ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির ইরান যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসি রিমান্ডে আচারের টক-ঝাল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ১৫ হাজার টাকার দলিলে ২ লাখ টাকা ঘুষ, এরপর কমিশনও ২০ হাজার পরামর্শ নিতে গিয়ে জজের সঙ্গে প্রেম, তারপর বিয়ে, জজ হলেন চৈতি নিজেও আওয়ামী সন্ত্রাস মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা রাজপথে থাকবে ছাত্রদল: সহ-সভাপতি বাসিত দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, মন্ত্রীর মেয়েসহ ৪ জনের মৃত্যু সালাহউদ্দিন সাহেব সব মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে দায়িত্বশীল, শুধু নিজেরটা পারেন না: জামায়াত আমির

এসি বসছে ঢাবির হল রিডিংরুমে, সংস্কার হবে ক্যান্টিনও: ডাকসুর জিএস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪১৭ বার পড়া হয়েছে

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করতে আবাসিক হলগুলোর পাঠকক্ষে এক মাসের মধ্যেই এসি স্থাপন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে রিডিংরুমে এসি স্থাপন জরুরি। এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মাসের মধ্যেই এসি বসানো সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল না থাকলেও বিকল্প উপায়ে অর্থের ব্যবস্থা করে যেকোনো মূল্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

ডাকসুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কীভাবে ডাকসু কাজ করবে তা জানিয়ে ফরহাদ বলেন, সব হলের উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, রিডিংরুমে এসি না থাকা, মসজিদে অনুপযুক্ত পরিবেশ এবং ক্যান্টিনের মানহীনতা—এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি ছাত্রী হলে রান্নাবান্না সংক্রান্ত জটিলতা, নিরাপত্তা সমস্যা এবং ক্যাম্পাসের বাইরের তিনটি হলে সিকিউরিটি ও সাউন্ড নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার লক্ষ্যে ডাকসুর উদ্যোগ চলছে বলে জানান ফরহাদ। তিনি বলেন, পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করতে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে গবেষণা ফান্ড, শিক্ষার্থীদের রিসোর্সে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, একাডেমিক ই-মেইলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জার্নালে এক্সেস এবং সেন্ট্রাল লাইব্রেরি উন্নয়ন—এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে একটি অফিসিয়াল চিঠিও দেওয়া হয়েছে এবং আরও কয়েক দফা বৈঠকের মাধ্যমে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে তাদের উদ্যোগ তুলে ধরে ডাকসু জিএস বলেন, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে আমাদের বসা হয়েছে। এক্ষেত্রে মূল যে কাজ সেটি হলো টিএসসি কেন্দ্রিক সাউন্ড ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা। এছাড়া, বাইরের তিনটা হলে নিরাপত্তা কিভাবে বাড়ানো যায় এবং রিক্সা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ফিক্সড কিছু গাড়ি কিভাবে দেওয়া যায় সেটি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিজিটাল কমপ্লেইন বক্স চালু করবো। হল সংসদের সাথে আমাদের বসা হয়েছে। সেখানে আমরা আলোচনা করেছি কোন কাজগুলো হল সংসদ কাজ করবে এবং সেন্ট্রালি কি কি কাজ করা যায় তা নিয়ে কথা বলেছি।

ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে ফরহাদ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় ঘোষিত ১২ মাসের ৩৬টি সংস্কার আমরা ৬ মাসের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করবো। যাতে এর বাইরেও কিছু কাজ আমরা পরের ৬ মাসে করতে পারি। ডাকসুর অতীত অর্জনগুলোকে আমরা ছাপিয়ে যেতে পারবো, এ ব্যাপারে আমরা কনফিডেন্ট ইনশাআল্লাহ। আমাদের নির্বাচনের রেজাল্ট, শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের বিশ্বাস, আমাদের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস সবকিছু অতীতের রেকর্ডকে যেমন ছাপিয়ে গেছে, আমাদের কর্মকাণ্ডও-সামগ্রিক কাজও সবকিছুকে ছাপিয়ে যাবে- এটা আমরা ইনশাআল্লাহ আশাবাদী। এটা কম সময়ের মধ্যেই প্রমাণ দিতে চাই। শিক্ষার্থীদের প্রতি আস্থার জায়গাটা মজবুত করতে চাই।’

বিরোধী মতের স্বাধীনতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিরোধী মতকে বাধা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না, ডাকসুতে আমরা কাজ করবো সকল শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি হয়ে। সেক্ষেত্রে সকল মতের, সকল চিন্তার, সকল ক্যাটাগরির, সকল বয়সের এবং সকল জেন্ডারের মানুষকে একসাথে ধারণ করেই আমরা কাজ করবো, সবাইকে সাথে নিয়ে সবার প্রতিনিধি হয়ে কাজ করবো।’

