ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাজধানীতে একদিনে সাত এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পারমাণবিক পরিবারে প্রবেশ করল বাংলাদেশ ৩৩ মাস পর ভারতীয় কারাগার থেকে দেশে ফিরলেন ৩ বাংলাদেশি সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন বিএনপি নেতা বাচ্চু রাজধানীর ৮ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ উনি যে জেলায় যান সে জেলাতেই বিয়ে করেন: সাবেক ওসির ষষ্ঠ স্ত্রী সরকারি জমিতে গণঅধিকারের অফিস নির্মাণে বাধা, সংঘর্ষে ১৫ জন আহত রাজধানীর ৪ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাদ যায়নি থানা এলাকাও বাংলাদেশসহ প্রত্যেককে ১২৩ কোটি টাকা করে দেওয়ার দাবিতে ইনফান্তিনোকে চিঠি ইয়েমেন যুদ্ধে ‘ধরাশায়ী’, ৪ দেশের কাছে ‘ভাড়ায়’ সৈন্য চায় সৌদি

ওনার প্রেসিডেন্ট হওয়াটা একইসঙ্গে আনন্দের ও হতাশার: ফাহাম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০৯ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আনন্দ ও হতাশা—দুই অনুভূতির কথাই জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির মেয়ের জামাতা ও লেখক-গবেষক ফাহাম আবদুস সালাম। একইসঙ্গে মির্জা ফখরুলকে তিনি আখ্যা দিয়েছেন ‘দায়িত্বশীল বড় ছেলে’ হিসেবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান ফাহাম। পাশাপাশি প্রায় ২২ বছর ধরে তাকে চেনার অভিজ্ঞতা থেকে তার ব্যক্তিত্ব, দায়িত্ববোধ ও রাজনৈতিক ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ফাহাম বলেন, তার জীবনে মির্জা ফখরুলের মতো দায়িত্বশীল মানুষ তিনি মাত্র দুজনকে দেখেছেন। অন্যজন তার ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ছাদিক স্যার।

মির্জা ফখরুলের দায়িত্ববোধের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি লেখেন, সাত ভাইবোনের জন্য ছয়টি চকলেট পেলেও তিনি নিজের ভাগ না নিয়ে অন্যদের দিয়ে খুশি থাকতে পারেন। পরিবারের বড় ছেলের মতো অন্যদের দায়িত্ব নেওয়ার এই মানসিকতাই মির্জা ফখরুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেন ফাহাম।

তার ভাষ্য, যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে কাজে লাগানোর প্রবল মানসিকতা রয়েছে মির্জা ফখরুলের মধ্যে। এমনকি ক্যানবেরায় ছুটি কাটাতে গিয়েও তিনি বসে থাকতে না পেরে ঘর পরিষ্কার করা শুরু করেন বলে জানান ফাহাম। তার মতে, এই গুণ ও ভদ্র আচরণই মির্জা ফখরুলের সাফল্যের অন্যতম কারণ।

পোস্টে ৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে একান্ত আলাপের স্মৃতিও তুলে ধরেন ফাহাম। তার দাবি, ওই সময় মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারা এবং নির্বাচন হলে দেশে গণতন্ত্র ফিরবে—এটাই তার জীবনের কাজ পূর্ণ হওয়ার মতো বিষয়।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারাকে মির্জা ফখরুল নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতেন বলেও উল্লেখ করেন ফাহাম। তার মতে, বিএনপির সাবেক মহাসচিব নিজের ভালো-মন্দের আগে দল ও নেতার স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

ফাহাম আরও বলেন, বিএনপির তরুণ নেতাকর্মীদের অনেকে মির্জা ফখরুলকে ‘বাংলাদেশের মহাসচিব’ বলে থাকেন। তার মতে, এর পেছনে যুক্তিও রয়েছে। কারণ মির্জা ফখরুল দলীয় স্বার্থের আগে বাংলাদেশকে দেখতে চান। তার বক্তব্য সবার পছন্দ নাও হতে পারে, তবে তিনি যা বিশ্বাস করেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন।

দেশে গণতন্ত্র চর্চা প্রসঙ্গেও মির্জা ফখরুলের প্রশংসা করেন ফাহাম। তার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় কোনো রাজনৈতিক নেতার পক্ষেই শতভাগ গণতান্ত্রিক চর্চা করা সহজ নয়। তারপরও মির্জা ফখরুল সারাজীবন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে গেছেন এবং সুযোগ পেলে সবার আগে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়াবেন।

তবে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে নিজের জন্য একইসঙ্গে আনন্দ ও হতাশার বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন ফাহাম।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজন মানুষ প্রয়োজন, যাকে জাতি অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। সে দিক থেকে মির্জা ফখরুলকে সঠিক ব্যক্তি মনে করেন তিনি। তবে একইসঙ্গে বিএনপির জন্যও এমন একজন মানুষের প্রয়োজন ছিল, যিনি নিজের আগে দল ও দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেন। ফলে তার বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন ফাহাম।

