ঢাকা , শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
২৪ বছরে ১১২ এতিম মেয়ের বিয়ে দিলেন রুবেল গুলিস্তানে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত চাঁদার চাপ, নীরব জিম্মি দশায় হাজারো ব্যবসায়ী বড়লেখায় জব্দ ১৪ মহিষের ৯টি গায়েব, জিম্মানামায় স্বাক্ষরকারী ৩ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রাকসু ভিপি-জিএসকে ব্যঙ্গ করে রাবিতে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’ ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে প্রাণ গেল মায়ের বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে ব্যর্থ হলে সরকারও টিকবে না: শিবির সভাপতি কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে শনিবার ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিলো এলাকাবাসী ইরান যুদ্ধে কতজন মার্কিন সেনা হতাহত, জানালো পেন্টাগন যারা বাংলাদেশকে ধারণ করে না, তাদের মাধ্যমেই বড় বড় দুর্নীতি হয়: সাদিক কায়েম

বড়লেখায় জব্দ ১৪ মহিষের ৯টি গায়েব, জিম্মানামায় স্বাক্ষরকারী ৩ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিজিবি ও পুলিশের জব্দ করা ১৪টি ভারতীয় মহিষের মধ্যে ৯টি গায়েবের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জব্দ করা মহিষগুলো যাচাই-বাছাই ও পরবর্তী সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখার অঙ্গীকার করে জিম্মানামায় স্বাক্ষর করেছিলেন কাঁঠালতলী ইউনিয়ন বিএনপির তিন নেতা। তবে যৌথ অভিযানে গিয়ে ১৪টির মধ্যে মাত্র ৫টি মহিষের সন্ধান পাওয়া গেছে।

জিম্মানামায় স্বাক্ষরকারী তিনজন হলেন—কাঁঠালতলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমদ এবং প্রচার সম্পাদক হেলাল আহমেদ।

জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিজিবি ও বড়লেখা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে জব্দ করা ১৪টি ভারতীয় মহিষ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ওই তিনজনের জিম্মায় দেওয়া হয়। অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়, যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত মহিষগুলো তাদের হেফাজতে থাকবে।

কিন্তু পরবর্তীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, জিম্মায় থাকা ১৪টি মহিষের মধ্যে মাত্র ৫টি রয়েছে। বাকি ৯টি মহিষের কোনো সন্ধান মেলেনি।

এ ঘটনায় জিম্মাদার রফিকুল ইসলাম এক ভিডিও বক্তব্যে বলেন, যেহেতু মহিষগুলো তাদের জিম্মায় ছিল, তাই যেকোনো মূল্যে সেগুলো উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিজিবির কাছে হস্তান্তর করবেন। তিনি এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান এবং নিজেদের দায়বদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন।

তবে তার এই বক্তব্যকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠেছে—জিম্মানামার শর্ত অনুযায়ী মহিষগুলো তাদের হেফাজতে থাকার কথা থাকলেও কীভাবে ৯টি মহিষ নিখোঁজ হলো এবং সেগুলো কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বড়লেখা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গায়েব হওয়া ৯টি মহিষ উদ্ধারে অভিযান চলছে। জিম্মানামায় স্বাক্ষরকারী তিনজনের বিরুদ্ধে বিজিবি অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারি জব্দ তালিকায় থাকা মহিষ কীভাবে জিম্মা থেকে গায়েব হলো—এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ বছরে ১১২ এতিম মেয়ের বিয়ে দিলেন রুবেল

বড়লেখায় জব্দ ১৪ মহিষের ৯টি গায়েব, জিম্মানামায় স্বাক্ষরকারী ৩ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আপডেট সময় ০১:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিজিবি ও পুলিশের জব্দ করা ১৪টি ভারতীয় মহিষের মধ্যে ৯টি গায়েবের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জব্দ করা মহিষগুলো যাচাই-বাছাই ও পরবর্তী সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখার অঙ্গীকার করে জিম্মানামায় স্বাক্ষর করেছিলেন কাঁঠালতলী ইউনিয়ন বিএনপির তিন নেতা। তবে যৌথ অভিযানে গিয়ে ১৪টির মধ্যে মাত্র ৫টি মহিষের সন্ধান পাওয়া গেছে।

জিম্মানামায় স্বাক্ষরকারী তিনজন হলেন—কাঁঠালতলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমদ এবং প্রচার সম্পাদক হেলাল আহমেদ।

জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিজিবি ও বড়লেখা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে জব্দ করা ১৪টি ভারতীয় মহিষ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ওই তিনজনের জিম্মায় দেওয়া হয়। অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়, যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত মহিষগুলো তাদের হেফাজতে থাকবে।

কিন্তু পরবর্তীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, জিম্মায় থাকা ১৪টি মহিষের মধ্যে মাত্র ৫টি রয়েছে। বাকি ৯টি মহিষের কোনো সন্ধান মেলেনি।

এ ঘটনায় জিম্মাদার রফিকুল ইসলাম এক ভিডিও বক্তব্যে বলেন, যেহেতু মহিষগুলো তাদের জিম্মায় ছিল, তাই যেকোনো মূল্যে সেগুলো উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিজিবির কাছে হস্তান্তর করবেন। তিনি এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান এবং নিজেদের দায়বদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন।

তবে তার এই বক্তব্যকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠেছে—জিম্মানামার শর্ত অনুযায়ী মহিষগুলো তাদের হেফাজতে থাকার কথা থাকলেও কীভাবে ৯টি মহিষ নিখোঁজ হলো এবং সেগুলো কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বড়লেখা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গায়েব হওয়া ৯টি মহিষ উদ্ধারে অভিযান চলছে। জিম্মানামায় স্বাক্ষরকারী তিনজনের বিরুদ্ধে বিজিবি অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারি জব্দ তালিকায় থাকা মহিষ কীভাবে জিম্মা থেকে গায়েব হলো—এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।