ফরহাদ বলেন, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন পদ্ধতি ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং কেন্দ্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম কমানোর জন্য ভালো তদারকির ব্যবস্থা করার চিন্তা করছি। তিনি আরও বলেন, এখন রাজনৈতিক সহিংসতা হবে না বলে আমি বিশ্বাস করছি। ডাকসু যেহেতু কার্যকর, সবাই ডাকসুকে সহযোগিতা করবে। আশা করছি, দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের আশা করবে না কেউ। সকলেই আমাদের কো-অপারেট করবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি এবং আমাদের পক্ষ থেকেও সকল সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির

এসি বসছে ঢাবির হল রিডিংরুমে, সংস্কার হবে ক্যান্টিনও: ডাকসুর জিএস

আপডেট সময় ০৬:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করতে আবাসিক হলগুলোর পাঠকক্ষে এক মাসের মধ্যেই এসি স্থাপন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে রিডিংরুমে এসি স্থাপন জরুরি। এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মাসের মধ্যেই এসি বসানো সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল না থাকলেও বিকল্প উপায়ে অর্থের ব্যবস্থা করে যেকোনো মূল্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

ডাকসুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কীভাবে ডাকসু কাজ করবে তা জানিয়ে ফরহাদ বলেন, সব হলের উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, রিডিংরুমে এসি না থাকা, মসজিদে অনুপযুক্ত পরিবেশ এবং ক্যান্টিনের মানহীনতা—এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি ছাত্রী হলে রান্নাবান্না সংক্রান্ত জটিলতা, নিরাপত্তা সমস্যা এবং ক্যাম্পাসের বাইরের তিনটি হলে সিকিউরিটি ও সাউন্ড নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার লক্ষ্যে ডাকসুর উদ্যোগ চলছে বলে জানান ফরহাদ। তিনি বলেন, পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করতে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে গবেষণা ফান্ড, শিক্ষার্থীদের রিসোর্সে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, একাডেমিক ই-মেইলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জার্নালে এক্সেস এবং সেন্ট্রাল লাইব্রেরি উন্নয়ন—এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে একটি অফিসিয়াল চিঠিও দেওয়া হয়েছে এবং আরও কয়েক দফা বৈঠকের মাধ্যমে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে তাদের উদ্যোগ তুলে ধরে ডাকসু জিএস বলেন, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে আমাদের বসা হয়েছে। এক্ষেত্রে মূল যে কাজ সেটি হলো টিএসসি কেন্দ্রিক সাউন্ড ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা। এছাড়া, বাইরের তিনটা হলে নিরাপত্তা কিভাবে বাড়ানো যায় এবং রিক্সা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ফিক্সড কিছু গাড়ি কিভাবে দেওয়া যায় সেটি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিজিটাল কমপ্লেইন বক্স চালু করবো। হল সংসদের সাথে আমাদের বসা হয়েছে। সেখানে আমরা আলোচনা করেছি কোন কাজগুলো হল সংসদ কাজ করবে এবং সেন্ট্রালি কি কি কাজ করা যায় তা নিয়ে কথা বলেছি।

ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে ফরহাদ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় ঘোষিত ১২ মাসের ৩৬টি সংস্কার আমরা ৬ মাসের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করবো। যাতে এর বাইরেও কিছু কাজ আমরা পরের ৬ মাসে করতে পারি। ডাকসুর অতীত অর্জনগুলোকে আমরা ছাপিয়ে যেতে পারবো, এ ব্যাপারে আমরা কনফিডেন্ট ইনশাআল্লাহ। আমাদের নির্বাচনের রেজাল্ট, শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের বিশ্বাস, আমাদের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস সবকিছু অতীতের রেকর্ডকে যেমন ছাপিয়ে গেছে, আমাদের কর্মকাণ্ডও-সামগ্রিক কাজও সবকিছুকে ছাপিয়ে যাবে- এটা আমরা ইনশাআল্লাহ আশাবাদী। এটা কম সময়ের মধ্যেই প্রমাণ দিতে চাই। শিক্ষার্থীদের প্রতি আস্থার জায়গাটা মজবুত করতে চাই।’

বিরোধী মতের স্বাধীনতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিরোধী মতকে বাধা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না, ডাকসুতে আমরা কাজ করবো সকল শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি হয়ে। সেক্ষেত্রে সকল মতের, সকল চিন্তার, সকল ক্যাটাগরির, সকল বয়সের এবং সকল জেন্ডারের মানুষকে একসাথে ধারণ করেই আমরা কাজ করবো, সবাইকে সাথে নিয়ে সবার প্রতিনিধি হয়ে কাজ করবো।’

ফরহাদ বলেন, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন পদ্ধতি ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং কেন্দ্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম কমানোর জন্য ভালো তদারকির ব্যবস্থা করার চিন্তা করছি। তিনি আরও বলেন, এখন রাজনৈতিক সহিংসতা হবে না বলে আমি বিশ্বাস করছি। ডাকসু যেহেতু কার্যকর, সবাই ডাকসুকে সহযোগিতা করবে। আশা করছি, দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের আশা করবে না কেউ। সকলেই আমাদের কো-অপারেট করবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি এবং আমাদের পক্ষ থেকেও সকল সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে।