ঢাকা , শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রিসোর্টের ‘৫০১’ ঘটনা ছিল ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যর্থ প্রজেক্ট: মামুনুল হক নেত্রকোনায় ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী শিশু: দেড় মাস পর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহন তালুকদারের আত্মসমর্পণ মোহাম্মাদপুরে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছিলাম, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুরি হয়ে গেছে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রদর্শনীতে কোরআনের ৪০০ বছরের পুরোনো বিরল পাণ্ডুলিপি মেসির সেই ট্যাকল নিয়ে রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে অভিযোগ আলজেরিয়ার এনসিপির কিছু সাংগঠনিক কার্যক্রম ‘মদের বারে’ হচ্ছে: রাশেদ খাঁন বিয়ার নয়, আমরা ভাত খাই: ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ২০টি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন ভারত ‘মাদক কোরআনেও হারাম, বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্যও হারাম’ নেইমার বিশ্বের প্রথম ‘হোম অফিস’ করা খেলোয়াড়: ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট

চরমোনাই পীরের দরবারে নুরুল হক নুর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯৫ বার পড়া হয়েছে

এবার চরমোনাই পীরের দরবারে আবার দারস্থ হলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের প্রার্থী নুরুল হক নুর (ভিপি নুর)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তিনি প্রায় ৩ ঘণ্টা চরমোনাই পীরের দরবারে অবস্থান করেন। চরমোনাই পীর ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ও জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে তিনি ইসলামী আন্দোলনের সমর্থন চেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনে ভিপি নুর বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থী হয়েছেন। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য (বহিষ্কৃত) হাসান মামুন সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলের হাইকমান্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও মামুনকে প্রার্থিতা থেকে সরাতে পারেনি। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, বিএনপির দুই উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা হাসান মামুনের পক্ষ নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপি শাস্তিস্বরূপ মামুনকে বহিষ্কার এবং গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা কমিটি বাতিল করেছে। এতে শোকরানা আদায় করে বিএনপির নেতাকর্মীরা মামুনের পক্ষে আরও শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে নুরের পক্ষে আছেন বিএনপির বিগত কমিটির পদবঞ্চিত একটি অংশ। এসব কারণে নুর ভোটের মাঠে অস্বস্তিকর পরি০স্থিতিতে আছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ভিপি নুর গতকাল দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চরমোনাই পীরের দরবারে অবস্থান করেন। সূত্র নিশ্চিত করেছে, তিনি সেখানে জোহরের নামাজ আদায় করেন এবং দুপুরের খাবার খান। তিনি চরমোনাই পীর ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন পীরের আরেক ভাই দলের সহকারী মহাসচিব সৈয়দ এছাহাক আবুল খায়ের।

তিনি বলেন, ‘নুর নির্বাচনের জন্য পীরের কাছে দোয়া চেয়েছেন। পীর দোয়া দিয়ে বলেছেন, আপনিও আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ ভিপি নুর পটুয়াখালী-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থন চেয়েছেন কিনা– এমন প্রশ্নে আবুল খায়ের বলেন, ‘ভোটের সময় দোয়া চাওয়ার অর্থ হচ্ছে সমর্থন চাওয়া। আমাদের আমির এ বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।’ এ বিষয়ে নুরের মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হয় চরমোনাই গিয়েছিলেন কিনা। প্রশ্ন শুনে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পটুয়াখালী-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হলেন মোহাম্মদ আবু বক্কর ছিদ্দিক। এ আসনে তাঁকে তৃতীয় শক্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে তিনি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার ভোট পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিপি নুর ২০২৪ সালের ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর চরমোনাই দরবারের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তখন তিনি বক্তৃতায় ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী জোট করার আহ্বান জানান। তাঁর দল গণঅধিকার পরিষদেরও জোটে থাকার কথা ছিল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর তিনি বিএনপির সমর্থনে প্রার্থী হন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রিসোর্টের ‘৫০১’ ঘটনা ছিল ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যর্থ প্রজেক্ট: মামুনুল হক

চরমোনাই পীরের দরবারে নুরুল হক নুর

আপডেট সময় ১০:০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

এবার চরমোনাই পীরের দরবারে আবার দারস্থ হলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের প্রার্থী নুরুল হক নুর (ভিপি নুর)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তিনি প্রায় ৩ ঘণ্টা চরমোনাই পীরের দরবারে অবস্থান করেন। চরমোনাই পীর ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ও জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে তিনি ইসলামী আন্দোলনের সমর্থন চেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনে ভিপি নুর বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থী হয়েছেন। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য (বহিষ্কৃত) হাসান মামুন সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলের হাইকমান্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও মামুনকে প্রার্থিতা থেকে সরাতে পারেনি। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, বিএনপির দুই উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা হাসান মামুনের পক্ষ নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপি শাস্তিস্বরূপ মামুনকে বহিষ্কার এবং গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা কমিটি বাতিল করেছে। এতে শোকরানা আদায় করে বিএনপির নেতাকর্মীরা মামুনের পক্ষে আরও শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে নুরের পক্ষে আছেন বিএনপির বিগত কমিটির পদবঞ্চিত একটি অংশ। এসব কারণে নুর ভোটের মাঠে অস্বস্তিকর পরি০স্থিতিতে আছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ভিপি নুর গতকাল দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চরমোনাই পীরের দরবারে অবস্থান করেন। সূত্র নিশ্চিত করেছে, তিনি সেখানে জোহরের নামাজ আদায় করেন এবং দুপুরের খাবার খান। তিনি চরমোনাই পীর ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন পীরের আরেক ভাই দলের সহকারী মহাসচিব সৈয়দ এছাহাক আবুল খায়ের।

তিনি বলেন, ‘নুর নির্বাচনের জন্য পীরের কাছে দোয়া চেয়েছেন। পীর দোয়া দিয়ে বলেছেন, আপনিও আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ ভিপি নুর পটুয়াখালী-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থন চেয়েছেন কিনা– এমন প্রশ্নে আবুল খায়ের বলেন, ‘ভোটের সময় দোয়া চাওয়ার অর্থ হচ্ছে সমর্থন চাওয়া। আমাদের আমির এ বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।’ এ বিষয়ে নুরের মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হয় চরমোনাই গিয়েছিলেন কিনা। প্রশ্ন শুনে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পটুয়াখালী-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হলেন মোহাম্মদ আবু বক্কর ছিদ্দিক। এ আসনে তাঁকে তৃতীয় শক্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে তিনি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার ভোট পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিপি নুর ২০২৪ সালের ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর চরমোনাই দরবারের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তখন তিনি বক্তৃতায় ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী জোট করার আহ্বান জানান। তাঁর দল গণঅধিকার পরিষদেরও জোটে থাকার কথা ছিল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর তিনি বিএনপির সমর্থনে প্রার্থী হন।