সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে চার শতাব্দী পুরোনো এক বিরল কোরআনের পাণ্ডুলিপি। ঐতিহাসিক এই নিদর্শন ইসলামী সভ্যতার শিল্প, সাহিত্য ও ক্যালিগ্রাফির অনন্য ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরছে দর্শনার্থীদের সামনে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পাণ্ডুলিপিটির বয়স ৪০০ বছরেরও বেশি। এটি হিজরি ১১শ শতাব্দী বা খ্রিস্টীয় ১৭শ শতাব্দীর সময়কার বলে ধারণা করা হয়। সূক্ষ্ম সোনালি অলংকরণ, উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার এবং নিখুঁত হস্তলিপির কারণে এটি জাদুঘরের অন্যতম মূল্যবান সংগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠা ফুলেল নকশা ও জটিল অলংকরণে সজ্জিত। বিশেষ করে সূরা আল-ফাতিহা সংবলিত প্রথম অংশটি দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে। জ্যামিতিক নকশা ও সোনালি অলংকরণের সমন্বয়ে তৈরি এই অংশটি সে সময়ের শিল্পকুশলতার অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই পাণ্ডুলিপি শুধু ধর্মীয় গুরুত্বই বহন করে না, বরং ইসলামী ক্যালিগ্রাফি ও অলংকরণশিল্পের উৎকর্ষতারও এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সে সময়ের শিল্পীরা কোরআনের লেখাকে শুধু পাঠ্য হিসেবে নয়, বরং এক অনন্য শিল্পরূপে উপস্থাপন করেছিলেন।
মক্কার হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত পবিত্র কোরআন জাদুঘরে সংরক্ষিত এই পাণ্ডুলিপি এমন একটি সংগ্রহের অংশ, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কোরআনের লিপি ও অলংকরণশিল্পের বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের ইসলামী পাণ্ডুলিপি শিল্পের সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, যুগে যুগে মুসলমানরা কীভাবে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শিল্পসৌন্দর্যের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনকে সংরক্ষণ করে আসছেন।
চার শতাব্দী পুরোনো এই কোরআনের পাণ্ডুলিপি আজও ইসলামী ঐতিহ্য, জ্ঞানচর্চা ও শিল্পকলার এক উজ্জ্বল সাক্ষ্য হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে চলেছে।
সূত্র: গালফ নিউজ

ডেস্ক রিপোর্ট 























