নেবে, আবার একই পথ ব্যবহার করে আমাদের ওপর আগ্রাসন ও অনিরাপত্তা চাপিয়ে দেবে— এটা হতে পারে না।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হতো।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, তেহরানের লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নয়, বরং শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি আমাদের দেশের উন্নয়নের অংশ। কয়েকটি দেশের হাতে এই প্রযুক্তি একচেটিয়া থাকতে পারে না।
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধ চলছে। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল আশঙ্কা করে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলছি— পারমাণবিক অস্ত্র নয়, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও নয়।
এর আগে ভাষণের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের জনগণ ‘সন্ত্রাসবাদের শিকার’।
পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সন্ত্রাসী হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর জবাবে তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছি।
এ সময় তিনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি তুলে ধরেন। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার প্রথম দিনে তেহরানে তার অবস্থানে বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন।
এ ছাড়া মিনাবের একটি স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের ছবিও দেখান তিনি। ইরানের দাবি, ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত ছিল। তবে এ অভিযোগ নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে জাতিসংঘের একটি তদন্ত মিশন জানিয়েছিল, ইরানের একটি স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় হামলার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