মির্জা ফখরুলকে ঘিরে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের অভিনন্দনের কথাও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। ফাহামের দাবি, তার জীবদ্দশায় কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা এতটা ‘জেনুইন বাইপার্টিজান’ সমর্থন পেয়েছেন কি না, তা তার মনে পড়ে না।

ফাহাম আরও উল্লেখ করেন, মির্জা ফখরুল ‘মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ’ নন এবং বিএনপির ভেতরেও তার নিজস্ব কোনো গ্রুপিং নেই। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নির্বাচনকে দেশের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন ফাহাম আবদুস সালাম।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে একদিনে সাত এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন

ওনার প্রেসিডেন্ট হওয়াটা একইসঙ্গে আনন্দের ও হতাশার: ফাহাম

আপডেট সময় ১০:৫১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আনন্দ ও হতাশা—দুই অনুভূতির কথাই জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির মেয়ের জামাতা ও লেখক-গবেষক ফাহাম আবদুস সালাম। একইসঙ্গে মির্জা ফখরুলকে তিনি আখ্যা দিয়েছেন ‘দায়িত্বশীল বড় ছেলে’ হিসেবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান ফাহাম। পাশাপাশি প্রায় ২২ বছর ধরে তাকে চেনার অভিজ্ঞতা থেকে তার ব্যক্তিত্ব, দায়িত্ববোধ ও রাজনৈতিক ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ফাহাম বলেন, তার জীবনে মির্জা ফখরুলের মতো দায়িত্বশীল মানুষ তিনি মাত্র দুজনকে দেখেছেন। অন্যজন তার ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ছাদিক স্যার।

মির্জা ফখরুলের দায়িত্ববোধের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি লেখেন, সাত ভাইবোনের জন্য ছয়টি চকলেট পেলেও তিনি নিজের ভাগ না নিয়ে অন্যদের দিয়ে খুশি থাকতে পারেন। পরিবারের বড় ছেলের মতো অন্যদের দায়িত্ব নেওয়ার এই মানসিকতাই মির্জা ফখরুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেন ফাহাম।

তার ভাষ্য, যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে কাজে লাগানোর প্রবল মানসিকতা রয়েছে মির্জা ফখরুলের মধ্যে। এমনকি ক্যানবেরায় ছুটি কাটাতে গিয়েও তিনি বসে থাকতে না পেরে ঘর পরিষ্কার করা শুরু করেন বলে জানান ফাহাম। তার মতে, এই গুণ ও ভদ্র আচরণই মির্জা ফখরুলের সাফল্যের অন্যতম কারণ।

পোস্টে ৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে একান্ত আলাপের স্মৃতিও তুলে ধরেন ফাহাম। তার দাবি, ওই সময় মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারা এবং নির্বাচন হলে দেশে গণতন্ত্র ফিরবে—এটাই তার জীবনের কাজ পূর্ণ হওয়ার মতো বিষয়।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারাকে মির্জা ফখরুল নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতেন বলেও উল্লেখ করেন ফাহাম। তার মতে, বিএনপির সাবেক মহাসচিব নিজের ভালো-মন্দের আগে দল ও নেতার স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

ফাহাম আরও বলেন, বিএনপির তরুণ নেতাকর্মীদের অনেকে মির্জা ফখরুলকে ‘বাংলাদেশের মহাসচিব’ বলে থাকেন। তার মতে, এর পেছনে যুক্তিও রয়েছে। কারণ মির্জা ফখরুল দলীয় স্বার্থের আগে বাংলাদেশকে দেখতে চান। তার বক্তব্য সবার পছন্দ নাও হতে পারে, তবে তিনি যা বিশ্বাস করেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন।

দেশে গণতন্ত্র চর্চা প্রসঙ্গেও মির্জা ফখরুলের প্রশংসা করেন ফাহাম। তার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় কোনো রাজনৈতিক নেতার পক্ষেই শতভাগ গণতান্ত্রিক চর্চা করা সহজ নয়। তারপরও মির্জা ফখরুল সারাজীবন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে গেছেন এবং সুযোগ পেলে সবার আগে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়াবেন।

তবে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে নিজের জন্য একইসঙ্গে আনন্দ ও হতাশার বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন ফাহাম।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজন মানুষ প্রয়োজন, যাকে জাতি অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। সে দিক থেকে মির্জা ফখরুলকে সঠিক ব্যক্তি মনে করেন তিনি। তবে একইসঙ্গে বিএনপির জন্যও এমন একজন মানুষের প্রয়োজন ছিল, যিনি নিজের আগে দল ও দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেন। ফলে তার বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন ফাহাম।

মির্জা ফখরুলকে ঘিরে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের অভিনন্দনের কথাও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। ফাহামের দাবি, তার জীবদ্দশায় কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা এতটা ‘জেনুইন বাইপার্টিজান’ সমর্থন পেয়েছেন কি না, তা তার মনে পড়ে না।

ফাহাম আরও উল্লেখ করেন, মির্জা ফখরুল ‘মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ’ নন এবং বিএনপির ভেতরেও তার নিজস্ব কোনো গ্রুপিং নেই। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নির্বাচনকে দেশের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন ফাহাম আবদুস সালাম।